সিলেটে ছেলেসহ ফের কারাগারে রাগীব আলী

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সিলেট ব্যুরো

ভূমি আত্মসাৎ ও জালিয়াতির মামলায় সিলেটের বিতর্কিত শিল্পপতি রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে ফের কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শামিম আহমদ জানান, সিলেটের তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভূমি আত্মসাৎ ও জালিয়াতির একটি মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে আলোচিত এই মামলায় ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পাঁচটি পৃথক ধারায় সর্বমোট ১৪ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরুর আদালত। এরপর চলতি বছরের ৯ আগস্ট এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করলে সেদিন নিম্ন আদালতের দেয়া ১৪ বছরের সাজা বহাল রেখে রায় এবং নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন বিশেষ জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক। সিলেটের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি রাগীব নিজ অনুসারীদের কাছে ‘দানবীর’ নামে খ্যাত ছিলেন। এই মামলায় বছরখানেক জেল খাটার পর বুধবার পর্যন্ত ছেলেসহ জামিনে ছিলেন তিনি।

মামলার বিবরণ : সিলেটের হাজার কোটি টাকার তারাপুর চা বাগান দেবোত্তর সম্পত্তি। জালিয়াতি ও প্রতারণা করে এই বাগান দখল নেয়ার অভিযোগ ওঠে রাগীব আলীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর ১৯৯৯ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির অভিযোগে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তৎকালীন ভূমি কমিশনার (এসিল্যান্ড) এসএম আবদুল কাদের। এছাড়া সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন তিনি। মামলায় ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গায় গড়ে ওঠা সিলেটের দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগানের জমি আত্মসাতের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জাল করার অভিযোগ আনা হয়ে রাগীব আলী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। এই মামলার বিরুদ্ধে রাগীব আলী উচ্চ আদালতে গেলে দীর্ঘদিন পর ২০১৬ সালের শুরুতে তা নিষ্পত্তি হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে মামলা পুনরায় চালুর নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে তারাপুর চা-বাগান দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়। ওই আদেশের পর একই বছরের বছরের ১৫ মে চা-বাগানের বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়াও ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। মামলা হওয়ার ১১ বছর পর ২০১৬ সালের ১০ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের অতিরিক্ত সুপার সারোয়ার জাহান আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ওই বছরের ১০ আগস্ট গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে রাগীব আলী ও তার একমাত্র ছেলে আবদুল হাই ওই দিনই জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সপরিবারে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ১২ নভেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইকে গ্রেফতার করে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশ। আর ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ২৪ নভেম্বর ভারতে গ্রেফতার হন রাগীব আলী। ওই দিনই সিলেটের সুতারকান্দি সীমান্ত দিয়ে তাকে দেশে এনে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর শুরু হয় বিচার কার্যক্রম।