যোগ্য প্রার্থীর খোঁজে আ’লীগ বিএনপি চায় আসন উদ্ধার

  জাফর আহমেদ, টাঙ্গাইল, সেলিম হোসেন, গোপালপুর ও আসাদুল ইসলাম বাবুল, ভূঞাপুর ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ছবি-যুগান্তর

আগামী মাসের মধ্যেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হচ্ছে। দেশজুড়ে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন। জাতীয় নির্বাচনের ঢেউ লেগেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-২ নির্বাচনী এলাকায়ও।

দুইটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের খন্দকার আসাদুজ্জামান বার্ধক্যজনিত কারণে আগামী নির্বাচনে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না, সেটি আগেই পরিষ্কার হয়েছে।

ফাঁকা মাঠ দখলের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের অর্ধডজন প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন। ব্যাপকভাবে প্রচারে নেমেছেন গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্লিন ইমেজের ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠাণ্ডু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনির।

যদিও খন্দকার আসাদুজ্জামান এমপি চাইছেন তার ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেলকে উত্তরসূরি করতে।

এছাড়া ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র মুক্তিযোদ্ধা মো. মাসুদুল হক মাসুদ এবং ভূঞাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হালিমও গণসংযোগে আছেন দীর্ঘদিন ধরে।

দলের মনোনয়ন চাচ্ছেন লে. কর্নেল (অব.) মির্জা হারুন অর রশিদ ও টাঙ্গাইল জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট কেএম সালাম।

তবে ভোটের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় দলীয় মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে কেন্দ্রের সঙ্গে লবিং জোরদার করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক ও নেতাদের মাঝে গ্র“পিংয়ের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। প্রার্থীরা তাদের নিজস্ব লোকবল দিয়ে বলয় সৃষ্টি করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে রেষারেষি অবস্থা তৈরি হয়েছে।

অপরদিকে বিএনপিতে একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক উপমন্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু।

তবে আইনি জটিলতায় তার প্রার্থিতা আটকে গেলে এ আসনে তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রার্থী হতে পারেন।

আবদুস সালাম পিন্টু ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ১০ বছর ধরে কারাগারে। এছাড়া আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম এই আসামিকে ঠেকানোই শাসক দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

নব্বইয়ে পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আবদুস সালাম পিন্টু আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাতেম আলী তালুকদারকে হারিয়ে প্রথমবার এমপি হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারি ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও পিন্টু এমপি হন।

১৯৯৬ সালের মূল নির্বাচনে সাবেক সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামান আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি হন। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনেও আসাদুজ্জামান এমপি হন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে ৩০ আগস্ট গোপালপুরের হেমনগরে নলীন নঈম উদ্দিন হাইস্কুল মাঠে সমাবেশ করেন ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠাণ্ডু। সমাবেশ বানচালে এমপিপুত্রের অনুসারীরা একই স্থানে পাল্টা সমাবেশ ডেকে মাইকিং শুরু করে।

সংঘাত এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলে ঠাণ্ডুর সমর্থকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পার্শ্ববর্তী শাখারিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ করে। সেখানে ব্যাপক লোকসমাগম হয় এবং এর মধ্য দিয়ে তার জনপ্রিয়তার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

এদিকে বহুল আলোচিত ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি এমপি রানাসহ তার ভাইদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আলোচিত নেতায় পরিণত হয়েছেন জার্মানিপ্রবাসী তানভীর হাসান ছোট মনির। সাংগঠনিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগেও স্থানীয়রা তাকে কাছে পেয়েছেন।

তানভীর হাসান বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষ আমাকে সন্তানের মতো গ্রহণ করেছেন। তাদের পাশে নিরবচ্ছিন্নভাবে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ছাড়াও নানা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়েছে। আমার বিজয় কেউ রুখতে পারবে না।

খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেলের ঘনিষ্ঠ ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বলেন, খন্দকার আসাদুজ্জামান এলাকায় খুবই জনপ্রিয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তিনি মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।

বিএনপির আবদুস সালাম পিন্টু দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকায় এলাকার মানুষ তার প্রতি সহানুভূতিশীল। তবে এলাকায় তার ছোট ভাই সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রার্থী হতে পারেন। পিন্টুর প্রতি জনগনের এই সহানুভূতি কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে চাইছেন সালাউদ্দিন টুকু।

এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন সাবেক এমপি ও জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি শামসুল হক তালুকদার ছানু। তিনি দলের একক প্রার্থী।

আওয়ামী লীগের আশরাফুজ্জামান স্মৃতি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ২০০১ সালে সরকার গঠন করার পর এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও মামলা দিয়ে বিপর্যস্ত করেছে।

ওই সময় ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে থেকে দলকে সংগঠিত করেছি। প্রতিনিয়ত গণসংযোগের কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের আস্থা আমার ওপর রয়েছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা যত বেশি হোক, তাদের দিয়ে দল লাভবান হবে না। মনোনয়ন পেলে নৌকার জয় অবধারিত। দলও শক্তিশালী হবে।

ইউনুস আলী তালুকদার ঠাণ্ডু সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ঢাবির মহসিন হল শাখার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পরপর দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এরই মধ্যে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক।

যমুনার চরে বেসরকারি উদ্যোগে চীনা বিনিয়োগে শিল্পপার্ক গড়ে উঠবে। এটি হলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। দল মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আসনটি দলকে উপহার দিতে পারব।

অ্যাডভোকেট আবদুল হালিম বলেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও নির্বাচন করায় তৃণমূল নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে রয়েছে আমার নিবিড় সম্পর্ক। মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হব বলে আশা করছি।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী মাসুদুল হক মাসুদ বলেন, স্বাধীনতা পরিবর্তী সময়ে এ আসনে কেবল গোপালপুর থেকেই মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে। ভূঞাপুর থেকে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে আঞ্চলিকভাবে ভূঞাপুর উপজেলায় দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে আমার পক্ষে অবস্থান নেবে। দল এবং আঞ্চলিকতায় আমার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

জাতীয় পার্টির মননোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক এমপি শামসুল হক বলেন, আমি দুইবার ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও এমপি থাকাকালীন এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছি। মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলাম। মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে আমি বিজয়ী হওয়ার আশা রাখি। এ আসনে ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯ জন।

সংশোধনী : বুধবার প্রকাশিত টাঙ্গাইল-১ আসনের নির্বাচনী প্রতিবেদনে সাবেক জাসদ নেতা শাহজাহান সিরাজের নামের সঙ্গে প্রয়াত শব্দটি ছাপা হয়েছে। অসাবধানতাবশত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter