জাতিসংঘে বিএনপি : প্রতিক্রিয়া

বিদেশনির্ভরতা ঠিক নয়, দেশেই আলোচনা প্রয়োজন

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘে বিএনপি

দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে জাতিসংঘে গিয়ে বিএনপির আলোচনার বিষয় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিষয়টি নিয়ে আপত্তির কিছু না দেখলেও কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বিদেশনির্ভরতা ঠিক নয়। বিদেশে ছোটাছুটি না করে দেশের জনগণের কাছে যাওয়া উচিত। এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বেরুতে হলে দেশেই আলোচনার পথ খোলা রাখতে হবে, রাজনীতিবিদদের মধ্যে আলোচনা হতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এতে সরকার কিংবা আওয়ামী লীগের আপত্তি নেই। জাতিসংঘ এর আগেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় তৎপরতা দেখিয়েছে। সংস্থাটি যে কোনো বিষয়ে পরামর্শ দিতেই পারে। চিঠি বা দূত পাঠিয়ে আলোচনা বা মন্তব্য থাকলে জানাতে পারে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব কাউকে ডাকতে পারেন, কথাও বলতে পারেন। কিন্তু সরকার সংবিধানের বাইরে যাবে না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এ বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের দুটি বুর্জোয়া দল (আওয়ামী লীগ-বিএনপি) ক্ষমতার লোভে বিপজ্জনক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ক্ষমতার জিঘাংসা এই দুটি দলকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, কী সরকারি দল কী বিরোধী দল, তারা বিদেশি শক্তির সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যস্ত থাকে।

তিনি বলেন, বিদেশিদের সঙ্গে সরকারি দল, বিরোধী দল সাক্ষাৎ করতে পারে, তবে সেটা জাতীয় ইস্যুতে। কিন্তু বিএনপি দেখা করেছে, উদ্দেশ্য কী? সরকারি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ব্যবহার করে দলীয় প্রচারণা চালাচ্ছে এবং বিদেশি অফিসগুলো ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের যুক্তিতর্কগুলো উপস্থাপন করছে। উভয় দলের এই বিদেশনির্ভরতা অন্যায়।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর বিদেশে ছোটাছুটি না করে জনগণের কাছে যাওয়া উচিত। কেননা জনগণের সমর্থনই যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য বড় পুঁজি।

তিনি বলেন, জনগণের প্রতি আস্থা নেই বলে বিদেশি শক্তির সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে এসব রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ ক্ষমতায় থাকতে চায়, কেউ ক্ষমতায় যেতে চায়। জনগণের প্রতি আস্থাহীনতা এবং বিদেশিদের সাহায্য-সহযোগিতা চাওয়ার এই প্রবণতা সার্বিকভাবে গণতন্ত্রকেই দুর্বল করে। জাতিসংঘ মহাসচিবের নাম করে গিয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা একেবারেই ঠিক হয়নি।

বিএনপির জোটসঙ্গী এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এটা ভালো উদ্যোগ। এ ধরনের পদক্ষেপ এ দেশে এই প্রথম নয়। এর আগেও জাতিসংঘের একাধিক প্রতিনিধি এ দেশের রাজনৈতিক ইস্যুতে কথা বলতে এসেছিলেন। রাজনীতিবিদরা একে অপরের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন বলে বিএনপি নেতারা জাতিসংঘে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সরকার নমনীয় হলে, আলোচনা করতে রাজি থাকলে এটার প্রয়োজন হতো না। এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বেরুতে হলে অবশ্যই আলোচনার পথ খোলা রাখতে হবে, রাজনীতিবিদদের মধ্যে আলোচনা হতে হবে।

বিএনপির এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম। তিনি বলেন, একটা ধারণাগত ভিত্তি রয়েছে যে, জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আত্মিক। এ দেশের বহু শান্তিরক্ষী বাহিনী জাতিসংঘের হয়ে বিভিন্ন দেশে যায়, সেসব দেশের সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে। মানবাধিকার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এ দেশের নির্বাচনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে জড়িয়ে আছে। তাই এ ধরনের আলোচনায় দোষ নেই। সাধারণত বিদেশি মেহমানরা ঢাকায় এসে আলোচনা করেন, কিন্তু এবারের পার্থক্যটা হচ্ছে বিএনপি জাতিসংঘে গেছে।

অন্যদিকে জাতিসংঘের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে বিএনপির দেউলিয়াপনার প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া।

তিনি বলেন, বিএনপির এই সংস্কৃতি জনবিচ্ছিন্নতার বহিঃপ্রকাশ। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জনগণের ওপর ভরসা করে সব দাবি-দাওয়া আদায়ের চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু তারা তা না করে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বিদেশিদের কাছে ধরনা দিতে জাতিসংঘে গেছে। বিএনপি বহির্বিশ্বকে দিয়ে চাপ দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এসব করছে বলেও জানান তিনি।

গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের বিরোধী আমরা। সার্বভৌম দেশ হিসেবে এ দেশের সব সমস্যা আমাদেরই সমাধান করা উচিত।

কিন্তু আমাদের দেশের শাসকগোষ্ঠী রাজনীতিতে একটা বিভাজন সৃষ্টি করে রেখেছে। তিনি বলেন, দেশে সংঘাতের রাজনীতি এমন পর্যায়ে গেছে যে তা বিদেশি হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি করছে।

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে বিএনপির দেয়া চিঠির জবাবে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ পেয়ে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র গেছে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সদর দফতরে সংস্থার রাজনীতিবিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিরোস্লাভ জেনকারের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter