জাতিসংঘের বিদায়ী মানবাধিকার প্রধান

ক্ষমতা ছেড়ে ফের গৃহবন্দি হওয়া উচিত ছিল সু চির

  যুগান্তর ডেস্ক ৩১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সু চি
ছবি: সংগৃহীত

‘রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি যখন কিছু করতে পারছেন না, তখন তার পদত্যাগ করাই উচিত। এতে পরবর্তী প্রজন্ম অন্তত তার ভাবমূর্তিটা বজায় থাকত।’ গত এক বছর ধরে এমন কথাই বলে আসছেন বিশ্বের বিশিষ্টজনেরা।

এবার সেই কথাই বললেন জাতিসংঘের বিদায়ী মানবাধিকার হাইকমিশনার জাইদ রা’দ আল হুসেইন। বৃহস্পতিবার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নৃশংস দমন অভিযানের ঘটনায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল।

সেনাবাহিনীকে প্রশ্রয় না দিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী এ নেত্রীর উচিত ছিল ফের গৃহবন্দিত্ব বরণ করে নেয়া।’ তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাবেক এ নেত্রী রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডকে জায়েজ করার চেষ্টা করেছেন। এটি ‘গভীর দুর্ভাগ্যজনক’ বিষয়।

সম্ভাব্য গণহত্যার জন্য মিয়ানমার জেনারেলদের বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের তদন্ত কমিটি। তবে জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। দেশটি বলেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তাদের শূন্য সহনশীলতা রয়েছে।

বিবিসির ইমোজেন ফুকসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হুসেইন বলেন, তিনি (সু চি) যে অবস্থানে আছেন, সেখান থেকে কিছু করতে পারতেন। তিনি চুপ করে থাকতে পারতেন। অথবা আরও ভালো হতো, তিনি যদি পদত্যাগ করতেন।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র হওয়ার তার কোনো দরকার ছিল না। তিনি বলতে পারতেন (সেনাবাহিনীকে), দেখো আমি দেশের ন্যূনতম নেতা হওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি, কিন্তু এসব অবস্থা সহ্য করে নয়।’ হুসেইন আরও বলেন, ‘যখন সহিংসতা শুরু হল তখন সু চির বলা উচিত ছিল যে, ধন্যবাদ, আমি পদত্যাগ করছি। আমি গৃহবন্দি হব কিন্তু এমন পরিস্থিতি সহ্য করতে পারব না।’

১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারের সামরিক সরকারের অধীনে সু চি প্রায় ১৬ বছর গৃহবন্দি ছিলেন। মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন তিনি। অথচ তার চোখের সামনেই নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। রোহিঙ্গা নিপীড়ন থেকে মিয়ানমার সেনাদের নিবৃত্ত করতে কোনো চেষ্টা না করায় সমালোচিত সু চির নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়ার দাবি উঠেছে।

তবে ১৯৯১ সালে দেয়া ওই পুরস্কার কেড়ে নেয়া হবে না বলে বুধবার নোবেল কমিটি জানিয়েছে। ৭৩ বছর বয়সী এই নারী সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ না করলেও নৃশংসতার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি নিন্দা জানানোর বিষয়ে তার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আছে।

গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশের চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের ভয়াবহ হামলার পর দমন অভিযানে নামে সেনাবাহিনী। ধর্ষণ-গণধর্ষণ, জ্বালাও পোড়াওয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়।

ভয়ে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা সংখ্যালঘু মুসলিম। কয়েক প্রজন্ম ধরে তারা রাখাইনে বসবাস করলেও তাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কয়েক বছর ধরে নির্বিচার হত্যা, ধর্ষণ ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ নিপীড়িত এই জনগোষ্ঠীর ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ইয়ত্তা নেই।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter