কোটা পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ

মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে

  উবায়দুল্লাহ বাদল ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোটা পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ

সরকারি চাকরিতে কোটা পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন কোনো ধরনের কাটছাঁট ছাড়াই আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই কমিটি সরকারি বেতন স্কেলের নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী) পদে নিয়োগে সব ধরনের কোটা তুলে দেয়ার সুপারিশ করেছে। কমিটির প্রতিবেদনটি সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ (শুক্রবার) জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। আগামী ১ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা। ওইদিন (সোমবার) অথবা পরের সপ্তাহের সোমবার অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হতে পারে।

পর্যালোচনা কমিটি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘কোটা সংস্কার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি শুধু মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এখন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সুপারিশের ওপর মন্ত্রিসভার সদস্যরা আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’

পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯ম গ্রেড (প্রথম শ্রেণী) ও ১০ম-১৩তম গ্রেডের (দ্বিতীয় শ্রেণী) পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা যেতে পারে। এসব গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা যেতে পারে। কোটা বাতিলের ফলে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থায় সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে প্রতিফলিতব্য প্রভাব নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যালোচনা করে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে।’

এ বিষয়ে কোটা পর্যালোচনা কমিটির একজন সদস্য যুগান্তরকে বলেন, সরকারের প্রথম শ্রেণীর ক্যাডার ও নন-ক্যাডার এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তার সংখ্যা খুবই কম। সময়ের বিবর্তনে এখানে কোটার সংরক্ষণ এখন অবান্তর। কারণ দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১২ লাখ হলে প্রথম শ্রেণীর ক্যাডার ও নন-ক্যাডার এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা মাত্র কয়েক হাজার। আমাদের মেয়েরা এখন অনেক এগিয়ে। এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মেয়েরাই ভালো করছেন। গত কয়েকটি বিসিএসের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মেয়েরা অনেক ক্যাডারে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনসহ উল্লেখযোগ্য হারে চাকরি পেয়েছেন। সুতরাং মহিলাদের জন্য এখন কোটা সংরক্ষণ জরুরি নয়। তারা এখন আর অনগ্রসর নয়। পক্ষান্তরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর সংখ্যা অনেক। তাদের ক্ষেত্রে জেলা, মহিলা, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোটা থাকা দরকার। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত রয়েছে। এভাবে অনেক ক্ষেত্রে কোটা রাখা দরকার বলে আমরা মনে করি। তারপরও আমরা বলেছি, কোটা তুলে দেয়ার ফলে কী ধরনের প্রভাব পড়ে তা আমরা আগামী তিন-চারটি বিসিএসে পর্যবেক্ষণ করব। প্রতিফলিতব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করব।

কোটা পর্যালোচনা কমিটি সূত্র জানায়, তারা ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও ভুটানের সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে দেখেছেন। তবে ভারত, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি মিলছে না। কারণ ওই দেশ দুটিতে বিভিন্ন প্রদেশ রয়েছে।

একেক প্রদেশে একেক ধরনের পদ্ধতি বিদ্যমান। তাদেরও কিছু কোটা আছে সংখ্যালঘু শ্রেণীর জন্য তবে তা খুবই নগণ্য। বাংলাদেশে ওই ধরনের কোনো মাইনরিটি শ্রেণী বা প্রদেশ নেই। দেশে ক্ষুদ্র কিছু নৃগোষ্ঠী থাকলেও তা ওইসব দেশের মতো নয়।

এছাড়া শ্রীলংকা ও ভারতের তামিলনাডু রাজ্যসহ বেশ কিছু প্রদেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৪০ বছর। এসব তথ্য-উপাত্তের পাশাপাশি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এযাবৎ প্রশাসন সংস্কারে যেসব কমিশন ও কমিটি গঠন করা হয়েছিল তা সব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছে সচিব কমিটি। প্রতিটি কমিশন ও কমিটিই কোটা থেকে সরে এসে পর্যায়ক্রমে মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল।

সূত্র আরও জানায়, সচিব কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রশাসন সংস্কারে মোজাফফর আহমদ চৌধুরী কমিশন, ১৯৭৭ সালে সাবেক সচিব আবদুর রশিদের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন, ১৯৯৪ সালে চারজন সচিবের নেতৃত্বে গঠিত প্রশাসন পর্যালোচনা কমিটির রিপোর্ট, ১৯৯৬ সালে জনপ্রশাসন সংস্কারে গঠিত কমিশনের রিপোর্ট এবং সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. আকবর আলী খানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের রিপোর্টের সুপারিশ আমলে নেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময় নিয়োগে কীভাবে কোটা সংরক্ষণ করেছে, তাও বিবেচনা করেছে সংস্কার কমিটি। এছাড়া দেশে বিভিন্ন সময় কোটা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদপত্রের কপিও সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতও নেয়া হয়েছে। এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে কোটা তুলে দেয়ার সুপারিশ করেছে পর্যালোচনা কমিটি।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ নেয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের বিধান রয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×