খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বাধা কুমিল্লার ২ মামলা

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলমগীর হোসেন

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বাধা হয়ে আছে কুমিল্লার দুই মামলা। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এখন ৩৬টি মামলা ঝুলছে। অন্য মামলাগুলোর জামিন হলেও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হত্যা এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুই মামলায় জামিন হয়নি এখনও। হত্যা মামলায় জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আর বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আদেশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতকে জামিন আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্ট আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করে দেন। ফলে এই দুই মামলায়ই নতুন করে জামিন নিতে হবে বিএনপির চেয়ারপারসনকে। এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজার বিরুদ্ধে ৩১ অক্টোবরের মধ্য আপিল নিষ্পত্তির লক্ষ্যে শুনানি অব্যাহত রয়েছে হাইকোর্টে। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, এখনও আপিলের চার ভাগের এক ভাগও শুনানি হয়নি। এখন অবকাশকালীন ছুটি চলছে, আগামী ১ অক্টোবর আদালত খুলবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে না। দুদকের আইনজীবী বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কুমিল্লায় নাশকতার মামলা : আপিল আবেদন গত ১৩ আগস্ট বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ নিষ্পত্তি করায় আগের দেয়া জামিন আর বহাল নেই। গত ২৬ জুন বিশেষ ক্ষমতা আইনে এ মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) নিষ্পত্তি করে ওই আদেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে এ আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি হাইকোর্টকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। এরপর ওই আদালতে রুল শুনানি হয়। ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চৌদ্দগ্রামে কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশে বেশকিছু গাড়ি ভাংচুরের নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে এ মামলা করে পুলিশ।

কুমিল্লায় হত্যা মামলা : চৌদ্দগ্রামে নৈশকোচে পেট্রলবোমা হামলায় ৮ যাত্রী নিহতের ঘটনায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে মামলা করে থানা পুলিশ। গত ২৮ মে হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জামিন দেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে। পরে চেম্বার বিচারপতি জামিন স্থগিত করে আবেদন দুটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এ মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে চার সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়। পরে এ মামলায় জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এখন এ মামলায় কুমিল্লার আদালতে নতুন করে এ মামলায় জামিন চাওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, কুমিল্লার হত্যা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুটি মামলায়ই খালেদা জিয়াকে নতুন করে জামিন নিতে হবে। বাকি মামলাগুলোতে তিনি জামিনে রয়েছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা ৩১ আগস্টের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা সম্পর্কে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, ওই সময়ের মধ্যে আপিল শুনানি শেষ হবে না। খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন শনিবার যুগান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত আপিলের ৪ ভাগের এক ভাগও শুনানি হয়নি। গত ১৬ আগস্ট থেকে দেড় মাসের অবকাশকালীন ছুটি চলছে সুপ্রিমকোর্টে। ১ অক্টোবর থেকে সুপ্রিমকোর্ট নিয়মিত খুলবে। সেই হিসাবে শুনানির জন্য সময় আছে মাত্র এক মাস। এ সময়ের মধ্যে আপিল শুনানি শেষ করা সম্ভব হবে না। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল এ পর্যন্ত ১৫ কার্যদিবস শুনানি হয়েছে। আপিল বিভাগের নির্দেশনা আছে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির। আপিল বিভাগের নির্দেশনা হাইকোর্ট মানতে বাধ্য।

আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলার মধ্যে দুর্নীতির মামলা রয়েছে ৫টি। এগুলো হল : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, নাইকো, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতির মামলা। অন্য ৩১টির মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, ভুয়া জন্মদিন পালন ও ঋণ খেলাপির মামলা রয়েছে। পুলিশ, সরকারি দলের নেতাকর্মী ও আইনজীবীদের করা এসব মামলার মধ্যে ২৬টি হয়েছে ঢাকায়। কুমিল্লায় তিনটি এবং পঞ্চগড় ও নড়াইলে একটি করে মামলা রয়েছে।