নাটোর-৪ আসন

বিএনপির কোন্দল এড়াতে দুলুকে প্রার্থী করার দাবি

  যুগান্তর রিপোর্ট, নাটোর ও গুরুদাসপুর প্রতিনিধি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। ফাইল ছবি

নাটোর-৪ আসনে দলীয় কোন্দলে স্থানীয় বিএনপি এখন তিন ভাগে বিভক্ত। দলের ভেতরে উপদলীয় কোন্দলে তৃণমূল নেতাকর্মীরাও পড়েছেন বিপাকে।

১২ বছর বিএনপি ক্ষমতায় নেই, আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে পাঁচ বছর সংসদেও নেই। তার ওপর হামলা-মামলা ও পুলিশি নির্যাতন এবং গ্রেফতার আতঙ্কে বিএনপি এখন কোণঠাসা।

দল ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম মোজাম্মেল হক এলাকা ছাড়া হয়ে ঢাকায় থাকছেন। ওই এলাকায় সাংগঠনিক কাজেও ভাটা পড়েছে।

এতে করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী সংকট দেখা দেয়ায় জেলা বিএনপি সভাপতি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে নাটোর-৪ আসনে প্রার্থী করার দাবি উঠেছে।

এটি পূরণ করা হলে ওইসব সংকট কেটে যাবে বলে দলের প্রায় সব পর্যায়ের নেতাকর্মী-সমর্থকরা মনে করছেন। তাদের মতে আওয়ামী লীগকে খুব সহজে পরাস্ত করতে সেখানে বিএনপির দুলুই একমাত্র হেভিওয়েট প্রার্থী হতে পারেন।

বড়াইগ্রাম আর গুরুদাসপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছাড়া প্রায় সব সরকারের সময়েই গুরুদাসপুর থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় মূলত সেখানেই সংকট বেশি।

গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম মোজাম্মেল হক এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আয়নাল হক তালুকদার পৃথকভাবে তিন মেরুতে থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এতে আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির তেমন কোনো কর্মসূচিই দেখা যাচ্ছে না। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমান শাহ্ মারা যাওয়ার পর দলের হাইকমান্ড সাবেক মেয়র আমজাদ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করেছেন।

ছোট আকারে হলেও তিনিই বিএনপির মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে থেকে যুবদল ও ছাত্রদলকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন।

তিনি স্থানীয় সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পক্ষে দলীয় সংকট নিরসনে এ আসনে প্রার্থী হিসেবে দলের যোগ্য, শক্তিশালী ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে নাটোর জেলা বিএনপি সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে দলীয় প্রার্থী করার দাবি জানিয়েছেন।

বড়াইগ্রামে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ একরামূল হক ২০১৪ সালে মারা যাওয়ায় এবং উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ অনেকটা স্বেচ্ছাচারিতা করে দল চালানোর কারণে দুই উপজেলাতেই বিএনপির রাজনীতিতে ভাটা পড়েছে।

এছাড়াও আব্দুল আজিজ দলের সভাপতি হয়েও ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়া এবং বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে না থাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আরও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। এসব কারণে দুই উপজেলায় বিএনপি নেতৃত্বে সংকট বেড়েছে এবং দেখা দিয়েছে প্রার্থী জটিলতাও।

গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র মো. আমজাদ হোসেন বলেন, গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ দলীয় নেতাকর্মীদের মতামতকে উপেক্ষা করে আগামী নির্বাচনে নিজেই প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

তার বিরুদ্ধে তৃণমূলের পকেট কমিটি গঠন ও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈরী আচরণের অনেক অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীরা তার দিক থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নাজমুল করিম নজু বলেন, বিএনপি দীর্ঘ দিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকায় সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম মোজাম্মেল হক এলাকায় থাকেন না। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ নানা কারণে বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন।

এসব কারণেই দলের ভেতরে কলহ নিরসনে এখন প্রায় সবাই স্থানীয় কোনো নেতাকেই আর আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী না করার পক্ষে। তবে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে ওই আসনে প্রার্থী করার দাবি তাদের সবার।

গুরুদাসপুর পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মশিউর রহমান বাবলু বলেন, দলের সাংগঠনিক অবস্থা বিবেচনা করে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে ওই আসনে প্রার্থী করা হলে দলের ভেতরে আর কোনো কোন্দল বা উপদলীয় কোন্দল থাকবে না বলে মনে করেন। তবে তিনিও মনোনয়ন চাইবেন।

গুরুদাসপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দুলাল সরকার মনে করেন, বিএনপি দীর্ঘ দিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। সেই সুযোগে সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম মোজাম্মেল হক ও পৌর বিএনপির সভাপতি মশিউর রহমান বাবুলও এলাকায় থাকেন না।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ নানা কারণে দলে বিতর্কিত। তাদের কারণেই অন্তর্কলহে দলটি কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে ওই আসনে প্রার্থী করার কথা ভাবছেন সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

তারা মনে করেন, দুলু প্রার্থী হলে ওই এলাকায় দল আগের চেয়ে আরও সুসংগঠিত হয়ে উঠবে। গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল আজিজ বলেন, গঠনতন্ত্র মেনেই তিনি কমিটি গঠনসহ দল পরিচালনা করছেন। তৃণমূল বিএনপির সমর্থন নিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে দলের কিছু নেতা তার বিরুদ্ধে বিষোদগারে নেমেছেন। তবে দুলু প্রার্থী হলে তারও সমর্থন থাকবে। সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম মোজাম্মেল হক বলেন, দেশের পরিস্থিতির কারণেই তিনি ঢাকায় থাকেন। তবে এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে সব সময়েই তার যোগাযোগ রয়েছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম মোজাম্মেল হকের এলাকায় অনুপস্থিতি ও নিষ্ক্রিয়তার কারণেই বিএনপি সেখানে অনেকটা অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কোন্দল এড়াতে নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীরা তাকে প্রার্থী হওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দলকে সুসংগঠিত করতে দলের হাইকমান্ড তাকে ওই আসনে মনোনয়ন দিলে তিনি অবশ্যই সেখানে নির্বাচন করবেন।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×