ঝর্ণা হত্যায় সেলিমের জবানবন্দি

বাসায় বিশ্বকাপ খেলা দেখতে গিয়ে খুন

  সিরাজুল ইসলাম ০৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খুন

হোসনে আরা ওরফে ঝর্ণার (৩০) গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি থানার কদরা গ্রামে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে থাকতেন। যাত্রাবাড়ীর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান সেলিমের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল।

বিষয়টি জেনে যায় সেলিমের স্ত্রী জুলেখা। এ নিয়ে সেলিম-জুলেখার ১৩ বছরের সংসারে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এ কলহ থেকে মুক্তি পেতে একপর্যায়ে সেলিম জুলেখার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ঝর্ণাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা দু’জনই ঝর্ণার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে থাকে। এরপর চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ একসঙ্গে উপভোগ করার অজুহাতে ১৯ জুন ঝর্ণার বাসায় যায় সেলিম ও জুলেখা। পরে তারা দু’জন মিলে সেখানেই হত্যা করে ঝর্ণাকে।

পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, এ হত্যাকাণ্ডটি শুরু থেকেই ছিল ক্লু-হীন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা প্রথমে মামলা করতে রাজি হননি। অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের ৯ দিন পর মামলা করা হয়। মামলায় আসামি ছিল অজ্ঞাত। তবে এজাহারে ঝর্ণার স্বামী নবুকে সন্দেহ করা হয়। ঘাতকরা ছিল সন্দেহের বাইরে। মামলার ৫ দিনের মধ্যেই পুলিশ এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে। গ্রেফতার করে মূল ঘাতককে। ঘাতক সেলিমকে শনিবার আদালতে হাজির করা হলে সে বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত বর্ণনা দেয়।

ঘাতকের বর্ণনা অনুযায়ী, সেলিম ও তার স্ত্রী জুলেখা বিশ্বকাপ খেলা দেখার অজুহাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুয়ায়ী ১৯ জুন রাতে ঝর্ণার বাসায় বেড়াতে আসে। তাদের পেয়ে খোশগল্পে মেতে ওঠে ঝর্না। বাসায় তারা তিনজন ছাড়া কেউ ছিল না। বাসায় ফুটবল ম্যাচ উপভোগ ও গল্প-গুজবের একপর্যায়ে জুলেখা নিজ হাতে গ্লাসে করে দুধ খাওয়ায় ঝর্ণাকে। ওই দুধে কৌশলে মিশিয়ে দেয়া হয়েছিল ঘুমের ওষুধ। বিষয়টি ঝর্ণা টের পায়নি।

দুধ খাওয়ার পর ঝর্ণা ঘুমিয়ে পড়লে সেলিম ও জুলেখা মিলে মধ্য রাতে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করে। পরে মৃতদেহ কাঁথা দিয়ে ঢেকে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যায় সেলিম-জুলেখা। তারা বাসা থেকে যাওয়ার সময় টিভি বন্ধ করে গেলেও ফ্যান চলছিল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রেদওয়ান খান জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর থেকেই জুলেখাকে গ্রেফতারে জোরালো অভিযান চলছে। সে আত্মগোপনে আছে। যে কোনো সময় ধরা পড়তে পারে।

ঝর্ণার ভাই ও মামলার বাদী চাঁন মিয়া বলেন, প্রায় আট বছর আগে আমীর হোসেনের সঙ্গে আমার বোনকে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে দেয়া হয়। তাদের একটি ছেলেসন্তান হয়। জীবন নামে ওই ছেলের বয়স এখন ৬ বছর। কিছুদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আমীরের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বছর দেড়েক আগে তার সঙ্গে ঝর্ণার সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এরপর যাত্রাবাড়ীর সিটি পল্লী এলাকার নূর মিয়ার ছেলে নবুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় একসঙ্গে থাকত। ছয় মাস আগে তারা ১২৩/খ দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী মধ্যপাড়া খোকনের বাড়ির পঞ্চমতলায় সিঁড়ির ডান পাশের একটি রুম ভাড়া নেন। এরপর তারা সেখানেই থাকতে শুরু করেন। এদিকে বিয়ের পর থেকেই তাদের পারিবারিক কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে কলহ বেড়ে যাওয়ায় ওই বাসায় ঝর্ণা বেশিরভাগ সময় একাই থাকতেন। এদিকে পারিবারিক কলহের জের ধরে ঝর্ণা ও নবুর মধ্যে মামলাও চলছিল। এ নিয়ে ১৪ জুন নবু ও আমার বোনের মধ্যে ঝগড়াঝাটি ও মারামারি হয়। এজন্য আমাদের সন্দেহ ছিল এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নবুর হাত থাকতে পারে। আমরা কোনোভাবেই ভাবতে পারিনি যে, সেলিম ও জুলেখা মিলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।

চাঁন মিয়া বলেন, ১৬ জুন (ঈদের দিন) আমি আমার বোনকে দেখতে তার বাসায় গিয়েছিলাম। সে মামলা চালাতে আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চেয়েছিল। পরে ১৮ জুন বিকাশের মাধ্যমে আমি তাকে ওই টাকা দিই। ২৩ জুন রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি, রুমের ভেতর থেকে আমার বোনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার বোনের সামনের রুমের সাবলেট নুপুর আক্তারের কাছে জানতে পারি, নুপুর ঈদের ছুটিতে ১৬ জুন গ্রামের বাড়িতে যান। বাড়িতে যাওয়ার সময় তিনি ঝর্ণার সঙ্গে কথা বলে গেছেন। ২৩ জুন বিকাল ৪টার দিকে নুপুর বাসায় ফিরে দেখেন ঝর্ণার রুম বাইরে থেকে তালা লাগানো। ভেতর থেকে দুর্গন্ধ আসছে। তালা খুলে ভেতরে ঢুকে ঝর্ণাকে খাটের ওপর মৃত অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে জানালে বাড়িওয়ালা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter