বাবরের খালাস দাবি তার আইনজীবীর

দুই জায়গায়ই তার উপস্থিতি ছিল : রাষ্ট্রপক্ষ

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর (ফাইল ছবি)

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের খালাস দাবি করেছেন তার আইনজীবী এম নজরুল ইসলাম। বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে বাবরের পক্ষে অষ্টম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে তিনি এ দাবি করেন।

যুক্তিতর্ক শেষে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বাবরের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী যে যুক্তি দিয়ে বাবরের খালাস চেয়েছেন তা ধোপে টিকে না। কারণ, বাবর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সম্পৃক্ত ছিলেন এবং দুটো জায়গায় তার উপস্থিতি আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। একটি হাওয়া ভবনে ও আরেকটি আবদুস সালাম পিন্টুর সরকারি ধানমণ্ডির বাসভবনে। তিনি প্রশাসনিক সহায়তা দিয়েছেন।

এদিন বাবরের পক্ষে মামলার ‘ফ্যাক্ট পয়েন্ট’র ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। তবে মামলার ‘ল পয়েন্ট’র ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।

ওই দিন সব আসামির পক্ষে একসঙ্গে ল’ পয়েন্টের ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে। এরপর তাদের ল’ পয়েন্টের ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ল’ পয়েন্টের ওপর জবাব দেয়া হবে।

আর এরপরই এ মামলার রায়ের ঘোষণার দিন নির্ধারণ করবেন আদালত। এ নিয়ে মামলায় ১১২তম দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হল। এর মধ্যে আসামিপক্ষ ৮৭ ও রাষ্ট্রপক্ষ ২৫ কার্যদিবস ব্যয় করেছে। এর আগে ৪৪ আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে।

এদিন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, এনএসআইর (জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা) সাবেক দুই মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ কারাগারে থাকা ২৩ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

এছাড়া এ মামলায় জামিনে থাকা খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক তিন আইজিপি- মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলার তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আবদুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলামও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ মামলায় তারেক রহমানসহ ১৮ আসামি পলাতক রয়েছেন।

দুপুর ১২টা ৮ মিনিটের দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই পিডব্লিউ (প্রসিকিউশন উইটনেস বা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী) ২২৫ আবদুল কাহার আকন্দের (মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা) সাক্ষ্য তুলে ধরে বাবরের আইনজীবী নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জ্ঞাতসারে, বাবরের নির্দেশে মাওলানা তাজউদ্দিনকে বাদল নামীয় পাসপোর্ট দিয়ে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া হয়- তদন্ত কর্মকর্তার এ বক্তব্য সঠিক নয়।

বক্তব্যের শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান বাবরের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, এত কথা না বলে বাবর নির্দেশ দিয়েছেন কিনা- সেটা বলুন। এরপর ফের শুরু করেন নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ফজলুল কবির সিলেটের এক মামলায় বিপুলকে (জঙ্গি) গ্রেফতার করে। তখন বাবর মন্ত্রী ছিলেন। এরপর বিপুলের কাছ থেকে মুফতি হান্নানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এলে আবদুল কাহার আকন্দ আসামি হান্নানকে রমনা বটমূলের মামলায় রিমান্ডে নেন। আর ওই রিমান্ডে নেয়া হয় বাবরের নির্দেশে। আর এর ধারাবাহিকতায় মুফতি হান্নান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সেখানে (প্রথম স্বীকারোক্তি) বাবরের নাম নেই। বাবরের কোনো গাফিলতি ছিল না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা তার সময়ই গতি পায়।

এরপর আবদুল কাহার আকন্দ তার চার্জশিটে হাওয়া ভবন ও পিন্টুর বাসায় বাবর গিয়েছেন মর্মে লিখে দিলেন এবং বাবরকে অভিযুক্ত করলেন। আবদুল কাহার আকন্দ পরিচ্ছন্ন হাতে বাবরের বিরুদ্ধে তদন্ত করেননি। তিনি (আকন্দ) পরিচ্ছন্ন লোকও নন। তিনি রাজনৈতিক ঘেঁষা লোক। যে কারণে রাজনৈতিকভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্য বাবর ও তার দলের ক্ষতি করতে তিনি চার্জশিটে এভাবে বলেছেন।

দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে যুক্তিতর্ক চলাকালে নজরুল ইসলামকে কাছে ডেকে নিচু স্বরে বাবরকে পরামর্শ দিতে দেখা যায়। এরপর নজরুল ইসলাম আদালতে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাবরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে তখন তার দলের নেতাকর্মীদের সম্পর্কে বলতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি (বাবর) তা করেননি। তাই তাকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়।

বাবরের আইনজীবী বলেন, কাউকে বিস্ফোরক দিয়ে বা টাকা দিয়ে সহায়তা করতে হবে। বিস্ফোরক মামলায় সহায়তা অবশ্যই বিস্ফোরক সংক্রান্ত হতে হবে। তবে কোনো সাক্ষীই বাবরকে সম্পৃক্ত করে বিস্ফোরক নিয়ে কিছু বলেননি। ৩০ নম্বর মামলায় (বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা) কোনো সাক্ষীই বাবরের সম্পর্কে কিছু বলেননি।

এছাড়া ২৯ নম্বর মামলায় (হত্যা মামলা) তদসন্ত কর্মকর্তা বাবরের বিরুদ্ধে যা অভিযোগ এনেছেন, তা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তদন্ত কর্মকর্তার ওইসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাই লুৎফুজ্জামান বাবারকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তার খালাস প্রার্থানা করছি।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter