খালেদা জিয়ার অসুস্থতা গুরুতর নয়: কারা কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা গুরুতর নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী।

তিনি শনিবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়া নতুন কোনো রোগে আক্রান্ত হননি। আগে যেসব রোগ ছিল এখনো তিনি সেসব রোগে ভুগছেন। আগে থেকেই তার পা এবং বাম হাতে সমস্যা ছিল। এখনো সে সমস্যা আছে। নতুন করে চোখের সমস্যার কথা বলা হলেও প্রকৃত অর্থে খালেদা জিয়ার চোখে কোনো সমস্যা নেই।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত বৃহস্পতিবার বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো অসুস্থ নাগরিক সুস্থ না হলে বিচার কাজ চালানো যায় না। এটা সম্পূর্ণ অমানবিক ও সংবিধান পরিপন্থী।

অন্যদিকে একই দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার পর তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার বাম পাশ অবশ। চোখও রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি উঠে দাঁড়াতে পারছেন না। অবস্থা খুবই খারাপ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়া হোক।

এসব বিষয় নিয়ে সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী আরো বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থার মাত্রা সার্বিকভাবে খুব বেশি খারাপ না। বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিমের পরামর্শ অনুযায়ী বেশ কিছুদিন আগেই তার রক্ত ও ইউরিন টেস্ট করা হয়েছে। এতে কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। তারপরও তাকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ বারবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তিনি রাজি না হওয়ায় সেখানে নেয়া সম্ভব হয়নি। খালেদা জিয়া রাজি থাকলে যে কোনো সময় তাকে সেখানে চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুবুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একজন নারী ফিজিও থেরাপিস্ট সপ্তাহে পাঁচদিন খালেদা জিয়াকে থেরাপি দেন। কারা সদর দফতর থেকে রিফাত জামান নামের একজন ডাক্তার নিয়মিত পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে যাচ্ছেন।

তিনি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি চেকআপ করছেন। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মামুুন প্রায়ই তার সঙ্গে দেখা করছেন। রুনা নামে একজন নারী ফার্মাসিস্ট তার সেবায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছেন। সুতরাং তার চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ সঠিক নয়।