খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরি করুন

ফখরুল

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরি করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, যে নির্বাচনে কথা বলার সুযোগ থাকবে না, ক্যাম্পেইন করার সুযোগ থাকবে না, ভোট দেয়ার সুযোগ থাকবে না- সেই নির্বাচন কী নির্বাচন হবে? হবে না।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন। ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি’- শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন। সংসদ ভেঙে পদত্যাগ করুন। নির্বাচনকালীন সময়ে একটা নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার তৈরি করুন। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করুন। নির্বাচনের সময়ে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে অবশ্যই সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করতে হবে। সব দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে। ইভিএম চলবে না।

তিনি বলেন, পরিষ্কার করে বলেছি, কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। সব দলের সমান অধিকার নেই। যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে তারা শুধু ওদের কথা শুনবে, অন্য কারও কথা শুনবে না। চার সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনে আমরা তা দেখেছি।

জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় ঐক্যের ডাক দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগেই দিয়ে গেছেন। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, এ যে দুঃশাসন, এ যে দুর্বিনীত ফ্যাসিবাদ আমাদের ওপর চেপে বসেছে একে সরাতে হলে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ধর্মবর্ণ সবাইকে এক হয়ে সংগ্রাম করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে ।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ ঘটনা যখন ঘটে তখন আমরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। জোট সরকার ঘটনা তদন্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ও ইন্টারপোলকে নিয়ে এসেছিল। তারা তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে যেতে পারেনি। কেন? আজকের প্রধানমন্ত্রী ও তার দল সেদিন সহযোগিতা করেননি।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ মামলার তিনি (শেখ হাসিনা) ছিলেন দুই নাম্বার সাক্ষী। তিনি কোনো দিন আদালতে গিয়ে কোনো সাক্ষ্য দেননি। জানি এসব কথা মিডিয়াতে আসবে না। কিন্তু দ্যাট ইজ দ্য ফ্যাক্ট, এটাই সত্য। তারেক রহমানকে আসামি করেছেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের আসামি করেছেন। আজকে তিনজন পুলিশের আইজি কারাগারে, সেনাবাহিনীর তিনজন অত্যন্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তারা কারাগারে- এ মামলায় তাদের জড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, তারেক রহমানকে কখন জড়ানো হল? এ মামলা রুজু করার পরেই তদন্ত হয়েছে। পরপর তিনজন তদন্ত কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন। এর মধ্যে ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের শাসনকাল গেছে ২ বছর। তারাও কিন্তু তারেক রহমানের নাম দেয়নি, আবদুস সালাম পিন্টুর নাম দেয়নি। এ নামগুলো পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ সরকার আসার পরে ঢুকানো হয়েছে। মুফতি হান্নানকে ২৪৩ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করে তার কাছ থেকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করে এটা করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, এ সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে দেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা সংসদ ধ্বংস করেছে। বিচার বিভাগ ধ্বংস করেছে।

তিনি বলেন, সরকার বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে ভৌতিক মামলা দিচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে সাড়ে ৪ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে ওয়ার্ডের নেতাকর্মী মামলার আসামি। আসামির সংখ্যা ২ লাখ ৩৩ হাজার। ভয়ে ভীত-সন্তন্ত্র হয়ে সরকার এটা করছে। নির্বাচনে যদি ২০ দলীয় জোট অংশগ্রহণ করে তাহলে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না। তারা (সরকার) বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়।

উন্নয়নের নামে সরকার অর্থ লুণ্ঠন করছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে উন্নয়নের এমন মেগা প্রজেক্ট হচ্ছে যে, পদ্মা সেতুর এখন পর্যন্ত তল খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিন-চারটা পিলার হয়েছে, বাকিগুলোর তল খুঁজে পাচ্ছে না। আর এমন নদীশাসন করেছে যে, শরীয়তপুরের নড়িয়া ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পাইপলাইন বসানো হচ্ছে ভারত থেকে তেল আনার জন্য। নতুন নতুন বন্দর তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু ওইসব বন্দরের দরকার আছে কি নেই সেটাও চিন্তা করা হচ্ছে না। উদ্দেশ্য একটাই- ব্যাপক দুর্নীতি।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মুফতি আবদুর রব ইউসুফী। দলটির মহাসচিব মাওলানা নুর হোসাইন কাশেমীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মনজুরুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এমএ রকীব, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খোন্দকার লুৎফর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন আহমেদ মুনি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×