ফিরছে মানুষ রাজধানীতে ট্রেন বাস লঞ্চে উপচে পড়া ভিড়

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফিরছে মানুষ রাজধানীতে ট্রেন বাস লঞ্চে উপচে পড়া ভিড়
ছবি: সৃংগৃহীত

ঈদ শেষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আবার রাজধানীমুখী মানুষ। টানা পাঁচদিন ছুটির পর রোববার প্রথম কর্মদিবসে বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট ও রেলওয়ে স্টেশনে দেখা গেছে ফিরতি পথের যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। তাই রাজধানী আবার তার পুরনো চেহেরায় ফিরে আসছে।

কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসা প্রতিটি ট্রেনেই যাত্রীদের ভিড়। আসনধারী যাত্রীর পাশাপাশি প্রায় সমানসংখ্যক যাত্রী দাঁড়িয়ে আসছেন ট্রেনে। ছাদে চড়েও আসছেন অনেকে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে প্রায় সব ট্রেনই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বিলম্বে চলাচল করছে। এতে যাত্রী দুর্ভোগ বাড়ছে।

তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ট্রেনের নির্ধারিত গতির চেয়ে কমগতিতে চালাতে হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন ট্রেন কমলাপুরে বিলম্বে পৌঁছছে।

ভোর থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৩৩টি আন্তঃনগর ট্রেন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আসে। রাজশাহীর ধূমকেতু এক্সপ্রেস ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে আসার কথা থাকলেও কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট।

খুলনার সুন্দরবন এক্সপ্রেস ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে কলাপুর স্টেশনে পৌঁছার কথা থাকলেও পৌঁছেছে ৮টা ৩০ মিনিটে। লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা লালমনির ঈদ স্পেশাল দুই ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকায় পৌঁছে। এছাড়া সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতি, পারাবত, দ্রুতযান, একতা, তুর্ণা নিশিথা, উপবনসহ ২১টি ট্রেন ২০ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে চলাচল করেছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্ত্তী জানান, আজ (রোববার) ট্রেনে যাত্রীদের ভিড় খুবই বেশি। প্রতিটি ট্রেনই প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে রাজধানীতে আসে। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে কোনো ট্রেনই নির্ধারিত গতি নিয়ে চালাতে পারেনি। কমগতি এবং স্টেশনে বিরতির সময় বেশি নেয়ায় বিলম্বে ট্রেন চলাচল করছে।

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতি কমিয়ে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ট্রেন বিলম্বে চলা এ মুহূর্তে রেলওয়ের চিন্তার বিষয় নয়, যাত্রীদের নিরাপত্তাই মুখ্য বিষয়। প্রচণ্ড ভিড় ও দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত গতিতে ট্রেন চালালে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

শুধু ট্রেনেই নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসে সড়ক পথেও ফিরছে হাজারও মানুষ। রাজধানীর গাবতলী ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় দেখা যায়, উত্তরাঞ্চল থেকে প্রচুর গাড়ি আসছে। সব গাড়িতেই উপচে পড়া ভিড়।

অনেকে সরাসরি অফিস ধরতে রাতের বাসে ভোরে ঢাকায় পৌঁছেন। যাত্রী, গাড়ির চালক ও চালকের সহকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ শেষে ঢাকামুখী মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে মূলত শনিবার থেকে।

বেসরকারি চাকরিজীবীদের অফিস শুরু হয়েছে শনিবার। তবে শনিবারের চেয়ে রোববার ঢাকামুখী মানুষের ভিড় বেশি। রাস্তায় জ্যাম না থাকলেও ঢাকায় ফিরতে বাড়তি খরচ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অনেক যাত্রী। আশিক নামের একজন বলেন, কিছু মালামাল আছে এগুলো গাড়িতে তুলতে আলাদা পয়সা দিতে হয়েছে। টিকিটের দামও বেশি। এখন রিকশা ভাড়াও বেশি চাচ্ছে।

শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার বিকাল পর্যন্ত শতাধিক লঞ্চ সদরঘাটে এসেছে। প্রতিটি লঞ্চেই অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ছিল। লঞ্চ থেকে নেমে যাত্রীরা গণপরিবহন পেতে দুর্ভোগে পড়েন। কারণ গণপরিবহনের স্বল্পতা ছিল। রিকশা ভাড়া ছিল চড়া। বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন জানান, ঈদ শেষে মানুষ রাজধানীতে আসছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রায় শতাধিক লঞ্চ ঘাটে পৌঁছেছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter