ফারমার্স ব্যাংকের চিশতী ও তার স্ত্রীর সম্পদ ক্রোকের আদেশ

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ছবি: সংগৃহীত

অর্থ পাচার মামলায় ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী ও তার স্ত্রী রুজী চিশতীর যাবতীয় সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েস এ আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলম আসামিদের সম্পদ ক্রোকের আবেদন করেন। দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন (জাহাঙ্গীর) তা আদালতে দাখিল করেন। আবেদন গ্রহণ করে আদালত বাবুল চিশতী ও তার স্ত্রী রুজী চিশতীর যাবতীয় সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন।

আবেদনে বলা হয়, মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী ও তার স্ত্রী রুজী চিশতী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তাদের নামে-বেনামে, কখনও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের বিভিন্ন শাখায় ২৫টি হিসাব খোলেন। দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জিত ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে হিসাবগুলোতে জমা করে এবং নিজের নামে ক্রয়কৃত শেয়ারের বাজারমূল্য পরিশোধ করে মানিলন্ডারিং আইন, ২০১২-এর ৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

তদন্তে বিভিন্ন সোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে বাবুল চিশতীর নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে অনেক অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং দুদকের মামলার পর থেকে এসব সম্পদ বিক্রি করার চেষ্টা করছেন মর্মে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। বাবুল চিশতী ও তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন সম্পদের তথ্যও পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের নামে-বেনামে প্রচুর অর্থ জমা রয়েছে।

বর্ণিত সম্পদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তা বেহাত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের ওইসব সম্পদসহ আরও সম্পদ পাওয়া গেলে তা ক্রোক বা ক্ষেত্রবিশেষ অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন। এ জন্য জেলা রেজিস্ট্রার ঢাকা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ফারমার্স ব্যাংকের সচিব, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজকে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ক্রোক বা ক্ষেত্রবিশেষে অবরুদ্ধ করার প্রয়োজনীয় আদেশ দানের আবেদন করা হয়।

যেসব সম্পদ ক্রোকের আদেশ : ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের শেয়ার, মূল্য ৪০ কোটি টাকা; জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক একর জমির ওপর রাশেদ রিমি ফিলিং স্টেশন; জামালপুরে বকশীগঞ্জ উত্তর প্রাইমারি স্কুলের পাশে নির্মাণাধীন ১০তলা বিল্ডিং; জামালপুরের বকশীগঞ্জ উত্তর পাটহাটীতে ৬তলা ফারমার্স ব্যাংক ভবন; জামালপুরের বকশীগঞ্জে ৫০ একর জমির ওপর চর কাউনিয়া বকশীগঞ্জ জুট মিলস, আরসিএল প্লাস্টিক ফ্যাক্টরি, ফিউশন সুজ ফ্যাক্টরি; ময়মনসিংহ শহরে ন্যাশনাল ব্যাংক ভবনের ওপর তলায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট; ময়মনসিংহ শহরে ফারমার্স ব্যাংক ভবনে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট; ময়মনসিংহ শহরে খাছিঝুলি এলাকায় রুজী চিশতীর ভিলা নামে ৯তলা বাড়ি; ময়মনসিংহ শহরে পুলিশ লাইনের পাশে বাবুল চিশতী ও তার শ্যালক মোস্তফা কামাল চেয়ারম্যানের নামে ৫০ শতাংশ জমি; রাজধানীতে মহাখালী নিউ ডিওএইচএস রোড নং-৩০, বাড়ি নং-৪১৯ ঠিকানায় একটি ডুপ্লেক্স বাসা এবং ঢাকার মিরপুর-১২তে বকশীগঞ্জ টাওয়ার নামে ৭তলা বাড়িসহ অন্যান্য সম্পদ।

আদালত সূত্র জানায়, গত ২৬ এপ্রিল দুই দফার রিমান্ড শেষে বাবুল চিশতীকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অপরদিকে এ মামলায় ১৮ এপ্রিল রিমান্ড শেষে বাবুল চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীসহ তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। অপর দুই আসামি হলেন- ব্যাংকের ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মাসুদুর রহমান খান ও এসভিপি জিয়া উদ্দিন আহমেদ।

১০ এপ্রিল দুপুরে দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলমের নেতৃত্বাধীন একটি দল রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেফতার করে। এর আগে রাজধানীর গুলশান থানায় অর্থ পাচারের অভিযোগে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করে দুদক। মামলায় ২৫টি ব্যাংক হিসাব খুলে ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা স্থানান্তর ও লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে হিসাবগুলোতে গ্রহণ ও নিজেদের (আসামিদের) নামে ব্যাংক শেয়ারের মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।