গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর

কাল্পনিক ঘটনার মামলায় গ্রেফতার বিএনপি নেতাকর্মী

  গাজীপুর ও শ্রীপুর প্রতিনিধি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর

শ্রীপুর উপজেলায় কাল্পনিক ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে পুলিশ। রাজাবাড়ী ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুরে সোমবার পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা সাজিয়ে মামলা করে পুলিশ।

ওই ঘটনায় ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করার কথা বলা হলেও পরিবারের সদস্যরা বলছেন ভিন্ন কথা।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলে একটি মোটরসাইকেল পোড়ার ঘটনা ঘটলেও পুলিশের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। অথচ ওই ঘটনায় দায়ী করে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আবার চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকলেও বিএনপি নেতাকে ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

রাজেন্দ্রপুরের নোয়াগাঁও এলাকায় সোমবার রাত ৯টার দিকে ককটেল হামলা ও মোটরসাইকেল পোড়ানোর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মঙ্গলবার শ্রীপুর থানায় মামলা করা হয়। মামলাটি করেন শ্রীপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মালেক।

ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো ব্যক্তিরা সবাই বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী।

তারা হলেন- শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩০) ও আবু সাঈদের ছেলে মো. নাঈম (২২), চন্নাপাড়া গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে হুমায়ুন কবীর (৩৩) ও আবুল হোসেনের ছেলে সবুজ মিয়া (৪৫), বহেরারচালা গ্রামের জহির উদ্দিন আকন্দের ছেলে আমীর হোসেন আকন্দ (৪২) এবং দক্ষিণ ভাংনাহাটি গ্রামের মালেক ভূঁইয়ার ছেলে ফারুক ভূঁইয়া (৩৫)।

তাদের ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার দেখানো হলেও পরিবারের সদস্যদের দাবি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজ উদ্দিন কাঁইয়া, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন মৃধা, রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাইফুল হক মোল্লা।

মামলার বিবরণে বলা হয়- সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজেন্দ্রপুর বাজার থেকে লোহাগাছিয়া সড়কে মোটরসাইকেল ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়।

এই সময় পুলিশ ১৮ রাউন্ড গুলি ছুড়ে এবং ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। ভাংচুর ও বিস্ফোরণে বিএনপির চিহ্নিত ৪২ ও অজ্ঞাত ৮০ জন নেতাকর্মী অংশ নেয়। ঘটনার পর পরই তারা পালিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছু স্থানীয় কয়েকজন চা বিস্কুট বিক্রেতা জানান, ঘটনাস্থল বা তার আশপাশে পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা তারা দেখেননি। কোনো হৈচৈ তারা শোনেননি। তবে একটি মোটরসাইকেল পোড়ার ঘটনা তারা দেখেছেন।

এ সময় মোটরসাইকেলটির আশপাশে পুলিশের একাধিক গাড়ি তারা দেখেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ কাউকে ভিড়তে দেয়নি। যিনি মোটরসাইকেলের আগুন নিভান তার কাছ থেকে কাগজে সই নিয়েছে পুলিশ।

পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারের স্ত্রী গোলাপী বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চন্নাপাড়া মেঘনা গেটের সামনে মামুনের চা স্টল থেকে তার স্বামীকে পুলিশ আটক করে।

একই সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশ থেকে শ্রীপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও ফার্নিচার ব্যবসায়ী সবুজকে আটক করে পুলিশ।

সবুজের ছোট ভাই হারিছ মিয়া বলেন, সোমবার রাত ৮টার দিকে চন্নাপাড়া শ্রীপুর টেক্সটাইলের সামনে থেকে তার ভাইকে আটক করা হয়। শ্রীপুর পৌর জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আমীর হোসেনের স্ত্রী নাসিমা বলেন, সোমবার বেলা ২টার দিকে আনসার রোড এলাকার ফার্মেসি থেকে তার স্বামীকে পুলিশ আটক করে।

শ্রীপুরের রাজাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহানুর সরকার বলেন, সোমবার দুপুরের আগেই পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় বিএনপির কর্মসূচি শেষ হয়ে যায়। রাত ৯টায় কখনও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন হয় না।

তিনি বলেন, মামলায় যাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তাদের ঘটনাস্থল থেকে নয় কমপক্ষে ২৫ কিলোমিটার দূরে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অথচ কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে মামলা করা হচ্ছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী ও শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মালেক বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে তারা বিস্ফোরণ, নাশকতা ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চেয়েছিল।

মামলার বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, শ্রীপুরের রাজেন্দ্রপুরে রাত ৯টার দিকে পুলিশ ভ্যানগাড়িযোগে মোটরসাইকেল নিয়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করেছে। অথচ বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতেই পুলিশকে দিয়ে সরকার এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।

তিনি বলেন, সোমবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলেও তার নামে গাজীপুরে মামলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়্যেদুল আলম বাবুল চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর রয়েছেন, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজ উদ্দিন কাঁইয়া মঙ্গলবার রাতে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন। অথচ তাদেরও গাজীপুর ও শ্রীপুরের ঘটনায় পৃথকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

শ্রীপুরের রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি নেতা কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাতে বিএনপি কার্যক্রম চালাতে না পারে সেজন্য কাল্পনিক মামলা করা হয়েছে।

এদিকে, জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বাসেদ বাদী হয়ে ১৪০ জনের নাম উল্লেখ করে মঙ্গলবার বিশেষ ক্ষমতা আইনে জয়দেবপুর থানায় আরেকটি মামলা করেছেন। মামলাটিতে বিএনপির ৪৪০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের কাজে বাধা, রাস্তায় বেআইনি সমাবেশ ডেকে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে যানবাহন ভাংচুর এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। মামলায় আসম হান্নান শাহের ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

এতে জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, চিকিৎসা নিতে বিদেশে অবস্থান করা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়্যেদুল আলম বাবুল, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ও ডা. মাজহারুল আলমকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ওই মামলায় অজ্ঞাত ২০০ থেকে ৩০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter