অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির বৈঠক

১২২ সুপারিশের ৮২টিই বাস্তবায়িত হয়নি

আলোর মুখ দেখেনি ঋণের সুদহার হ্রাস এবং রিজার্ভ চুরির প্রতিবেদন প্রকাশ

  মিজান চৌধুরী ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

১২২ সুপারিশের ৮২টিই বাস্তবায়িত হয়নি

ঋণের উচ্চ সুদহার কমানো, অর্থ পাচার রোধে পদক্ষেপ ও রিজার্ভ চুরির প্রতিবেদন প্রকাশসহ অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১২২ সুপারিশের ৮২টিই বাস্তবায়িত হয়নি। দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারে কমিটির ২৫টি বৈঠকে সুপারিশগুলো করা হয়েছিল। দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে এলেও সুপারিশের ৩ ভাগের ২ ভাগই আলোর মুখ দেখেনি।

জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় মনে অনেক কষ্ট ও দুঃখ আছে। অর্থমন্ত্রী এসব সুপারিশ গুরুত্ব দেননি। তিনি নিজেও বৈঠকে আসেন না। অর্থমন্ত্রী নিজের মতো করে চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে আর্থিক খাত এখনকার চেয়ে অনেক ভালোর দিকে যেত।

জানা গেছে, দশম জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে করা সুপারিশগুলোর ৪০টি বাস্তাবায়িত হয়েছে মাত্র। সুপারিশ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অধিক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ার তালিকাই বেশি। অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণগুলোই বাস্তবায়ন হয়েছে। বর্তমানে দেশে আর্থিক খাত বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা নাজুক। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। দেশের বাইরেও বহু টাকা পাচার হয়েছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে দেশকে বের করে আনতেই স্থায়ী কমিটি আর্থিক খাত সংস্কার ও উন্নয়নের সুপারিশ করেছিল।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে বিনিয়োগ ও উন্নয়নের স্বার্থে ব্যাংক ঋণের সুদ হার কমাতে একাধিক সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি উচ্চ সুদের বিষয়ে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে গবেষণার সুপারিশও করে কমিটি। দেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণের সুদ হার ১০ ভাগের নিচে নামানোরও সুপারিশও ছিল। বিনিয়োগ বাড়াতে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল, চীন, মালয়েশিয়া এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে তুলনা করে দেশের আমানত ও ঋণের সুদ হার নির্ধারণের সুপারিশ করে কমিটি। এছাড়া ব্যাংকের কস্ট অব অপারেশন, সার্ভিস চার্জসহ অন্য ব্যয় কমানো, ক্রেডিট কার্ডে অতিরিক্ত সুদ আদায় করে গ্রাহক হয়রানি বন্ধ ও প্রকৃত উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার বিষয়টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নিশ্চিত করার কথাও সুপারিশে উঠে আসে। বহুল আলোচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি সংক্রান্ত ড. ফরাসউদ্দিনের প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছিল কমিটি। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়।

কথা হয় অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, স্থায়ী কমিটিকে পর্যাপ্ত সহায়ক করছে না অর্থমন্ত্রী। সবশেষ বৈঠকে এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়েছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সুশীল সমাজের স্বনামধন্য ব্যক্তিদের জন্মদিন, বইয়ের মোড়ক

উন্মোচনসহ কম গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অর্থমন্ত্রী থাকেন না। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও বাস্তবায়ন হয় না।

অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল স্থায়ী কমিটি। পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণসহ এ সংক্রান্ত অনেক সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে কানাডা, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও দুবাইসহ অন্যান্য দেশে অর্থ পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়। বাংলাদেশের বিত্তবানদের সেকেন্ড হোমের মালিক হওয়া, তাদের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার, বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন এমন ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটকে সুনির্দিষ্ট ঘটনা শনাক্ত করে তদন্তের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক, দুদক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের কথা বলা হয়। বলা হয়, দুদককে পৃথক উইং খুলতেও। এছাড়া আমদানি-রফতানির আড়ালে কর ফাকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে। অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভুয়া সরবরাহ আদেশ ও ঋণের আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচারকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়।

এছাড়া বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আয়করের পরিধি বাড়াতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সম্ভাব্য ব্যক্তিদের কর নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণখেলাপি সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে পৃথক বেঞ্চ গঠন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর জন্য পৃথক পে-স্কেল নির্ধারণের সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]om

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter