দুর্গ ভাঙতে তৎপর বিএনপি আ’লীগ চায় নতুন প্রার্থী

মাঠে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম নুরু

  জাফর আহমেদ, টাঙ্গাইল ও মো. সাজজাত হোসেন, মির্জাপুর ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ-বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশেই নির্বাচনী হাওয়া। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও শুরু হয়েছে নানা মেরুকরণ। দলগুলো ভেতরে ভেতরে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও সেরে ফেলেছেন বলে বলাবলি হচ্ছে। বসে নেই মির্জাপুর উপজেলা নিয়ে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

তৃণমূল ও কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণে আটঘাট বেঁধে মাঠে তৎপর প্রার্থীরা। নির্বাচন ঘিরে সভা, সমাবেশ, ওয়াজ-মাহফিলসহ মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী এবং ডিজিটাল মির্জাপুর গড়ার প্রতিশ্র“তি নিয়ে হাজির হচ্ছেন প্রার্থীরা।

একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসনের বর্তমান এমপি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন। আওয়ামী লীগের হ্যাভিওয়েট নেতা টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট খান আহমেদ শুভও প্রার্থী হিসেবে তৎপর।

এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল জেলা ও মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মেজর (অব.) খন্দকার এ হাফিজ, মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল।

আসনটি এখন আওয়ামী লীগের দুর্গ হলেও এটি ভাঙতে তৎপর বিএনপি। আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় সংসদের বাইরে থাকা দলটি। নির্বাচনে অংশ নেয়া না-নেয়া নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও মির্জাপুরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে তৎপর রয়েছেন।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে গণসংযোগে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শিশুবিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হলের সাবেক জিএস মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ সোহরাব ও টাঙ্গাইল জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা মো. ফিরোজ হায়দার খান।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়াও বর্তমান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতারাও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়। আসনটি একসময় জাতীয় পার্টিরও দখলে ছিল। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসনটি এখন আওয়ামী লীগের দখলে। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম নুরু ও কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম জহির এ আসনে মনোনয়ন পেতে গণসংযোগ এবং কেন্দ্রে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। পৃথকভাবে সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন।

১৯৭৩ সালের নির্বাচনে এমপি হন আওয়ামী লীগের ফজলুর রহমান খান। ১৯৭৯ সালে বিজয়ী হন বিএনপির শাহ মোস্তানজিদুল হক খিজির মিয়া, ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে এমপি হন ওয়াজেদ আলী খান পন্নী, ১৯৯১ সালে বিজয়ী হন বিএনপির খন্দকার মো. বদর উদ্দিন, ১৯৯৬ সালে এমপি হন বিএনপির আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, ২০০১ সালে মো. একাব্বর হোসেনের হাত ধরে আসনটি পুনরুদ্ধার করে আওয়ামী লীগ। পরের দুই দফা ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনেও এমপি হন একাব্বর হোসেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন মির্জাপুরের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন। তবে তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে জমি দখল, বিভিন্ন বালুমহাল থেকে অবৈধ অর্থ উত্তোলন, কুমুদিনি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সঙ্গে বিবাদসহ নানা কারণে সাধারণের মধ্যে কিছুটা হলেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কথা হয় এমপি একাব্বর হোসেনের সঙ্গে।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, মির্জাপুরে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, বেশকিছু চলমান রয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে মির্জাপুরে যে উন্নয়ন হয়েছে, তার ৪৭ বছরেও তা হয়নি। আশা করছি, শেখ হাসিনা আমাকেই মনোনয়ন দেবেন এবং নির্বাচিত হব।

আরেক প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খান আহমেদ শুভও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তার বাবা ফজলুর রহমান খান ফারুক ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে এ আসন থেকে এমপি হন। তার হাতেই মির্জাপুরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে উঠে।

তিনি জেলা পরিষদের দায়িত্ব থাকার সময় এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন। বাবার এই অবদান শুভকেও সম্মানজনক একটি অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। শুভও দীর্ঘদিন ঘরে দলকে সংগঠিত করে আসছেন। গরিব-দুঃখীদের সাহায্যে দুই হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন সর্বদা। কথা হয় খান আহমেদ শুভর সঙ্গে।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমি দলের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। তৃণমূল ও নতুন প্রজন্মের ভোটাররা আমার সঙ্গে রয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দিলে অবশ্যই নির্বাচিত হয়ে মির্জাপুরকে ডিজিটাল, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও ইভটিজিংমুক্ত আধুনিক শহরে পরিণত করব।

কথা হয় গণসংযোগে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ প্রার্থী মেজর (অব.) খন্দকার এ হাফিজের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছি। জনগণের ব্যাপক সারা পাচ্ছি। আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি অবশ্যই বিজয়ী হব।

জানতে চাইলে মীর শরীফ মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ৩৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছি। ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ দলের অঙ্গসংগঠনগুলো আমার হাতে গড়া। মানুষের বিপদাপদে সর্বদা পাশে আছি, পাশে থাকব। জনগণের সঙ্গে রয়েছে আমার আত্মার সম্পর্ক। পাহাড়ি এলাকায় আমার বাড়ি, ফলে ভোটের সময় আমার পক্ষে সবাই একজোট হয়ে মাঠে নামবে। মনোনয়ন পেলে বিজয় নিশ্চিত।

এদিকে দলীয় কোন্দল মিটিয়ে আওয়ামী লীগের দুর্গ ভাঙতে মরিয়া বিএনপি। বিএনপি নেতারা বলছেন, দল যাকেই মনোনয়ন দেবে, তার পেছনে বিএনপি একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করবে।

জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে মির্জাপুরে দলের সব কেন্দ্রীয় কর্মসূচি আমার নেতৃত্বে পালিত হচ্ছে। আন্দোলন-সংগ্রামে মির্জাপুর উপজেলা বিএনপি বেশ চাঙ্গা।

এছাড়া এমপি থাকাকালে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এজন্য স্থানীয়রা আমাকে নির্বাচিত করার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে। মির্জাপুরের উন্নয়নের জন্য দল অবশ্যই আমাকে মনোনয়ন দেবে। দলে কোনো কোন্দল নেই। জয়ের ব্যাপারে পূর্ণ আশাবাদী।

একসময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ সোহরাব দলের মনোনয়ন প্রত্যাশায় নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ১৯৯৬ সালে দল প্রথমে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। পরে পরিবর্তন করা হলেও দলের বৃহত্তর স্বার্থে আমি মেনে নিই এবং দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আমি সক্রিয় রয়েছি। আগামী নির্বাচনে দল আমাকে মনোনয়ন দিলে অবশ্যই বিজয়ী হব।

জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ফিরোজ হায়দার খানও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মুক্তি আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছি এবং মির্জাপুরে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি। রাজপথের মানুষ হিসেবে দল আমাকে মনোনয়ন দিলে জয়ের ব্যাপারে পুরোপুরি আশাবাদী।

কথা হয় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম নুরুর সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, একসময় এলাকাটি জাতীয় পার্টির ঘাঁটি ছিল। আমি দীর্ঘদিন ধরেই দলকে উজ্জীবিত করতে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে উঠোন বৈঠক, সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছি। আগামী নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

দলের আরেক প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই গণসংযোগ করে যাচ্ছি। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মনোনয়ন দিলে দলকে আসনটি উপহার দিতে পারব বলে আশাবাদী।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter