মন্ত্রিসভায় নীতিমালা অনুমোদন

মোটরসাইকেল শিল্পে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ১৫ লাখ

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

দেশেই বিশ্বমানের মোটরসাইকেল তৈরি করে ২০২৭ সালের মধ্যে এ খাতে ১৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির টার্গেট রেখে ‘মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা-২০১৮’ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এ সময়ের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে ১০ লাখ মোটরসাইকেল তৈরির টার্গেট নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন-২০১৭’ আইনটির খসড়া অধিকতর পরীক্ষার জন্য ৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন এবং ‘বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আইন-২০১৮’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এ নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে একাত্তরের জননীখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা রমা চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

শফিউল আলম বলেন, দেশীয় মোটরসাইকেল শিল্পের প্রসার ঘটাতে এই নীতিমালা করা হয়েছে, যেন মোটরসাইকেল আমদানি করতে না হয়। বাংলাদেশে বিদ্যমান মোটরসাইকেল সংযোজন শিল্পের পরিবর্তে বিশ্বমানের মোটরসাইকেল উৎপাদন কারখানা নির্মাণের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হবে।

এর উদ্দেশ্য এ খাতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। নীতিমালায় মোটরসাইকেল খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে তা ১৫ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নীতিমালার উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন করে মোটরসাইকেল তৈরি বা সংযোজন যেটাই করা হোক দেশীয় শিল্পকারখানার মাধ্যমে উৎপাদন করা হবে।

দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে পাঁচ লাখ এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ১০ লাখ মোটরসাইকেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শফিউল আলম বলেন, দেশে মোটরসাইকেল তৈরি করে তা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হবে। মোটরসাইকেল শিল্প থেকে জিডিপিতে অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১৫ সালের মধ্যে তা ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সোমবারের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন-২০১৭-এর খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়নি। আইনটির খসড়া অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি করা হয়েছে। কমিটি যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দেবে।

তারপর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে। কমিটির সদস্যরা সবাই সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী এবং সবাই প্রকৌশলী। তারা হলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

শফিউল আলম জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আইন-২০১৮-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ আইনে ১৯ সদস্যের বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর আগে শিশু একাডেমি ১৯৭৬ সালের অধ্যাদেশ অনুসারে চলছিল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, উচ্চ আদালত এবং মন্ত্রিসভার নির্দেশ রয়েছে অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত এবং বাংলায় রূপান্তর করতে হবে।

তাই এ আইন অনুমোদন করা হয়েছে। এ আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ শিশু একাডেমির প্রধান দফতর ঢাকায় স্থাপিত হবে। তবে সরকারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশের অন্যান্য বিভাগ এবং জেলাগুলোয়ও শিশু একাডেমির অফিস স্থাপন করা যাবে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালনা ও প্রশাসন সরকার গঠিত বোর্ডের ওপর ন্যস্ত থাকবে।

ব্যবস্থাপনা বোর্ড নামে পরিচিত এ বোর্ডে একজন চেয়ারম্যানসহ মোট ১৭ জন সদস্য থাকবেন। বোর্ডে নতুন করে আইসিটি ডিপার্টমেন্টের একজন প্রতিনিধি থাকবেন। এর আগে গত ৯ জুলাই বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আইন-২০১৮-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বাংলাদশ শিশু একাডেমির নতুন আইনের ৮ ধারা মোতাবেক ফেলোশিপ প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। ফেলোশিপ দেয়ার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির নতুন আইন অনুসারে পরিচালকের জায়গায় মহাপরিচালক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। বোর্ডের এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম হবে এবং বোর্ড বছরে ছয়টি সভা করবে। ব্যবস্থাপনা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সরকার নিযুক্ত করবে। চেয়ারম্যানের চাকরি সরকারের বিধির মাধ্যমে নির্দেশিত হবে। তবে তিনি সার্বক্ষণিক হবেন না।