এ্যানি রহমানের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ

  আকতার ফারুক শাহিন, পিরোজপুর থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নের আশায় গত কয়েক মাস ধরে পিরোজপুর-১ আসনের ৩ উপজেলায় প্রচারে থাকা শেখ এ্যানি রহমানের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে পিরোজপুর শহরের ক্লাব রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা প্রয়াত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এনায়েত হোসেন খানের মেয়ে এ্যানি। হামলাকারীরা তার গাড়িবহর লাখ করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং তাদের ঠেকাতে তার স্বামী আর দেহরক্ষীরাও পাল্টা ফাঁকা গুলি করে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে পুলিশ গুলির আওয়াজের কথা স্বীকার করলেও উভয় পক্ষই তা করেছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির বলেন, বাইরে থেকে গুলির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এ্যানি রহমানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা গুলি ছুড়েছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা পুরো ঘটনার তদন্ত করছি। তদন্ত শেষেই কেবল বলা যাবে যে ওই রাতে আসলে কী ঘটেছিল।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ্যানি রহমান হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ওই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভায় তার লোকজন এজন্য পিরোজপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং মনোনয়ন প্রত্যাশী হাবিবুর রহমান মালেককে দায়ী করেছেন। এর প্রতিবাদে বুধবার বিকালে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে মেয়র মালেকের কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে- সন্ধ্যার পর শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া।

দলে কোনো পদ-পদবি না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিচয়ে প্রায় ৮-৯ মাস ধরে পিরোজপুর সদর আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের আশায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন এ্যানি রহমান। মঙ্গলবার তিনি ঢাকা থেকে প্রথমে টুঙ্গিপাড়ায় যান। সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে পিরোজপুরের উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ পিরোজপুর শহরের ক্লাব রোড এলাকা অতিক্রমকালে গোলমাল বাঁধে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সড়কের আশপাশের কয়েকজন দোকানি জানান, এ্যানি রহমানের গাড়ির সামনে থাকা মোটরসাইকেল বহরের একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে যাত্রীবাহী রিকশার ধাক্কা লাগলে দু’পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় সেখানে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা শ্রমিক লীগের এক নেতাসহ অন্য লোকজন মোটরসাইকেল আরোহীদের ধর ধর বলে ধাওয়া দিলে বহর ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পেছনে গাড়িতে থাকা এ্যানি রহমান ও তার লোকজনের কাছে খবর পৌঁছায় যে বহরে হামলা হয়েছে। এমন খবরে এ্যানির স্বামী শেখ হাফিজুর রহমান টোটন নিজের লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এ্যানির দেহরক্ষীরাও ছোড়ে আরও কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি। গুলির আওয়াজে বহরের মোটরসাইকেল আরোহীদের ধাওয়া দেয়া যুবকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর আরও দুই দফা শোনা যায় গুলির আওয়াজ।

এ ব্যাপারে এ্যানি রহমান যুগান্তরকে বলেন, আমার গাড়িবহর ক্লাব রোড এলাকা অতিক্রমকালে হামলা চালায় মুখে কালো কাপড় বাঁধা একদল যুবক। তারা আমার বহর এমনকি আমার গাড়ি লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি করে। আত্মরক্ষার্থে আমার স্বামী তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর থানা এলাকা এমনকি আমার বাসার সামনেও গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এই দুটি স্থানেও পাল্টা ফাঁকা আওয়াজ করে তাদের হটিয়ে দেন আমার স্বামী ও দেহরক্ষীরা। এই ঘটনার জন্য আপনি সরাসরি কাউকে দায়ী করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা কারও অজানা নয়। তবে আমি কারও নাম বলতে চাই না।’

হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতেই বিক্ষোভ সমাবেশ করে এ্যানি রহমানের কর্মী সমর্থকরা। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক সরদার ফারুক আহম্মেদ ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল ইসলাম লিটনসহ অন্যরা। সভায় বক্তারা এই ঘটনার জন্য পৌর মেয়র মালেক ও তার লোকজনকে দায়ী করে বক্তব্য রাখলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বুধবার বিকালে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয় মালেক সমর্থকরা। বিকাল ৫টা নাগাদ মালেক সমর্থক কয়েক হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে শহরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিলাস চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এই সমাবেশ শেষ হতে না হতেই এ্যানি রহমানের কয়েক শ’ কর্মী সমর্থক শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্লাব রোড এলাকা থেকে বিলাস চত্বরের দিকে যাওয়ার সময় তাদেরকে ধাওয়া করে মেয়র মালেক সমর্থক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ধাওয়ার মুখে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে খবর পেয়ে শহরের অন্যান্য এলাকায় পথে নামার চেষ্টা করে এ্যানির লোকজন। তাদের ঠেকাতে পুরো শহর জুড়ে লাঠিসোটা নিয়ে মহড়া দেয়া শুরু করে মালেকের লোকজন। ২-১টি এলাকায় এ্যানির সমর্থকদের ধাওয়া দেয়ার ঘটনাও ঘটে। সন্ধ্যা ৭টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শহরজুড়ে লাঠিসোটাধারীদের মহড়ায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম জিয়াউল কবির বলেন, এ্যানি রহমানের লোকজন শহরের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। অন্য কেউ গুলি করেছে এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ এখনও আমরা পাইনি। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরে পুলিশ টহল দিতে শুরু করেছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.