কমলগঞ্জে হুমকির মুখে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য
jugantor
সংরক্ষিত বনে গ্যাস অনুসন্ধান
কমলগঞ্জে হুমকির মুখে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য

  কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি  

১৯ মার্চ ২০২৩, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রাজকান্দি সংরক্ষিত বনে গ্যাস অনুসন্ধানে ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে সেখানকার বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা যায়, চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (সিএনপিসি) দু’সপ্তাহ আগে রাজকান্দি বনে ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু করে। সংরক্ষিত বনে গ্যাস অনুসন্ধানে সিলেট বন বিভাগের অনাগ্রহ থাকলেও মন্ত্রণালয়ের শর্ত মেনে অনুমতি সাপেক্ষে এ ড্রিলিং চলছে।

এর আগে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলার ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে সার্ভে, ড্রিলিং ও রেকর্ডিং কাজ শুরু করে চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। পেট্রোবাংলার তত্ত্বাবধানে ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের নির্দেশনায় অ্যাকরেজ ব্লক-১৩ ও ১৪ এর অবমুক্ত এলাকায় ত্রি-মাত্রিক সিসমিক জরিপ গত জানুয়ারি পর্যন্ত চা বাগান, কৃষিজমি ও হাকালুকি হাওড় এলাকায় সম্পন্ন হয়। তখন জরিপ এলাকার আশপাশের বেশ কিছু বসতঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এখন রাজকান্দি বনে শর্তসাপেক্ষে জরিপ কাজের অনুমতি পায় ওই প্রতিষ্ঠান। তবে গ্যাস অনুসন্ধানে সংরক্ষিত বনে জরিপ কাজ জীববৈচিত্র্যের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজকান্দি রেঞ্জের আদমপুর বনবিট কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, এই বনে লাউয়াছড়ার চেয়েও বেশি বন্যপ্রাণী রয়েছে। বনাঞ্চলটি এখনো ঘন গাছ সন্নিবেশিত। বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় অনেক বন্যপ্রাণীও এখানে রয়েছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানে ভূগর্ভে সার্ভে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া আশপাশের ঘরবাড়ি ও অগভীর নলকূপের পানির স্তরের ক্ষতিরও কারণ হতে পারে। বনের মধ্যে বিস্ফোরণের কারণে বন্যপ্রাণী ও পাখিরা বাস্তুচ্যুত হবে।

বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ও নিরাপদ আবাসস্থলে গ্যাস অনুসন্ধানে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ মহসিন পারভেজ ও পরিবেশ সাংবাদিক নুরুল মোহাইমিন মিল্টন বলেন, রাজকান্দি বন বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। এখানে বিরল পশু ও পাখি রয়েছে। গ্যাস অনুসন্ধানে ভূগর্ভে বিস্ফোরণের কারণে বনের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজারস্থ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ভালুক, বনছাগলসহ বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীর উল্লেখযোগ্য আবাসস্থল রাজকান্দি বন। সেখানে ড্রিলিং ও শুটিং করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শর্তসাপেক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ত্রি-মাত্রিক সিসমিক জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানটি। মন্ত্রণালয়ের শর্তের মধ্যে রয়েছে-তুলনামূলকভাবে ফাঁকা গাছপালাবিহীন স্থানে ড্রিলিং করা, বনের ভেতরে যানবাহন প্রবেশ না করা, জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো কার্যক্রম তথা গাছপালা ও বনজ সম্পদের ক্ষতি না করা।

চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমাম হোসেন বলেন, আমরা বনের মধ্যে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ড্রিলিং করছি। মন্ত্রণালয়ের সব শর্ত মেনেই কাজ চলমান রয়েছে।

সংরক্ষিত বনে গ্যাস অনুসন্ধান

কমলগঞ্জে হুমকির মুখে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য

 কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 
১৯ মার্চ ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রাজকান্দি সংরক্ষিত বনে গ্যাস অনুসন্ধানে ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে সেখানকার বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা যায়, চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (সিএনপিসি) দু’সপ্তাহ আগে রাজকান্দি বনে ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু করে। সংরক্ষিত বনে গ্যাস অনুসন্ধানে সিলেট বন বিভাগের অনাগ্রহ থাকলেও মন্ত্রণালয়ের শর্ত মেনে অনুমতি সাপেক্ষে এ ড্রিলিং চলছে।

এর আগে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলার ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে সার্ভে, ড্রিলিং ও রেকর্ডিং কাজ শুরু করে চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। পেট্রোবাংলার তত্ত্বাবধানে ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের নির্দেশনায় অ্যাকরেজ ব্লক-১৩ ও ১৪ এর অবমুক্ত এলাকায় ত্রি-মাত্রিক সিসমিক জরিপ গত জানুয়ারি পর্যন্ত চা বাগান, কৃষিজমি ও হাকালুকি হাওড় এলাকায় সম্পন্ন হয়। তখন জরিপ এলাকার আশপাশের বেশ কিছু বসতঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এখন রাজকান্দি বনে শর্তসাপেক্ষে জরিপ কাজের অনুমতি পায় ওই প্রতিষ্ঠান। তবে গ্যাস অনুসন্ধানে সংরক্ষিত বনে জরিপ কাজ জীববৈচিত্র্যের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজকান্দি রেঞ্জের আদমপুর বনবিট কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, এই বনে লাউয়াছড়ার চেয়েও বেশি বন্যপ্রাণী রয়েছে। বনাঞ্চলটি এখনো ঘন গাছ সন্নিবেশিত। বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় অনেক বন্যপ্রাণীও এখানে রয়েছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানে ভূগর্ভে সার্ভে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া আশপাশের ঘরবাড়ি ও অগভীর নলকূপের পানির স্তরের ক্ষতিরও কারণ হতে পারে। বনের মধ্যে বিস্ফোরণের কারণে বন্যপ্রাণী ও পাখিরা বাস্তুচ্যুত হবে।

বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ও নিরাপদ আবাসস্থলে গ্যাস অনুসন্ধানে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ মহসিন পারভেজ ও পরিবেশ সাংবাদিক নুরুল মোহাইমিন মিল্টন বলেন, রাজকান্দি বন বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। এখানে বিরল পশু ও পাখি রয়েছে। গ্যাস অনুসন্ধানে ভূগর্ভে বিস্ফোরণের কারণে বনের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজারস্থ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ভালুক, বনছাগলসহ বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীর উল্লেখযোগ্য আবাসস্থল রাজকান্দি বন। সেখানে ড্রিলিং ও শুটিং করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শর্তসাপেক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ত্রি-মাত্রিক সিসমিক জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানটি। মন্ত্রণালয়ের শর্তের মধ্যে রয়েছে-তুলনামূলকভাবে ফাঁকা গাছপালাবিহীন স্থানে ড্রিলিং করা, বনের ভেতরে যানবাহন প্রবেশ না করা, জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো কার্যক্রম তথা গাছপালা ও বনজ সম্পদের ক্ষতি না করা।

চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমাম হোসেন বলেন, আমরা বনের মধ্যে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ড্রিলিং করছি। মন্ত্রণালয়ের সব শর্ত মেনেই কাজ চলমান রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন