উত্তরা ক্লাব থেকে অবৈধ মদ উদ্ধার

গোয়েন্দা নজরে রাজধানীর সব অভিজাত ক্লাব

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম। ছবি: যুগান্তর

উত্তরা ক্লাব থেকে অবৈধ মদ উদ্ধারের পর রাজধানীর অন্য অভিজাত ক্লাবগুলোও নজরদারিতে বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এসব ক্লাবে অভিযান চালানো হতে পারে। উত্তরা ক্লাবের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান। বলেন, অভিজাত ক্লাবের বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা মদ বিক্রির অভিযোগ আছে।

এসব মদ-বিয়ার ডিপ্লোমেটিক বন্ড ও প্রিভিলেজ পারসন কোটায় শুল্কমুক্ত বা চোরাচালানের মাধ্যমেও আসতে পারে। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। মঙ্গলবার ঢাকার কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে শুল্ক গোয়েন্দার প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। উত্তরা ক্লাবে অভিযান এবং বিগত দিনের শুল্ক গোয়েন্দা কার্যক্রম তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলন।

ড. সহিদুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এ নীতির আওতায় শুল্ক গোয়েন্দা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। চাপের মুখে নতিস্বীকার করা হবে না। আগে কোনো সময় এসব ক্লাবে অভিযান চালানো হয়নি।

আবার এসব ক্লাবে অভিযান চালানো দুরূহ ব্যাপারও। ফলে খোঁজখবর নিয়েই উত্তরা ক্লাবে অভিযান চালানো হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যে অন্য অভিজাত ক্লাবেও অভিযান চালানো হবে। এক প্রশ্নের জবাবে সহিদুল বলেন, উত্তরা ক্লাবের বারের লাইসেন্স আছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে মদ আমদানির তথ্য-প্রমাণ মেলেনি। ১ হাজার ৩৫০ সদস্যের এ ক্লাবের অবৈধ বেচাকেনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, অভিজাত ক্লাব বা ডিপ্লোমেটিক বন্ডের ওয়্যার হাউসে অডিটের দায়িত্ব শুল্ক গোয়েন্দার নয়। এটি শুল্ক গোয়েন্দা রুটিন কাজ বা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। বন্ড কমিশনারেট থেকে তাদের আমদানি প্রাপ্যতা দেয়া হয়। বন্ড কমিশনারেটই তাদের অডিট করে। শুধু শুল্ক ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দা অভিযান চালাতে পারে।

সোমবার অভিজাত শ্রেণীর বিনোদন কেন্দ্র উত্তরা ক্লাবে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকার ৩ হাজার ৪৫ বোতল হুইস্কি, ওয়াইন, ভোদকা এবং ২ হাজার ৫০০ ক্যান বিদেশি বিয়ার আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা। মদ-বিয়ার আমদানিতে সাড়ে ৪শ’ শতাংশ শুল্ক-কর রয়েছে। গত ৩ বছরে সাফল্য তুলে ধরে সহিদুল বলেন, সম্প্রতি শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা যুক্তরাজ্যভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা ডিএফআইডির ১১টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

গুলশানে এক ব্যক্তি চিঠি লিখে বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি রেখে গেছেন। অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে যারা কম মূল্যে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করছেন শুল্ক গোয়েন্দা তাদের মধ্যে অপরাধ ভীতি তৈরি করতে পারায় এটি সম্ভব হয়েছে। যাদের কাছে শুল্ক সুবিধায় আনা গাড়ি আছে, সেগুলোর শুল্ক-কর পরিশোধের আহ্বান জানান তিনি।

টাকা পাচার প্রসঙ্গে বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য। একাধিক কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক এ কাজে নিয়োজিত থাকতে হয়। ইতিমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানের টাকা পাচারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

মাসটেক্সের ১২০ কোটি টাকা, ক্রিসেন্ট লেদারের এক হাজার ১০৪ কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। কাজের সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ টেনে সহিদুল বলেন, সারা দেশে ৩০০ জনবল দিয়ে কাজ করছে শুল্ক গোয়েন্দা। এটি দুরূহ ব্যাপার। আরও জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট প্রয়োজন। এনবিআরের কাছে জনবল চাওয়া হয়েছে। জনবল পেলে কাজে গতি বাড়বে। এ সময় শুল্ক গোয়েন্দার অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী মো. জিয়াউদ্দিনসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।