ভোটের উচ্ছ্বাসে আ’লীগ-জাতীয় পার্টি, চুপচাপ বিএনপি

  মির্জা জাকির, চাঁদপুর থেকে ২৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁদপুর-২
ছবি: সংগৃহীত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চাঁদপুর-২ (মতলব দক্ষিণ ও উত্তর) আসনেও লেগেছে ভোটের হাওয়া। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে এ আসনে। মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে চাঁদপুর-২ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা রয়েছেন দৌড়-ঝাঁপের ওপর।

ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে নানা সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আগ্রহ নিয়েই হাজির হচ্ছেন। তবে নির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও বিএনপিকে কিছুটা চুপচাপ দেখা যাচ্ছে।

চাঁদপুর-২ আসনের বর্তমান এমপি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর-বিক্রম। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলের শক্ত প্রার্থী। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিবেচনায় অন্যদের চেয়ে তিনি এগিয়ে আছেন বলে অনেকেই মনে করছেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে চাঁদপুর-২ ও ৩ আসনকে পুনঃসংস্কার করে মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলাকে চাঁদপুর-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর আগে ১৯৭৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মতলব উত্তর নিয়ে চাঁদপুর-২ আসন ছিল। এ আসনে বিএনপির প্রয়াত নুরুল হুদা ৩ বার এমপি হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এমপি হয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী হন। একই সময়ে চাঁদপুর-৩ (মতলব দক্ষিণ) আসনে বিএনপির আলম খান ১ বার ও জিএম ফজলু ২ দফা এমপি হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে চাঁদপুর-২ আসনে আ’লীগ জয়ী হয় এবং এমপি হন এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এম. রফিকুল ইসলাম। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তবে সব কিছু ছাপিয়ে এখন আলোচনায় ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি নিয়মিত এলাকা চষে বেড়ালেও বিএনপিতে তেমন একটা নির্বাচনী আমেজ নেই। আ’লীগের পক্ষে বেশ কয়েকজনকে সক্রিয় দেখা যায়।

মতলববাসীর বহুদিনের প্রতীক্ষিত মতলব সেতু নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরীর। এছাড়া মেঘনার চরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার প্রচেষ্টাকেও সাধারণ মানুষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মানবপ্রাচীর হয়ে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করার বিষয়টিও অনেকের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে।

মোফাজ্জল হোসেন ছাড়াও আ’লীগের মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন সাবেক এমপি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এম রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নূরুল আমিন রুহুল। নূরুল আমিন জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলীয় একটি গ্রুপের ষড়যন্ত্রের কারণে হেরে যাওয়ার দাবি করেছেন।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া আগে থেকেই সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগেরও নেতৃত্ব দিয়েছি। আন্দোলন-সংগ্রামে আমার ভূমিকার কারণেই তৃণমূল আমাকে মূল্যায়ন করবে বলে আশা করছি। আ’লীগের অপর প্রার্থী জাকিয়া সুলতানা শেফালী কেন্দ্রীয় যুবলীগের মহিলা সম্পাদিকা ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য।

ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে ১/১১-এর মতো দুঃসময়ে দলের জন্যে নিরলসভাবে কাজ করা এ নেত্রী আগামী নির্বাচনে এ আসনের একমাত্র নারী প্রার্থী। একটি সূত্র বলছেন, কোনো কারণে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তার ছেলে সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দীপু প্রার্থী হতে পারেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম পাটোওয়ারী খোকাও নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছেন।

সম্প্রতি খোকার কর্মীদের সঙ্গে মন্ত্রীপুত্র সাজেদুল হোসেন দিপু চৌধুরীর কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। আ’লীগের জনপ্রিয় নেতা প্রয়াত শফিকুর রহমান পাটোওয়ারীর ছোটভাই খোকা পাটওয়ারী নিজের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনের জন্যে শতভাগ প্রস্তুতি আমার রয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখে অনেক আগে থেকেই আমি এলাকার তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।

এদিকে নির্বাচনী মাঠে নিশ্চুপ থাকলে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির বিবদমান দু’গ্র“প থেকেই অর্ধডজন প্রার্থী মনোনয়নের পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের দারস্থ হচ্ছেন বলে জানা গেছে। নানামুখী চাপে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থানও সেভাবে শক্ত নয় এলাকায়। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. জালাল উদ্দিন দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিলেও নির্বাচিত হতে পারেননি।

বিশেষ করে সাবেক এমপি নুরুল হুদার মৃত্যুতে বিএনপি অনেকটাই অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে এ আসনে। তবে সরকারি দলের নানা বাধা পেরিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যারা ইতিমধ্যেই জানান দিচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- দলের কেন্দ্রীয় নেতা ড. জালাল উদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ শুক্কুর পাটোওয়ারী, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মোস্তফা খান সফরী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার ওবায়েদুর রহমান টিপু ও সাবেক সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী মরহুম নূরুল হুদার ছেলে তানভীর হুদার নাম শোনা যাচ্ছে। ত

বে বিভক্ত বিএনপিতে কমিটি সংক্রান্ত বিরোধে বাদ পড়া নেতাদের মধ্যে রয়েছে চরম ক্ষোভ। বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ শুক্কুর পাটোওয়ারী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

যুগান্তরকে তিনি বলেন, ছাত্রদল থেকে শুরু করে বিএনপির তৃণমূল থেকে রাজনীতি করেই এ পর্যায়ে এসেছি। বিএনপির দুঃসময়েও সর্বাধিক ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। এলাকায় অনেক কাজ করেছি।

সব সম্প্রদায়ের মানুষ দলের বাইরে গিয়েও আমাকে ভোট দিয়েছেন। নেতাদের মধ্যে বিভক্তি থাকলেও দলের ভোটার ও সমর্থকরা ঠিক আছেন। তিনি বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হলে শতভাগ প্রস্তুতি রয়েছে।

তিনি বলেন, দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে মাঝে মাঝে এলাকায় আসলেও হামলা-মামলার ভয়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে না পারার অভিযোগ রয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচনী আমেজ বিএনপির মধ্যে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে চাঁদপুর-২ আসনে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এমরান হোসেন মিয়া। অনেক আগে থেকেই তিনি গণসংযোগের পাশাপাশি দলীয় কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন।

মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ নিয়ে চাঁদপুর-২ আসন হলেও উপজেলাভিত্তিক বিএনপি-আওয়ামী লীগের ভোটার সংখ্যা একরকম নয়। বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে মতলব উত্তরে আ’লীগের ভোট বেশি। আবার দক্ষিণ উপজেলায় বিএনপির ভোট বেশি।

আ’লীগ প্রার্থীদের মধ্যে শুধু এয়ার ভাইস মার্শার (অব.) এম. রফিকুল ইসলামের বাড়ি দক্ষিণ উপজেলায়। বিএনপির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ শুক্কুর পাটোয়ারী ছাড়া বাকিদের বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলায়। বেশির ভাগ সময় মতলব উত্তর উপজেলার প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন এ আসনে।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter