ভোট কেন্দ্র ও থানা ঘেরাওয়ের হুমকি বুলবুলের

  রাজশাহী ব্যুরো ২৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল
সাংবাদিকদের মুখোমুখি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। ছবি-যুগান্তর

নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে ভোট কেন্দ্র ও থানা ঘেরাওয়ের হুমকি দিয়েছেন রাজশাহীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এমনকি নির্বাচন কমিশন অফিসের ইট খুলে নেয়ারও হুমকি দেন তিনি।

বুলবুল বলেন, ৩০ তারিখের আগে কোনো নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হবে। শনিবার নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে এমন হুংকার দেন বিএনপির এই প্রার্থী।

সাংবাদিকদের বুলবুল বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো অনিয়ম করার চেষ্টা করলে আমরাও ভোট কেন্দ্র ঘেরাও করব। নির্বাচন কমিশনকে সেদিন কৈফিয়ত দিতে হবে। ঘোরাও কর্মসূচি হবে। নির্বাচন বাদ দিয়ে সেদিন ঘেরাও কর্মসূচি হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের একটি অঙ্গসংগঠন। পুলিশ প্রশাসন আওয়ামী লীগের একটি অঙ্গসংগঠন। ডিবি পুলিশ মনে হচ্ছে পুলিশের সদস্য নয়, রাষ্ট্রের কর্মচারী নয়।

তারা আওয়ামী লীগের দালালি করতে এখনে এসেছে। ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা আমাদের মহিলা কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে এসেছে।

এছাড়াও আমাদের চার কর্মীর বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে এসেছে। ১০, ১৮, ১৯ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের হুমকি দিয়েছে। আমরা বলতে চাই, কোন সাহসে তারা নেতাকর্মীদের হুমকি দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘৩০ তারিখের আগে যদি বিএনপি বা জোটের নেতাকর্মীদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে আমরা ২০ দলীয় ঐক্যজোট যে থানায় নেয়া হবে, সে থানা ঘেরাও করব।’

ঢাকা থেকে সিল দিয়ে ব্যালোট পেপার রাজশাহীতে আনা হচ্ছে- এমন অভিযোগ করে বুলবুল বলেন, ‘৩ লাখ ১৮ হাজারের বেশি ব্যালেট যদি এখনে পাওয়া যায় তবে নির্বাচন অফিসের ইট থাকবে কি না আমরা বলতে পারব না।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের যদি লজ্জা থাকে, তবে পুলিশ প্রশাসনকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হোক।’

বুলবুল আরও বলেন, আমরা দেখছি, রাজশাহীতে ১০টি কালো মাইক্রোবাস ঘুরছে। যারা খুলনা ও গাজীপুরে ভোট ডাকাতির মূল হোতা ছিল। তারা এবার এখানে আসছে, খালেক সাহেবের (খুলনার মেয়র) ও জাহাঙ্গীরের (গাজীপুরের মেয়র) নির্দেশে।

সে কারণে বলতে চাই, এই কালো গাড়িগুলো এখনই ধরা উচিত বা শহর থেকে বিদায় করা উচিত। রাজশাহীর ভোটে যদি নিরপেক্ষ অবস্থান তৈরি না হয়, তাহলে রাজশাহীতে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের যে ভূমিকা থাকবে, সেটি কিন্তু অকল্পনীয়।’

তিনি বলেন, ‘এটুকু বলতে চাই, রাজশাহীর পরিবেশ শান্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রাখার জন্য আমরা সেনাবাহিনী নিয়োগ চেয়েছি। এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কোনো উত্তর দেয়নি।’

বুলবুল বলেন, ‘এখনকার শান্তিপ্রিয় মানুষ ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। রাজশাহীর পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার স্বার্থে এখনও সেনাবাহিনী নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। কারণ তিনি যেন রাজশাহীর নির্বাচন দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি মডেল তৈরি করতে পারেন।’

শনিবার সকালে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নগরীর জেলগেট থেকে গণসংযোগ শুরু করে সিপাহিপাড়া, ফায়ার সার্ভিসের মোড়, সাহেব বাজার এলাকার মনিচত্বর, কাঁচাবাজার, মাছবাজার, মাস্টারপাড়া পাইকারি বাজার ও সোনাদীঘির মোড়ে যান।

গণসংযোগে তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, পুঠিয়া-দুর্গাপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, বোয়ালিয়া থানা বিএনপি সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু, তানোর পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান, মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, জেলা যুবদলের সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সমাপ্ত, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রেজা রিপন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউজ্জামন পরাগ, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি, যুগ্ম সাম্পাদক আকবর আলী জ্যাকি, নাহিন আহম্মেদ প্রমুখ।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter