শত বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা অনুমোদন

প্রথম পর্যায় বাস্তবায়িত হলে জিডিপি বাড়বে দেড় শতাংশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শত বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা অনুমোদন
শত বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা অনুমোদন

অনুমোদন পেল জলবায়ু পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি হওয়া শত বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বা ডেল্টা প্ল্যান।

এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে ৮০টি প্রকল্প। এগুলো বাস্তবায়ন হলে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বাড়বে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। নেদারল্যান্ডসের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় পরিকল্পনা তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে মঙ্গলবার পরিকল্পনাটি অনুমোদন দেয়া হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে ডেল্টা প্ল্যানের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন জিইডি সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটিকে ঐতিহাসিক ঘটনা আখ্যা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে তো বটেই, পৃথিবীর কোথাও এত দীর্ঘ ও বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি হয়নি। এর মাধ্যমে দেশের পানিসম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতি টেকসই করা হবে। হটস্পটে (প্রায় অভিন্ন সমস্যাবহুল অঞ্চল) যেসব ঝুঁকি রয়েছে, সেগুলো মোকাবেলা করা হবে।

নদীর ক্যাপিটাল ও মেইনটেনেন্স ড্রেজিং করা হবে। ফলে নতুন নতুন ভূমি পাওয়া যাবে। নদীপথের ব্যবহার বাড়ানো হবে। সেই সঙ্গে নদীভাঙন ঠেকিয়ে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো হবে। উন্নয়নকে টেকসই করতে যা যা করা প্রয়োজন, তার সবই আছে এ পরিকল্পনায়।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন রাশিয়া সফরে গিয়েছিলেন তখন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘সুযোগ পেলে নেদারল্যান্ডস ঘুরে আসিও। কারণ আমাদের মতোই নদীর দেশ নেদারল্যান্ডস।’ পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেকবার নেদারল্যান্ডস গিয়েছেন। সেখানকার পানি ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা তাকে আকৃষ্ট করেছে। তারই নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় এই দীর্ঘ পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে।

ব্রিফিংকালে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, পরিকল্পনা সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম, জিইডি সদস্য ড. শামসুল আলম, আইএমইডি সচিব মফিজুল ইসলাম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০১৮-২০৩০ সাল পর্যন্ত মোট ৮০টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। এ টাকা আসবে সরকারি-বেসরকারি, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ এবং জলবায়ু তহবিলসহ বিভিন্নভাবে। এজন্য গঠন করা হবে একটি ডেল্টা তহবিল। তাছাড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠন করা হবে ডেল্টা নলেজ ব্যাংক।

আরও জানানো হয়, পরিকল্পনায় পানিসম্পদ, ভূমি, কৃষি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভূ-প্রতিবেশ খাতকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দেশের ব-দ্বীপ ভূমিতে প্রাকৃতিক সম্পদ খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রশাসন সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করার প্রচেষ্টা রয়েছে পরিকল্পনায়।

সমন্বিত নীতি উন্নয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়নের সম্ভাব্য বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে। তারপর করণীয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রোডম্যাপ তৈরি এবং সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

ডেল্টা তহবিল গঠনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থায়ন প্রয়োজন। যার ২ শতাংশ নতুন বিনিয়োগ এবং শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যয় হবে।

শতকরা ৮০ ভাগ সরকারি তহবিল হতে এবং শতকরা ২০ ভাগ বেসরকারি খাত থেকে আসবে। অর্থায়নের ক্ষেত্রে কস্ট রিকভারির জন্য বেনিফিসিয়ারি পে প্রিন্সিপাল অনুসরণ করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বড় শহরগুলোয় পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতে পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় আদায়ের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে।

ব্রিফিংয়ে ড. শামসুল আলম জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে উপকূলীয় অঞ্চলে ২৩ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন হবে ৮৮ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা। বরেন্দ্র এবং খরাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য ৯ প্রকল্পে ১৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা।

হাওর ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য ৬ প্রকল্পে ২ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য ৮ প্রকল্পে ৫ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। নদী ও মোহনা অঞ্চলে ৭ প্রকল্পে ৪৮ হাজার ২৬১ কোটি টাকা এবং নগরাঞ্চলে ১২ প্রকল্পে ৬৭ হাজার ১৫২ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রাক্কলন করা হয়েছে। শামসুল আলম আরও জানান, পরিকল্পনায় ঝুঁকি বিবেচনায় ৬টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্পটে ৩৩ ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

হটস্পটগুলো হচ্ছে- উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল, নদী ও মোহনা অঞ্চল এবং নগরাঞ্চল। পরিকল্পনায় অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে সে অঞ্চলের পানিবিজ্ঞান ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। এক্ষেত্রে দেশের আট হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকিমাত্রার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

দেশের পানিসম্পদ নিয়ে ১০০ বছর মেয়াদি এ পরিকল্পনা নেদারল্যান্ডস ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে। ২০১৪ সালে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। পরিকল্পনা তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৮ কোটি টাকা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter