মোংলা বন্দরে নিলাম

রিকন্ডিশনড গাড়ির ক্রেতা মিলছে না

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আমির হোসেন আমু, মোংলা

মোংলা বন্দরে রিকন্ডিশনড গাড়ির নিলাম দরপত্রে ক্রেতাদের আশানুরূপ সাড়া মিলছে না। দুই মাসে দুই দফায় সহস াধিক গাড়ির নিলাম ডাকা হয়। কিন্তু মাত্র ৩৩টির জন্য দরপত্র জমা পড়ে। প্রথম দফায় ৪৬২টি গাড়ির বিপরীতে ১৪টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৫৯১টি গাড়ির বিপরীতে ১৯টি দরপত্র জমা পড়ে। এদিকে চলতি মাসের শেষদিকে আরও ৬০০টি গাড়ি নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কেউ গাড়ি পায়নি। আবার নিলাম কার্যকর না হওয়ায় পূরণ হচ্ছে না কাস্টমসের শুল্ক ও রাজস্ব আদায়ের টার্গেট। এদিকে গাড়ি নিলামের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও এটাকে শুল্ক আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখছে কাস্টমস। নিলামে ওঠা গাড়ি ছাড় করিয়ে নেয়ার সুযোগ আমদানিকারকদের রয়েছে। অবশ্য আমদানি করা গাড়ি অনেকে ছাড় করিয়ে নিচ্ছেন।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক অফিসার মিজানুর রহমান জানান, এ বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০০ থেকে ২৫০টি। বিভিন্ন দেশ থেকে নানা ব্র্যান্ডের রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানি করে প্রতিষ্ঠানগুলো। আমদানি করা গাড়িগুলো বন্দরের জেটি, শেড ও ইয়ার্ডে ফেলে রাখা হয়। এসব স্থানে আমদানিকারকদের কমবেশি গাড়ি রয়েছে।

কাস্টমসের নিয়োগ করা নিলামকারী প্রতিষ্ঠান এক্সপো ট্রেডার্স জানায়, নিয়ম অনুযায়ী আমদানি করা গাড়ি বন্দরে পৌঁছার এক মাসের মধ্যে ছাড় করিয়ে নিতে হয়। আর এই সময়ের মধ্যে না নিলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তা নিলামে তুলতে পারে।

প্রথম দফায় ৪৬২টি গাড়ির জন্য ১৪ জুন দরপত্র আহ্বান করে এক্সপো ট্রেডার্স। দরপত্র দাখিলের শেষদিনে ২৮ জুন মাত্র ১৪টি দরপত্র জমা পড়ে। দ্বিতীয় দফায় ৫৯১টি গাড়ির জন্য ২৯ জুলাই দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে মাত্র ১৯টি দরপত্র জমা পড়ে। দরপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক্সপো ট্রেডাসের কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির খুলনার ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রথম দফার নিলামে একটি নিশান সিভিলিয়ন বাসের জন্য ১৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, দুটি কোস্টার বাসের জন্য দুটি দরপত্রে ২৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা ও ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়। টয়োটা নোয়া গাড়ির জন্য ১৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ও ১৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকার দুটি দরপত্র জমা পড়ে।

এ ছাড়া করলা ফিল্ডার গাড়ির বিপরীতে দরপত্র জমা পড়ে ৩০ হাজার টাকা, করলা এক্সিও, টয়োটা প্রিমিও, টয়োটা মার্ক এক্স ও টয়োটা হাইএস গাড়ির প্রতিটির জন্য ৫০ হাজার টাকার দরপত্র জমা পড়ে। টয়োটা লেক্সাস এনএক্স ও টয়োটা হাইএস সুপার জিএলের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে দরপত্র জমা পড়ে। দুটি টয়োটা ভিটজ, টয়োটা টয়োএস পিকআপ ও টয়োটা প্রিমিও গাড়ির বিপরীতে দরপত্র জমা পড়ে ৫ লাখ ১৫ হাজার, ৭ লাখ ২৫ হাজার, ২ লাখ ও ৫ লাখ টাকার। জমা পড়া ১৪টি দরপত্রে বুক ভ্যালুয়েশনও পূরণ না হওয়ায় নিলামে অংশগ্রহণকারীদের কেউ গাড়ি পায়নি।

দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, নিলামে অংশগ্রহণকারীরা ইচ্ছেমতো দর প্রস্তাব করেছেন। আর এই দর গাড়ির বাজার মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ভ্যালুয়েশনের ৩০ শতাংশ দর প্রস্তাব করেও গ্রাহক গাড়ি পেতে পারে। তিনি বলেন, নিলামে অংশগ্রহণ করলেই যে গাড়ি পাওয়া যাবে এমন নয়। কাস্টমস শুল্ক ও রাজস্ব টার্গেট বা ভ্যালুয়েশনের দিকে নজর রাখতে হচ্ছে। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নিলাম প্রক্রিয়ায় জমা পড়া দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতে পাঠানো হয়।

রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানিকারক মেসার্স স্টারপাত শিপিংয়ের মালিক ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক ঋণ, এলসি খোলাসহ নানা ঝক্কি-ঝামেলা মিটিয়ে গাড়ি আমদানি করা হয়। এরপর আমদানি করা গাড়ি ছাড় করাতে দেরিও হয়ে যায়। আর একটু দেরি হলেই প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী শিপিং এজেন্ট এইচএম দুলাল জানান, কাস্টমসের নিলাম প্রক্রিয়ায় ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে। এছাড়া প্রচারের অভাবে আগ্রহীরা নিলামের খবর পায় না। অভিযোগ করে তিনি বলেন, নামমাত্র নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাস্টমসের একটি চক্র স্বার্থান্বেষী গাড়ি আমদানিকারকদের স্বার্থ রক্ষা করছে। প্রচার যথাযথ হলে আশানুরূপ ক্রেতার সাড়া মিলবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গাড়ি নিলাম প্রক্রিয়াকারী প্রতিষ্ঠানের একটি সূত্র জানায়, গাড়ি আমদানির পর নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে ছাড় ও শুল্ক পরিশোধে বিলম্ব করে আমদানিকারকরা। গাড়ির জট ও শুল্ক জটিলতা দূর করতে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা গাড়ি নিলামে তোলা হয়। গাড়ি ছাড় করিয়ে নিতে আমদানিকারকের ওপর চাপ প্রয়োগ করাই নিলামের মূল উদ্দেশ্য।