আমার কথা এখন বহু কণ্ঠে: ইলিয়াস কাঞ্চন

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৫ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইলিয়াস কাঞ্চন
ইলিয়াস কাঞ্চন। ফাইল ছবি

আমাদের দেশের সড়ক-মহাসড়কে যে বিশৃঙ্খলা চলছে, এ বিষয়ে এখন অনেকেই কথা বলছেন; এটি ইতিবাচক দিক। আমি গত দু’যুগ ধরে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আছি। নিরাপদ সড়ক আমরা সবাই চাই; অথচ কী আশ্চর্য আমাদের এ দাবি বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ সোচ্চার, তা দৃশ্যমান নয়। নিরাপদ সড়কের ব্যাপারে আমি বছরের পর বছর যে কথাগুলো বলেছিলাম, আমার সেই কথাগুলো এখন বহু কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে। আমি আশা করি, আমাদের সবার নিরাপত্তার স্বার্থে সড়ককে নিরাপদ করার কাজগুলো শুরু হবে।

কয়েকদিন আগে দুটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়া এবং আরও বেশ ক’জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে হতাহত শিক্ষার্থীদের সহপাঠীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। এই শিশু শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি অনেক গুণীজন ইতিমধ্যে সহমত পোষণ করেছেন।

রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ঘোষণা করা হয়েছে সড়ককে নিরাপদ করার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সব দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের সব দাবি পূরণে কিছুটা সময় লাগবে- এটাই স্বাভাবিক। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের এখন ক্লাসে ফিরে যাওয়া উচিত। তবে কি কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আশ্বস্ত হতে পারছে না?

আমি আশা করব, সব মন্ত্রণালয় থেকে নোটিশ জারি করে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের সব যানবাহন ত্রুটিমুক্ত করার ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। নোটিশ জারির পর নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের সব যানবাহন ত্রুটিমুক্ত করা হলে এক সময় দেখা যাবে, এ বিষয়ে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

আমরা ইতিমধ্যে জানতে পেয়েছি, নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক নেতা শামীম ওসমান তার এলাকার সব যানবাহন ত্রুটিমুক্ত করতে এবং সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে ভূমিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একইভাবে সোচ্চার হলে সড়ক নিরাপদ করার গুরুত্বপূর্ণ কাজে অল্প সময়েই দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ করা যাবে। দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি সড়কে চলার পথে আইন অমান্য করলে এ নিয়ে অনেক আলোচনা হবে, এটাই স্বাভাবিক। এমন দৃষ্টান্ত কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আমরা লক্ষ করছি, পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে অনেক শিশু। এ খাতে শিশুশ্রম বন্ধ করার পাশাপাশি সেসব সংশ্লিষ্ট শিশু যাতে কোনো কর্মমুখী শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, তার জন্যও যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক চালকের লাইসেন্স নেই; আবার বিপুলসংখ্যক বাহনের ফিটনেসও নেই। বছরের পর বছর এসব তথ্য আমরা শুনে আসছি। এ সমস্যার সমাধানে কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। বস্তুত এসব কারণেই বর্তমানে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিশু শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছে না।

দূরপাল্লার যানবাহন এবং ভারি যানবাহন চলাচল বিষয়ে বেশ কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী যেসব দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তার নির্দেশনা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরলে তারা বুঝতে পারবে, সড়ক নিরাপদ করার বিষয়ে কাজ চলছে; ধারাবাহিকভাবে একে একে সব পদক্ষেপ নেয়া হবে। এসব পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্যও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। সারা দেশের সব সড়ক পুরোপুরি নিরাপদ করতে যা যা করণীয় তা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইলিয়াস কাঞ্চন : চলচ্চিত্র অভিনেতা, চেয়ারম্যান : নিরাপদ সড়ক চাই

ঘটনাপ্রবাহ : বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter