সরকারি খাতে বিনামূল্যের সেবায় ফি আরোপের সুপারিশ

  দেলোয়ার হুসেন ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সোনালী ব্যাংক
ফাইল ছবি

সরকারি খাতে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বিনামূল্যে দেয়া বিভিন্ন সেবার বিপরীতে ফি আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক থেকে নামমাত্র মূল্যে যেসব সেবা দেয়া হচ্ছে, সেগুলোর বিপরীতে বাজারমূল্যের কাছাকাছি হারে ফি নির্ধারণের তাগিদ দিয়েছে সোনালী ব্যাংক।

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন।

চিঠিতে তিনি বলেন, সরকারের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোনালী ব্যাংক সরাসরি সরকার ও গ্রামেগঞ্জে সরকারি সেবা বিনামূল্যে বা আংশিক মূল্যে পৌঁছে দিচ্ছে। এতে ব্যাংকের অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে। কিন্তু এসব সেবার বিপরীতে প্রকৃত খরচের তুলনায় আয় হচ্ছে অনেক কম। ফলে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংক সরকারি খাতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিনামূল্যে ৩৭ ধরনের সেবা দিচ্ছে। নামমাত্র মূল্যে দিচ্ছে আরও ১৪ ধরনের সেবা। এর মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, অতি দ্রারিদ্র্য ভাতা, ভিক্ষুক ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, অবসরভোগীদের পেনশন ভাতা, বিভিন্ন বন্ড বিক্রি, সঞ্চয়পত্র বিক্রি, বিভিন্ন উৎসব ভাতা প্রভৃতি সেবা বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে।

এছাড়াও সরকারি নির্দেশে কম সুদে ঋণ বিতরণ, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ দেয়া, পরে এসব ঋণের অর্থ দীর্ঘমেয়াদি বন্ডে রূপান্তর করা হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের এলসি খোলার ক্ষেত্রে কমিশনের হার দেয়া হচ্ছে অনেক কম।

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ যুগান্তরকে বলেন, সরকারকে মোট ৫১ ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে। এসব সেবার বিপরীতে কিছু ফি দিলেও ব্যাংকের আয় বেড়ে যেত। এতে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি হতো না।

এ কারণে যেসব সেবায় কোনো ফি নেই, সেগুলোর বিপরীতে কিছু ফি আরোপ এবং যেগুলোয় নামমাত্র ফি রয়েছে, সেগুলোর ফি’র হার কিছুটা বাড়ানোর জন্য সুপারিশ করেছি। এগুলো করা হলে ব্যাংকের আয় বাড়বে, তখন ব্যাংকটি নিজ সক্ষমতায় চলতে পারবে। মূলধন ঘাটতি পূরণে টাকার জন্য সরকারের কাছে হাত পাততে হবে না।

চিঠিতে বলা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের এলসি খোলার ক্ষেত্রে কমিশনের হার শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ (৪০ পয়সা হারে)। কিন্তু ব্যাংক পাচ্ছে এর চেয়ে অনেক কম। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের ৯৪ হাজার ২৪৬ কোটি টাকার এলসির বিপরীতে মেয়াদকালীন কমিশনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। কিন্তু ব্যাংককে দেয়া হয়েছে মাত্র ২০ কোটি টাকা।

একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে মোটা অঙ্কের ঋণ দিচ্ছে ব্যাংক। কিন্তু ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধ করা হচ্ছে না। একপর্যায়ে সুদ পরিশোধ না করে ঋণ দীর্ঘমেয়াদি বন্ডে রূপান্তর করা হচ্ছে। এতে ব্যাংক সুদ আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বেসরকারি ব্যাংক থেকে সরকারি সংস্থা ঋণ নিলে বাণিজ্যিকভাবে সুদ দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে এলসি খোলার ক্ষেত্রে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ হারে কমিশনসহ অন্যান্য ফি দিতে হচ্ছে। অথচ সোনালী ব্যাংকের ক্ষেত্রে এসব কিছুই দেয়া হচ্ছে না।

এর আগে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বিদায়ী সচিব ইউনুসুর রহমান যুগান্তরকে বলেছিলেন, সরকারি সেবার বিপরীতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে ফি দেয়া উচিত। তা না হলে এসব ব্যাংক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter