নবাবগঞ্জে ফের সক্রিয় মুরাদ বাহিনী

  আজহারুল হক, নবাবগঞ্জ ২৬ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুরাদ
মুরাদ বাহিনী প্রধান মুরাদ শিকদার

ঢাকার নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়নের শীর্ষসন্ত্রাসী গ্রুপ মুরাদ বাহিনী ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নয়নশ্রীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ বাহিনীর সদস্যরা চাঁদা দাবিসহ হুমকি-ধামকি দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলাবাজার এলাকায় মুরাদ বাহিনী প্রধান মুরাদ শিকদার রামদা ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রিপন মোল্লা তার কাছে জানতে চান- সে কেন এমনটা করছে? উত্তরে মুরাদ তাকে গালিগালাজ করে হত্যার হুমকি দেয়। এ বিষয়ে রিপন মোল্লা যুগান্তরকে বলেন, মুরাদ এলাকার মানুষজনকে অস্ত্রশস্ত্রের মহড়া দিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল। এ বিষয়ে তাকে

বাধা দিলে উল্টো আমাকেই হুমকি দিয়েছে।

জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নামধারী নেতা সন্ত্রাসী মুরাদের হাত থেকে আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ কেউই রেহাই পায় না। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা ও জিডি করেছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির ভুক্তভোগী নেতাকর্মীরা। এ বাহিনীর বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন নয়নশ্রী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক ফকিরও। তাদের অভিযোগ মুরাদ বাহিনী চাঁদার দাবিতে প্রথমে হুমকি দেয়। পরে তাদের বেঁধে দেয়া সময়ে চাঁদা না পেলে পরিবার পরিজনকে নির্যাতন করে। এ অবস্থায় নয়নশ্রী ইউপির মানুষ মুরাদ বাহিনীর আতঙ্কে রাত-দিন কাটাচ্ছেন। শান্তির জনপদ ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক খ্যাত নয়নশ্রী ইউনিয়নের সংখ্যালঘু হিন্দু ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজনকে মারধর করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে মুরাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও নিরীহ মানুষের জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করার মতো অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় মাদক ব্যবসা ও প্রভাব বিস্তার করা মুরাদ বাহিনীর মূল টার্গেট।

যেভাবে মুরাদের উত্থান : বিএনপি-জামায়াত সরকার আমলে মোশারফ ওরফে মুশা ও সেলিম বাহিনীর তৃতীয় কমান্ড ছিল এই মুরাদ শিকদার। ওই সময় নয়নশ্রীর বাংলাবাজার, তাশুল্যা, বিলপল্লী, তুইতাল এলাকায় গুলিবর্ষণসহ এ বাহিনীর নানা অপকর্মের ভয়ে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। পরে মুশা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। এর কিছু দিন পর সেলিম ও মুরাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ২০১৫ সালের শেষের দিকে একদিন রাতে সেলিমকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে রাতের আঁধারে তুলে নেয়া হয়। এরপর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর ধারণা মুরাদ ও তার বাহিনী হয়তো সেলিমকে গুম করেছে। তবে পুলিশ কখনোই মুরাদকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি। মুরাদের নামে আদালতে ও নবাবগঞ্জ থানায় একাধিক মামলাসহ ডজন খানেক জিডি রয়েছে। এর পরও পুলিশের নীরবতা এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। কোনো পদ-পদবিতে না থাকলেও বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিল মুরাদ। ২০০৯ সালের পর থেকে যুবলীগ করে। বর্তমানে সে নয়নশ্রী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সারওয়ার খান যুগান্তরকে বলেন, মুরাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আমাদের জানা নেই। তবে খতিয়ে দেখে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিলপল্লী এলাকার এক গৃহবধূ যুগান্তরকে বলেন, মুরাদের কাছে কোনো আপন পর নেই। অর্থ হলে সে সবকিছু করতে প্রস্তুত। তিনি আরও জানান, মুরাদ বাহিনী প্রশাসনের চাপে দীর্ঘদিন নীরব থাকলেও কিছু দিন হল আবার সরব হয়ে উঠেছে। রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে নয়নশ্রীর প্রত্যন্ত এলাকায় মুরাদ ও তার বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি অস্ত্রসহ ঘোরাফেরা করে ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালায়। প্রাণভয়ে কেউ বলতে সাহস পায় না।

নয়নশ্রীর বাসিন্দা গৃহবধূ বেবী হোসেন যুগান্তরকে বলেন, মুরাদ ও তার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করছে। আমার ছয় মেয়েসহ বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি নবাবগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। যার নম্বর ৪৮। শুধু বেবী হোসেনই নন, তার নামে আরও অনেকেই জিডি করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মুরাদ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে জমি দখল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, ভাংচুরসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে চলেছে বছরের পর বছর। স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মধ্যে দু’একটি বিষয়ে ব্যবস্থা নিলেও মুরাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ হয় না। প্রায় প্রতিদিনই সে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। মুরাদ শিকদার তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে যুগান্তরকে বলে, আমার কোনো বাহিনী নেই। তবে রিপন মোল্লার সঙ্গে কথা কাটাকাটির বিষয়টি স্বীকার করে। নবাবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) কেএম শামীম হাসান বলেন, মুরাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। এলাকায় পুলিশ তৎপর আছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.