খালেদা জিয়াকে সাজা দিতেই কারাগারে আদালত

আইনজীবী সমিতি

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে সাজা দিতেই কারা অভ্যন্তরে বেআইনিভাবে একটি অস্থায়ী আদালত বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা।

এদিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ দেশের সব আইনজীবী সমিতিতে মানববন্ধন এবং ১২ সেপ্টেম্বর প্রতীকী অনশন পালনের ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি নেতারা ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নেতারা।

সমিতির পক্ষে সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের যে ৭ নম্বর কক্ষটিকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে তা বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৩) নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫২ নম্বর ধারা পরিপন্থী।

আইন অনুযায়ী এটা উন্মুক্ত আদালত না হওয়ায় এবং সেখানে পাবলিক ট্রায়াল হওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় বেআইনি আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার বিচার কার্যক্রম চলার আইনগত কোনো সুযোগ নেই।

সভাপতি বলেন, জাতীয় নির্বাচন যখন আসন্ন ঠিক সে মুহূর্তে জনগণের দাবি ও দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপকৌশল হিসেবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ৩৬টি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। একটি মিথ্যা মামলায় সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, যেখানে আদালত বসানো হয়েছে, সেখানে পাবলিক তো দূরের কথা খালেদা জিয়া ও অন্য আসামিদের নিয়োজিত আইনজীবী কিংবা আত্মীয়-স্বজন প্রবেশ এবং আদালতের কার্যক্রম দেখাশোনার কোনো সুযোগ নেই। নাটক সিনেমায় যে রকম দেখানো হয় সেই আকৃতির একটি আদালত কক্ষ বসানো হয়েছে। যেটা একটি গুহার মতো স্যাঁতসেঁতে। সেখানে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার সুযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা ও ড. গোলাম রহমান ভুইয়া, সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সদস্য আহসানউল্লাহ ও ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান।

এ ছাড়া ফোরামের সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। এ সময় সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ড. রফিকুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম খান সজল প্রমুখ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আইন মন্ত্রণালয় থেকে গত ৪ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশেষ জজ আদালত-৫ এ বিচারাধীন বিশেষ মামলা নম্বর ১৮/২০১৭ এর বিচার কার্যক্রম পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষে অস্থায়ী আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার সেই আদালত বর্জন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।