দিশেহারা নাটোরের কৃষকরা

প্রাণের দূষিত বর্জ্য বন্ধ হয়নি

  যুগান্তর রিপোর্ট, নাটোর ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কৃষক
নাটোরের একডালায় ক্ষেতের মরা ধান গাছ তুলে দেখছেন এক কৃষক। ছবি-যুগান্তর

নাটোরে প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের দূষিত বর্জ্যে ক্ষেতের ফসল নষ্ট হওয়া অব্যাহত আছে। এতে করে স্থানীয় কৃষকরা অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, শুধু গেল এক বছরেই দুই হাজার বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। তাদের ক্ষোভ-বিক্ষোভের প্রতিবাদে স্থানীয় প্রশাসনের চাপে প্রাণ কর্তৃপক্ষ ক্ষতি পূরণের আশ্বাস দেয়।

কিন্তু রহস্যজনক কারণে এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। উল্টো এ বছর রাসায়নিক বর্জ্য ফেলে ফের ফসলি জমি নষ্ট করছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর জুলাই মাসে নাটোরে প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের বিষাক্ত বর্জ্য পানিতে মিশে একডালা এলাকার আয়চান এবং চাঁনপুর বিলের দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়।

প্রাণ কারখানার ড্যাম্পিং সেকশন এবং মার্কেট রিটার্ন পণ্যের বিষাক্ত বর্জ্য কারখানার চৌবাচ্চায় রাখার পর তা ভরে যাওয়ায় বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে ছড়িয়ে পড়ে।

এতে বিষাক্ত পানির মড়ক দেখা দেয় এবং পার্শ্ববর্তী দুটি বিলের ধান, পানিফল ও পাটসহ বিভিন্ন ফসল একেবারে নষ্ট হয়ে যায়।

এছাড়া বিষাক্ত বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ায় পুকুরসহ আশপাশের প্রাকৃতিক জলাশয়ের মাছও মারা পড়ে। এতে এলাকার সাধারণ কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিষয়টি নিয়ে তখন তোলপাড় শুরু হলে স্থানীয় প্রশাসনও কঠোর হয়। এক পর্যায়ে প্রাণ কারখানা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেয়। কিন্তু সে আশ্বাসের আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। বরং তা ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা চলছে।

উপরন্তু এবারও বিষাক্ত রাসায়নিক পানি চাঁনপুর বিলে ফেলা হচ্ছে। এতে করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ওই বিলের ফসলি জমি। কেউ এর প্রতিবাদ করলে প্রভাবশালী কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।

মঙ্গলবার সরেজমিন চাঁনপুর বিলে গিয়ে দেখা যায়, ধানের জমিতে প্রাণ কোম্পানির বিষাক্ত পানি ঢুকে পড়ায় ধান গাছ মরে যাচ্ছে। এ সময় কথা হয় স্থানীয় কৃষক মোস্তফা মিয়ার সঙ্গে।

তিনি আক্ষেপ করে জানান, গত বছর প্রাণ কোম্পানির বিষাক্ত পানি দুই বিলে ঢুকে পড়লে তাদের আবাদ নষ্ট হয়ে যায়। এবারও চাঁনপুর বিলের প্রায় ত্রিশ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। প্রাণের লোকজনকে বারবার নিষেধ করলেও তারা কথা কানেই তোলে না।

কৃষক সরেশ আলী জানান, আশ্বাস ছাড়া তারা কোনোদিনই ক্ষতিপূরণ পাননি। এ বছরও তাদের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। কার কাছে গেলে প্রতিকার পাবেন তিনি তাও জানেন না।

আক্ষেপ করে এ কৃষক যুগান্তরকে আরও বলেন, তাদের মতো গরিবের এই সমস্যা সমাধানে কেউ কিছু করছে না।

স্থানীয় কৃষক শহিদুল হক জানান, প্রভাবশালী কোম্পানি হওয়ায় তারা সাধারণ কৃষকদের মোটেই পাত্তা দিচ্ছে না।

খোদেজা বেগম নামে এক কৃষাণী জানান, প্রাণ কোম্পানির নোংরা পানি যেখান দিয়েই যাচ্ছে সেখানেই ক্ষতি হচ্ছে। এর স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার। তা না হলে সব হারিয়ে তাদের পথে বসতে হবে।

তিনি বলেন, প্রাণ কারখানার লোকজন শক্তি দেখায়, কৃষকদের তারা মানুষই মনে করেন না।

এ বিষয়ে নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, গত বছরের ক্ষতিপূরণ কেন কৃষকরা যে পাননি তা তার জানা নেই। এছাড়া এবার নতুন করে ফসল নষ্টের বিষয়টিও তিনি জানেন না। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তিনি অবহিত করবেন।

প্রাণের বর্জ্যে ফসল নষ্টের ক্ষতিপূরণ ও নতুন বর্জ্যে ফসল নষ্টের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন যুগান্তরকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ না দেয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না এবং কেউ তাকে জানাইনি। তবে তিনি জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেবেন।

এ ব্যাপারে নাটোর একডালায় প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক হজরত আলীর মতামত জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

আরও পড়ুন

‘প্রাণের বর্জ্যে’ প্রাণ যায়!

প্রাণ-আরএফএলে ভ্যাট গোয়েন্দার অভিযান

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter