রামগতিতে মামলার প্রস্তুতি

পুলিশ পরিচয়ে বেঁধে যুবককে পেটালেন ইউপি সদস্য

 রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি 
০৯ জুন ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে বিরোধের জেরে তার ভাই মো. সুমনকে (৩৫) পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।

নির্জন স্থানে নিয়ে বিবস্ত্র করে সুমনের শরীরে পিঁপড়া ছেড়ে দেওয়া হয়। একপর্যায় পানি চাইলে তার মুখে কাদা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি বমি করলে ফের তার মুখে লতাপাতা ঢুকিয়ে দেন পুলিশ পরিচয়দানকারীরা।

সুমন এভাবেই তার ওপর নির্যাতনের বিষয়টি বৃহস্পতিবার বিকালে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ভুক্তভোগী সুমন উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ রাজীবের বড় ভাই। তারা চরবাদাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আবুল বাশারের ছেলে এবং ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বচরসীতা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত আব্দুর রহিম উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও একই ইউনিয়নের যুবলীগের বিতর্কিত কমিটির সভাপতি।

পুলিশ ও সুমন জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে সুমনদের এলাকা পঞ্চায়েত বাড়ির জামে মসজিদের সামনের রাস্তায় দুটি সিএনজি অটোরিকশায় কয়েকজন লোক আসেন। একপর্যায়ে মামলা আছে বলে তারা সুমনকে তুলে নিয়ে যান।

মসজিদ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ভুলুয়া নদীর পাশে ফিরোজ মিয়ার প্রজেক্ট এলাকার নির্জন স্থানে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে তিনি সবাইকে চিনতে পারেন। সেখানে নিয়ে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয়। ওই লোকজন তার মোবাইল ফোন থেকেই ইউপি সদস্য আবদুর রহিমকে কল দেন। এরপর আবদুর রহিম আসার পরই তাকে বিবস্ত্র করার নির্দেশ দেন।

একপর্যায়ে তার শরীরে পিঁপড়া ছেড়ে দেন। এ সময় আবদুর রহিমসহ তার লোকজন সুমনকে এলোপাতাড়ি লাথি-ঘুসি মারতে থাকেন। প্রায় ৩ ঘণ্টা তাকে বিবস্ত্র করে রাখা হয়। পরে তার মুখে কাদা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি বমি করে দেন। এ সময় ফের তার মুখে লতাপাতা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পরে মুখমণ্ডলে কালো কাপড় বেঁধে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান আব্দুর রহিম ও তার লোকজন।

এরমধ্যে পরিবারের লোকজন থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে পুলিশের কেউই তাকে আটক করেনি। পরে পরিবার ও স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে ঘটনাস্থলে তাকে দেখতে পান। খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে পুলিশ তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নেওয়া হয়।

ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল মাজেদ রাজীব বলেন, রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে আব্দুর রহিমের সঙ্গে আমার বিরোধ রয়েছে। গত বছর ডিসেম্বরে তিনি আমার হাত ভেঙে দেন। এ ঘটনার মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে আব্দুর রহিম ৮ দিন পর জামিনে বের হন। এরপর তিনি বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দিয়েছেন। আমার সঙ্গে শত্রুতার জেরেই তিনি সুমনকে তুলে নিয়ে নির্যাতন চালিয়েছেন। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম বলেন, এ ঘটনার আমি কিছুই জানি না। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক অভিযোগ করা হচ্ছে। রাজীব তার ভাইকে দিয়ে নাটক সাজিয়ে আমাকে হয়রানি করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন