ক্লিনিকে পরীক্ষার আগেই রিপোর্ট

অধিকাংশ হাসপাতালের নেই বৈধ কাগজপত্র

  হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জ শহরে ক্লিনিক ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে ক্ষুদ্র এ শহরে গড়ে উঠেছে ৫২ ক্লিনিক। যাদের অধিকাংশেরই নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র।

এসব ক্লিনিকে অগ্রিমই সব পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করে রাখা হয়। শুধু সিল, স্বাক্ষর ছাড়া সবই তাতে লেখা রয়েছে।

রোগী গেলে নামেমাত্র পরীক্ষা করে শুধু সিল, স্বাক্ষর দিয়েই তা ধরিয়ে দেয়া হয়। ফলে প্রতিদিনই প্রতারিত হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। ঠিকঠাকমতো রোগও ধরা পড়ছে না। চিকিৎসার নামে দেয়া হচ্ছে অপচিকিৎসা।

আর এসবের বিষয়ে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই স্বাস্থ্য বিভাগের। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে সামান্য কিছু জরিমানা করেন। অপরাধের তুলনায় তা অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে এসব ক্লিনিক মালিক আবার দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে অসাধু ব্যবসায় মেতে উঠে।

সরেজমিন খবর নিয়ে জানা যায়, মাত্র ৯ বর্গ কিলোমিটারের এ শহরে মোট ৫২ হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। নেই কোনো চিকিৎসা মূল্যের তালিকাও। নার্স দিয়েই দেয়া হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। একই ডাক্তারের নাম ব্যবহার করা হয় একাধিক ক্লিনিকে।

এসব ক্লিনিকের পরিচালকরা একে অপরের সহযোগিতা নিয়ে চলছেন। পরিচালকরা প্রথমে ক্লিনিকে রোগী ভর্তি করেন। পরে হিসাব-নিকাশ মিলে গেলে তারা রোগীকে ক্লিনিকে রেখে ডাক্তারের খোঁজখবর করেন। এমন অবস্থায় ডাক্তার না পাওয়া গেলে কোনো কোনো ক্লিনিকে নার্সের মাধ্যমেই চিকিৎসা দিয়ে রোগী ধরে রাখা হয়।

ফলে বিভিন্ন সময় ভুল চিকিৎসায় রোগী মারাও যায়। এছাড়াও এসব ক্লিনিক ও হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকট তো আছেই। অনেক পরীক্ষার যন্ত্র না থাকলেও তার পরীক্ষা করেন ক্লিনিক মালিকরা।

আর রোগী জোগাড় করার জন্য তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে অসংখ্য দালাল। যাদের বেশিরভাগই রিকশা, অটোরিকশা চালক। তাদের মাধ্যমে গ্রামগঞ্জ থেকে আসা সাধারণ সহজ-সরল রোগীদের এসব ক্লিনিকে নেয়া হয়। বিনিময়ে তারা যেমন ভাড়া পায়, তেমনি ক্লিনিক মালিকদের কাছ থেকে কমিশনও পায়।

এসব রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। বেশিরভাগ ক্লিনিকেই পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ফির কোনো মূল্য তালিকা নেই। যদিও হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে প্রতিটি ক্লিনিকে মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখা।

কিন্তু এ আদেশ উপেক্ষা করেই পরিচালকরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরে আসে। ফলে বুধবার শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকার কয়েকটি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে তাদের জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াছিন আরাফাত রানা জানান, তিনিসহ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাত আরা লিসা ও তাসলিমা শিরীন মুক্তার নেতৃত্বে শহরের ৩টি ক্লিনিকে অভিযান চালান। এ সময় দেখা গেছে ক্লিনিকগুলোতে অগ্রিম রিপোর্ট প্রিন্ট দেয়া রয়েছে।

পরীক্ষার পর শুধু স্বাক্ষর দিয়ে তা দিয়ে দেয়া হয়। অনেকেরই নিজস্ব কোনো ডাক্তার নেই। অনেকেরই মূল্য তালিকা নেই। যাদের আছে তারাও তালিকার চেয়ে অতিরিক্ত রোগীদের কাছ থেকে নিচ্ছে। তাদের মানি রিসিট পরীক্ষা করে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও তারা বিক্রি করছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter