মুক্তিযোদ্ধা কোটা দাবির আন্দোলন বহুধাবিভক্ত

নৌমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত উপেক্ষা কয়েকটি গ্রুপের * আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা

  যুগান্তর ডেস্ক ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুক্তিযোদ্ধা কোটা দাবির আন্দোলন বহুধাবিভক্ত

মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য সব ধরনের সরকারি চাকরিতে প্রিলিমিনারি থেকে ৩০ শতাংশ কোটা বহালের আন্দোলন বহুধাবিভক্ত হয়ে গেছে। আন্দোলনের শুরু থেকেই সংগঠনগুলোর মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে কিছুটা মতবিরোধ থাকলেও এবার তা প্রকাশ্যে এসেছে। আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। নৌমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কয়েকটি সংগঠন। পৃথক পৃথক কর্মসূচিও দিচ্ছেন তারা।

ফলে সামগ্রিক আন্দোলনে একধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটার দাবিতে বৃহৎ ঐক্যের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়েছে। এদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সুরক্ষা আইন করার দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার মানববন্ধন, স্মারকলিপি পেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। যুগান্তর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজধানী : ঢাবি প্রতিনিধি জানান, ৩ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সেদিন রাতেই এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সমন্বয়ে গঠিত কয়েকটি সংগঠন। গঠিত হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’। সোমবার পর্যন্ত এই মঞ্চের ব্যানারেই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছিল। এর আহ্বায়ক হিসেবে শুরু থেকেই দায়িত্ব পালন করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান। এ সময় তিনি ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন এবং এ আন্দোলনকে সচল রাখতে সারা দেশে কমিটি গঠনেরও পরামর্শ দেন। ১৪ অক্টোবর রাজধনীর সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান শাহজাহান খান। পাশাপাশি তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’-র পরিবর্তে ‘মুক্তিযুদ্ধ চেতনা সমন্বয় পরিষদ’ গঠনের ঘোষণা দেন। এর আহ্বায়ক করা হয় মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খানকে।

মন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন কোটা বাতিলের প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে গঠিত ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’-এ অংশগ্রহণকারী কয়েকটি সংগঠন। এর মধ্যে মেহেদী হাসান নামের একজন নিজেকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহ্বায়ক দাবি করে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আরেকটি সংগঠন ‘আমার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’-এর সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ গঠন হলে সবার মতামতের ভিত্তিতে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে আহ্বায়ক করা হয়। কিন্তু আন্দোলন স্থগিত করার ব্যাপারে তিনি আমাদের কিছু জানাননি। ফলে আমরা নিজস্বভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাব। নতুন আহ্বায়ক মেহেদী হাসানের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি নিজে নিজে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। আমাদের কারও সমর্থন সেখানে নেই। আমরা আমাদের ব্যানারে দেশব্যাপী আন্দোলন পরিচালন করব।

আরেক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির এক জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আন্দোলনের বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সময়ন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বুলবুল যুগান্তরকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা কখনোই রাস্তা আটকে আন্দোলন করতে পারে না।

‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’-এর ব্যানারে মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে শাহবাগে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীদের একটি গ্রুপ। যার নেতৃত্বে ছিলেন মেহেদী হাসান। তারা সাড়ে ৪টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এ সময় শাহবাগে ২৫-৩০ জনকে দেখা গেছে। তারা রাত ১০টা পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেখানে মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে তিনি বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন এই মঞ্চের সমন্বয়ক ও তিনি আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান। তবে এ বিষয়ে জানতে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) : মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ শেষে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের লতিফপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন।

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ৩নং গেট থেকে শুরু হয়ে জয় বাংলা ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।

পাবনা : মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড পাবনা জেলা শাখা। পাবনা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে কিছু সময় অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন তারা।

গাইবান্ধা : জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে ১নং ট্রাফিক মোড়ে কর্মসূচি পালনকালে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তায় অবরোধ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা সান্তাহার থেকে বুড়িমারীগামী ৭১৩ করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১নং রেলগেটে আধা ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়।

মৌলভীবাজার : মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে মণিপুরী ছাত্র পরিষদ মৌলভীবাজার শাখা। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যেমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয় তারা।

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) : মঠবাড়িয়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড। শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

কাউখালী (পিরোজপুর) : কাউখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়।

খাগড়াছড়ি : মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ শাখা। জেলা শহরের শাপলা চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

ভোলা : অবরোধের পাশপাশি মানববন্ধন-বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সদস্যসহ নাগরিক প্রতিনিধিরা। ভোলা প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন ও সমাবেশ। দৌলতখান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আয়োজনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×