ঢাকা-১৭ নির্বাচনী প্রচারণায় এরশাদ

খুন-গুম আর রক্তে দেশ আজ ভালো নেই

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খুন-গুম আর রক্তে দেশ আজ ভালো নেই

আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারে নামলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বৃহস্পতিবার দিনভর ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা এবং পথসভা করে নিজের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তিনি।

২০০৮ সালের নির্বাচনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঢাকা-১৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ ছাড়া তিনি ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিটি নির্বাচনে রংপুর থেকে জয়ী হয়ে আসছেন। আগামী নির্বাচনে রংপুরের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ আসন থেকেও নির্বাচন করার ঘোষণা দেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

বুধবার অনুষ্ঠিত দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সংসদ সদস্যদের যৌথ সভায়ও রংপুরের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ আসন থেকে তার নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়, হাতে আর সময় না থাকায় এখনই নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়ার। দলের সর্বোচ্চ ফোরামের এ সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর নির্বাচনী প্রচারণা চালান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত শাহজাদপুর, কড়াইল বস্তি ও মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত মেলান, কথা বলেন, আগামী নির্বাচনে তাকে লাঙ্গল প্রতীকে জয়ী করার জন্য আহ্বান জানান।

জনসংযোগ চলাকালে একাধিক পথসভায় বক্তৃতাও করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি বলেন, খুন-গুম আর রক্তে দেশ আজ ভালো নেই। শান্তির বাংলাদেশ এভাবে চলতে পারে না। মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, মানুষ বাঁচতে চায়। আমরা মানুষকে বাঁচাতে পথে নেমেছি। আমরা দেশের মানুষকে শান্তি দেব, মুক্তি দেব। প্রমাণ হয়েছে শুধু জাতীয় পার্টি ছাড়া কেউ এ দেশে সুশাসন দিতে পারে না। আমাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত। আমরা তিনশ’ আসনেই নির্বাচন করব।

এ সময় আরও বক্তৃতা করেন পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতী, সুনীল শুভ রায়, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, সফিকুল ইসলাম সেন্টু, আমির হোসেন ভূঁইয়া এমপি। বেলা ১১টায় বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসভবন থেকে বের হয়ে এরশাদ গুলশানের শাহজাদপুর ঝিলপাড়ে এক জনসভায় বক্তৃতা করেন। এরপর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন আনসার ক্যাম্প মাঠে এবং মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি।

এ সময় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আরও বলেন, আমি যখন ক্ষমতা ছেড়েছি তখন চালের দাম ১০ টাকা ছিল, নিত্যপণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল। তিনি বলেন, মধ্যম আয়ের দেশ ঘোষণায় যারা উল্লসিত, তারা গ্রামের খবর জানে না। মানুষের কষ্টের খোঁজ রাখে না। সবাই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ব্যস্ত, মানুষের কষ্টের খোঁজ রাখার সময় নেই কারও। তিনি বলেন, খবরের কাগজ খুললেই শুধু মানুষ খুন আর রক্তের খবর, ইচ্ছে করলেই এ খুন বন্ধ করা যায়। কিন্তু কারও খেয়াল নেই, কারও ইচ্ছে নেই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করার।

এরশাদ বলেন, ঢাকা-১৭ আসনের এমপি থাকাকালে এ এলাকায় পানির কষ্ট দূর করতে ১৪টি পানির পাম্প বসিয়েছিলাম। আমরা রাস্তাঘাট করেছি, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করেছি। তিনি বলেন, আবারও সুযোগ দিন, মানুষের কল্যাণে কাজ করতে এখনও বেঁচে আছি। মানুষের দোয়ায় আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য। তিনি বলেন, লাঙ্গলে ভোট দেবেন, আমরা মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেব। আমাদের চেয়ে কেউ বেশি উন্নয়ন করতে পারেনি, কেউ পারবেও না। এ সময় আগামী নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষের সমর্থন কামনা করলে- উপস্থিত জনতা হাত তুলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সমর্থন জানান।

সভায় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, রাজনীতির জীবন্ত কিংবদন্তি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এ দেশের মানুষের পরীক্ষিত বন্ধু। তিনি দেশে সুশাসন, কল্যাণ, উন্নয়ন ও জীবনের নিরাপত্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সব সেক্টরে ব্যর্থ হয়েছে, অথচ হুসেইন মুহম্মদ সফল ছিলেন। রুহুল আমিন হাওলাদার ঢাকা-১৭ আসনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নির্বাচিত করতে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চান।

জাতীয় পার্টির নেতা নুরুল ইসলাম নুরু, সুলতান আহমেদ সেলিম, হেলাল উদ্দিন, মোস্তফা আল ফয়সাল, সাইফুল ইসলাম পিটু, আবুল খায়ের, নুরুল ইসলাম, আবদুল আজিজ, আলাউদ্দিন মৃধা, এএনএম রফিকুল ইসলাম সেলিম, আবুল হাসেম, মো. আলী শেখ, জহিরুল ইসলাম মিন্টু, নুর ইসলাম, আবদুস সাত্তার, মিজানুর রহমান দুলাল, এমএ রহিম খান প্রমুখ নির্বাচনী প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter