ট্রাফিক আইন প্রয়োগে কঠোর হচ্ছে পুলিশ

নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া থামবে না বাস

বাইকচালক হেলমেট ব্যবহার না করলে মিলবে না জ্বালানি * রাজধানীতে চলবে না লেগুনা * অবৈধ পতাকা বা ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড নামিয়ে ফেলতে হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া থামবে না বাস

ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর হচ্ছে পুলিশ। রাজধানীতে নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া বাস থামানো যাবে না। হেলমেট ছাড়া কেউ মোটরসাইকেল চালাতে পারবেন না। চালালে পেট্রল পাম্প জ্বালানি দেবে না।

রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে লেগুনা চলতে দেয়া হবে না। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব বিবেচনা করা হবে না। এ লক্ষ্যে আগামী এক মাস বিশেষ অভিযান চলবে। অভিযান শেষে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। মাসব্যাপী ট্রাফিক সচেতনতা কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত সড়ক নিরাপদ না হবে, তত দিন পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রম চলবে। রাজধানীতে বাস থামানোর জন্য ১২১টি স্থান নির্ধারণ করেছি। এগুলোতে সাইনবোর্ড লাগানো হচ্ছে। এর বাইরে সড়কে যত্রতত্র বাস থামানো যাবে না। বাস স্টপেজ ছাড়া কোথাও বাসের দরজা খুলবে না, বন্ধ থাকবে। যাত্রীরাও বাস স্টপেজ ছাড়া অন্য কোথাও নামতে পারবেন না।

বাসের মধ্যে চালকের মোবাইল নম্বর ও ছবি টানিয়ে রাখতে হবে। প্রত্যেক চালককে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। বাসের চালকদের চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া যাবে না, তাদের বেতনভুক্ত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যেসব গাড়িতে বিশেষ সুবিধা আদায়ের জন্য অবৈধভাবে পতাকা ব্যবহার করা হয়, সেসব গাড়ি থেকে পতাকা বা ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড নামিয়ে ফেলতে হবে। তা না হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘পেট্রল পাম্পগুলোর মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি, মোটরসাইকেলে যাদের হেলমেট থাকবে না, তাদের তেল না দেয়ার ব্যাপারে তারা রাজি হয়েছেন। এ ছাড়া মোটরসাইকেলে একজনের বেশি যাত্রী উঠতে পারবেন না। যাত্রীকে অবশ্যই হেলমেট পরতে হবে। ফুটওভার ব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং ও আন্ডারপাস ছাড়া রাস্তা পার হওয়া যাবে না। রিকশার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য ঢাকা শহরের নিবন্ধন নেই, এমন রিকশা চলতে দেয়া হবে না।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমাদের দেশে আইন না মানাই আইনে পরিণত হয়েছে। এটা একদিনে তৈরি হয়নি। শত বছরের এ অপসংস্কৃতি ভাঙতে সময় লাগবে। তবে আগামী এক মাস পর পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টে যাবে। লেগুনার কারণে সড়কে সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণও এই লেগুনা। তাই এই যান রাজধানীর সড়কে চলতে পারবে না। তবে কুড়িল পেরিয়ে ৩০০ ফুট সড়ক বা বসিলার মতো শহরের উপকণ্ঠের এলাকাগুলোতে লেগুনা চালানো যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন থেকে জনগণকে ফুটওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হবে। রাস্তার মাঝ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মাইকিং করা হবে। তারপরও যদি কেউ ঝুঁকি নিয়ে পারপার হয়। সে ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজার ব্যবস্থা করব।’ ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘গত দেড় বছরে ৬ লাখ ২৫ হাজার ৯৪৫টি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও দেখে দেড় বছরে ৯ লাখ ৮ হাজার ৮৪৩টি মামলা করা হয়েছে। ঈদের আগে যে ১০ দিন ট্রাফিক সপ্তাহ ছিল, ওই সময়ে ৮৮ হাজার ২৯৩ মামলায় ৫ কোটি ৬৭ লাখ ১৫ হাজার ৩০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

দখল হওয়া ফুটপাত মুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে বসে ঢাকার বিভিন্ন দখল হওয়া ফুটপাত উদ্ধার করা হবে।’ তিনি জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কাজে পুলিশের পাশাপাশি রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি থাকবে। প্রতি পালায় ৩২২ জন রোভার স্কাউট সদস্য থাকবেন। চলতি মাসেই জাহাঙ্গীর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মডেল করিডোর চালু করা হবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, সেখানে অটো সিগন্যালের মধ্য দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে। সব ধরনের শৃঙ্খলা ও নিয়ম প্রতিপালনের মধ্য দিয়ে এই মডেল করিডোর চলবে। পরে আস্তে আস্তে অন্যান্য সড়কেও এ ধরনের করিডোর চালু করা হবে।’

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘ঢাকা মহানগরের বাসগুলোকে ৬টি কোম্পানির মাধ্যমে চালানোর ব্যাপারে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের মুখ্য সচিবও আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজধানীতে বড় বড় স্কুলে ক্লাস শুরু ও ছুটির সময় স্কুলের সামনে ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ দেব। তারা সেখানকার ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করবেন। এ ছাড়া স্কুলের সিনিয়ররা ছোটদের রাস্তা পারাপারে সহায়তা করবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গুজব ছড়িয়ে যারা সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশালে হেলমেট ব্যতীত মোটরসাইকেল আরোহীদের কাছে পেট্রল বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। দু-এক দিনের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সভা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্তের আলোকে বরিশালের পেট্রল পাম্প মালিকদের চিঠি দিয়ে হেলমেটবিহীন রাইডারদের কাছে পেট্রল বিক্রি বন্ধ রাখতে বলা হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মাহফুজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সড়কে মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter