জনকের কাছে বাঙালির ঋণ অপরিশোধ্য

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ছবি: সংগৃহীত

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখনও বিশ্বাস করতেন না যে, কোনো বাঙালি তাকে হত্যা করবে। অনেকেই তাকে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তিনি আমলে নেননি। কিন্তু তার সেই বিশ্বাসকে ভূলুণ্ঠিত করে কিছু কুলাঙ্গার বাঙালিই তাকে হত্যা করে। হত্যার পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল।

কিন্তু হত্যার হাতগুলো ছিল বাঙালি কুলাঙ্গারদের। ৪৩ বছর আগে ১৫ আগস্ট কুচক্রী মহল জাতির জনককে নির্মমভাবে হত্যা করে। আগামীকাল সেই কালো দিন।

ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, জনগণকে ভালোবাসাই তার বড় শক্তি। আর দুর্বলতা হল তিনি তার জনগণকে অতিমাত্রায় ভালোবাসেন। জনগণের প্রতি ভালোবাসা, গরিব-দুঃখী মানুষকে ভালোবাসাই তাকে টুঙ্গিপাড়ার খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু বানিয়েছিল।

আর সেই ভালোবাসা থেকে সৃষ্ট অন্ধবিশ্বাসের কারণেই তাকে হারিয়েছি আমরা। বঙ্গবন্ধু শারীরিকভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেও রেখে গেছেন তার আদর্শ। উল্লেখ না করার মতো অল্পসংখ্যক বাঙালি তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকলেও এ দেশের আপামর মানুষ মনে রেখেছে তার আদর্শ।

ধারণ করে তার আদর্শ। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে তাকে। তার জন্মদিনে আনন্দ করে। আর মৃত্যুর দিনে শোক পালন করে।

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আগামীকাল জাতির জনকের শাহাদতবার্ষিকী পালন করা হবে। আওয়ামী লীগ ঘোষিত দু’দিনের নির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচিতে প্রতি বছরই জনতার ঢল নামে।

এবারও ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে মানুষ শোক দিবসের সকালে রাজধানীতে ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরের সামনে সংরক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও নানা কর্মসূচি পালন করবে। শ্রদ্ধা নিবেদন করবে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

শোক জানাতে হাজির হবেন সরকার ও রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি, কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষ। বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থলেও শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামবে। এছাড়া সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

পুষ্পার্ঘ্যরে পাশাপাশি মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি, ফাতেহা পাঠ, বিনামূল্যে রক্তদান, গরিব ও দুস্থদের খাবার বিতরণ করে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করবে জাতি। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও জাতির পিতার জন্য প্রার্থনা করবেন। ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টারের মাধ্যমেও প্রকাশ করা হচ্ছে শোক।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্রস্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী পালনের জন্য চারদিকে চলছে নানা প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে ধানমণ্ডি-৩২ নম্বর এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি নির্বিঘ্নে পালনের জন্য সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া দেশের নানা স্থানে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী মঞ্চ। কালো ব্যাজ তৈরি করে সবাই প্রস্তুত শোকের দিনে শামিল হতে।

জাতির পিতার শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন আজ শোকের নানা কর্মসূচি পালন করবে। যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সকাল ১০টায় রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (ইনু) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এছাড়া আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে উদ্বোধন করা হবে জাতির জনকের ৪৩ ফুট উঁচু প্রতিকৃতি।