নিষ্ক্রিয় জামায়াত, বিএনপি নেতাদের ক্ষোভ

ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে : গয়েশ্বর

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী ব্যুরো ২১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি জামায়াত
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে মাঠে নামেননি জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ জন্য তিনি সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকাকে সমানভাবে দায়ী করেছেন।

বৃহস্পতিবার নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় গণসংযোগের সময় কয়েকটি পথসভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জামায়াত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক হলেও রাজশাহীতে ধানের শীষের প্রচারে তাদের নেতাকর্মীরা এখনও অনুপস্থিত। প্রশাসনের ভয়ে তারা প্রচারণায় নামতে পারছেন না। তবে তিনি মনে করেন এ ক্ষেত্রে ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না।

গয়েশ্বর রায় আরও বলেন, জামায়াত-শিবির, হামলা-মামলার ভয়ে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় নামতে পারছে না, এটা যেমন ঠিক তেমনি আবার ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের খবরও আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা জেনেছি রাজশাহীতে জামায়াতের নেতাকর্মীদের কাছে টানার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। এতে দুইভাবে তাদের লাভ হবে ভেবেছে। কিন্তু তাতেও বিএনপি প্রার্থীর পাত্রেই জামায়াতের ভোট পড়বে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন তিনি।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, জামায়াত ভয়ে মাঠে নামছে না। কারণ প্রশাসন থেকে তাদের ব্যাপারে কঠোর মনোভাব দেখানো হচ্ছে। এতে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর ভোটে প্রভাব ফেলবে কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মিনু বলেন, জামায়াত তো কোনো দিন নৌকাতে ভোট দেবে না। সুতরাং তাদের ভোট ধানের শীষেই পড়বে। তার মতে, জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে নেই কিন্তু ভেতরে ভেতরে কাজ করছে।

বিএনপি নেতারা জামায়াতের নিষ্ক্রিয়তার ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ভিন্ন কথা। রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর আবু সেলিম বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থীর কারণে প্রস্তুতি নিয়েও জামায়াত রাজশাহীতে মেয়র পদে কোনো প্রার্থী দেয়নি।

তবে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে জামায়াতের ১৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থনে বিএনপিকে তাদের কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়েছিল কিন্তু তারা তা করেনি। এজন্য জামায়াতের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তেই দলের নেতাকর্মীরা বিএনপির মেয়র প্রার্থীর সমর্থনে প্রকাশ্যে ভোটের মাঠে নামছেন না। তবে কেউ কেউ ভেতরে ভেতরে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

জামায়াতের ভিন্ন দাবির প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের বলেন, কিছু দাবি, কিছু চাহিদা তো সবারই আছে। তবে এখন তো ছোট স্বার্থের কারণে বৃহৎ স্বার্থ বিসর্জন দিলে জামায়াতকে ভবিষ্যতে আরও ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। সুতরাং জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের উচিত রাজশাহীতে মেয়র প্রার্থী বুলবুলের জন্য প্রকাশ্যে মাঠে নেমে পড়া। নগর বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ নেতা বলেন, রাজশাহীতে জামায়াতের ৩০ থেকে ৪০ হাজার ভোট রয়েছে। এই ভোট যেকোনো প্রার্থীর জয় পরাজয়ের জন্য বড় ফ্যাক্টর।

এদিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, ২০১৩ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এক লাখ ৩১ হাজার ৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন পেয়েছিলেন ৮৩ হাজার ৭২৬ ভোট। এই নির্বাচনে জামায়াত কোনো প্রার্থী না দেয়ায় তাদের সব ভোটই বুলবুল পেয়েছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

এর আগে ২০০৮ সালের আগস্টের নির্বাচনে নাগরিক কমিটির প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন তালা প্রতীকে ৯৮ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের মেয়র প্রার্থী আনারস প্রতীকে ৭৪ হাজার ৫৫০ ভোট পান। তবে ২০০৮ সালে মেয়র পদে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে ভোট করেছিলেন।

এক তথ্য পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ২০০৮ সালে লিটন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বুলবুলের চেয়ে ২৩ হাজার ৮১০ ভোট বেশি পেয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৩ সালে বুলবুল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লিটনের চেয়ে ৪৭ হাজার ৩৩২ ভোট বেশি পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে বুলবুলের ভোট বাড়ে ৫৬ হাজার ৫০৮টি। অন্যদিকে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে লিটনের ভোট কমে ১৪ হাজার ৬৩৪টি।

২০১৩ সালে বিপুল ভোটে বুলবুলের বিজয়ের পেছনের কারণ কী ছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু বলেন, ২০০৮ সালে মিনু ভাই জেলে ছিলেন। কিন্তু ২০১৩ সালে তিনি মাঠে নেমে বুলবুল ভাইয়ের ভোট করেছেন।রাজশাহীতে মিজানুর রহমান মিনু অবশ্যই একটি বড় ফ্যাক্টর

জামায়াতের সমর্থন দেয়া না দেয়া প্রসঙ্গে মন্টু আরও বলেন, জামায়াত রাজশাহীতে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামেনি। আবার এমনও শোনা যাচ্ছে, নগরীর কোথাও কোথাও জামায়াতের লোকেরা নৌকার পক্ষে কাজ করছেন। এমনটা বাস্তবে ঘটে থাকলে জোট ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন এই বিএনপি নেতা।

অন্যদিকে জামায়াতের লোকেরা ভেতরে ভেতরে নৌকার পক্ষে মাঠে নেমেছেন, বিএনপি নেতাদের এমন দাবি প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার উপ-কমিটির সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ লেমন যুগান্তরকে বলেন, রাজশাহীতে এবার নির্বাচন হচ্ছে উন্নয়ন ইস্যুকে সামনে রেখে। আমরা মনে করি উন্নয়ন প্রশ্নে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নৌকার পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে সেটা শুধু দলীয় ভোটারই নয়, দলমত নির্বিশেষে এবার মানুষ নৌকার পক্ষে কাজ করছেন। উন্নয়নকে ভালোবেসে তারা এবার নৌকাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন বলে আশা করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter