শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা

পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের প্রবেশ পথে জঙ্গি হামলা মামলায় ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলায় ২৩ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে এ মামলার ১৮ আসামি নিহত হয়। পাঁচ আসামি কারাগারে আছে। আর এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। বুধবার বিকালে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ।

অভিযুক্ত পাঁচ আসামি হল- কিশোরগঞ্জের জাহিদুল হক তানিম, গাইবান্ধার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, গাইবান্ধার মো. আনোয়ার হোসেন ও কুষ্টিয়ার সবুর খান হাসান।

২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের জামাতের আগে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে প্রবেশ পথের আজিম উদ্দিন হাই স্কুলসংলগ্ন সবুজবাগ সংযোগ সড়ক পথে জঙ্গিরা হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ ও জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষে ঝর্ণা রানী ভৌমিক নামে এক গৃহবধূ নিজ ঘরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ সময় গুলিতে আবির রহমান নামে এক জঙ্গিও নিহত হয়। ঘটনার পর পাশের আজিম উদ্দিন স্কুলের মাঠসংলগ্ন মুফতি মোহাম্মদ আলী মসজিদের সামনের টয়লেটে আশ্রয় নেয়া জঙ্গি শফিউল ইসলাম ওরফে ডন ওরফে মোকাতিলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে র‌্যাব। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসা শেষে কিশোরগঞ্জ আনার পথে একই বছরের ৬ আগস্ট রাত ১১টার দিকে পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইলের ঘোষপাড়া ডাংরী নামক স্থানে একদল জঙ্গি অতর্কিত হামলা চালিয়ে শফিউলকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় র‌্যাবের সঙ্গে সংঘর্ষে জঙ্গি শফিউল ও মুস্তাকিম নিহত হয়।

র‌্যাব জানায়, শফিউল, আবির, করিমসহ কয়েকজন হামলার আগে এলাকাটি কয়েক দফা পর্যবেক্ষণ করে। তাদের পরিকল্পনা ছিল শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদকে হত্যা করা। কিন্তু পথে পুলিশের তল্লাশি তৎপরতা দেখে তারা বুঝতে পারে ঈদ জামাতের ভেতরে প্রবেশ করা সহজ হবে না। এ সময় হামলাকারী জঙ্গিদের কমান্ডার করিম পুলিশ চেকপোস্টে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আবির ও শফিউলের ব্যাগে থাকা গ্রেনেড বের করে তারা ঈদগাহ ময়দানের প্রবেশ পথের পুলিশ চেকপোস্টের দিকে ছুড়ে মারে। একটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। অন্যটি অবিস্ফোরিত থেকে যায়। এ সময় আবির আরেকটি গ্রেনেড ছোড়ে। ওই গ্রেনেডের আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য মাটিতে পড়ে যান। এরপর জঙ্গিরা তাদের প্যান্টের পকেটে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা চাপাতি বের করে দুই পুলিশকে কুপিয়ে জখম করে। অন্য পুলিশরা গুলি ছুড়তে থাকলে পিছু হটে জঙ্গিরা। জঙ্গিরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় জঙ্গি শফিউলের বুকে গুলি লাগে। অন্যদিকে জঙ্গি আবির চাপাতি উঁচিয়ে পুলিশকে কোপানোর চেষ্টা করে। পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা গুলি ছুড়লে আবির ঘটনাস্থলেই মারা যায়।