বিলুপ্তির পথে ঘুড়ি উড়ানোর ঐতিহ্য

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগেকার দিনে গ্রামগুলোতে গ্রীষ্মকাল শুরু হতে না হতেই রঙবেরঙের ঘুড়িতে আকাশ ছেয়ে যেত। ছোট্ট ছেলেটি তার বড় ভাই কিংবা বাবার কাছে বায়না ধরত ঘুড়ি বানিয়ে দিতে। কিশোর ছেলেটি মায়ের কড়া নজর এড়িয়ে ভরদুপুরে ঘুড়ি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছুটত মাঠের দিকে। অনেক যুবক ও মাঝবয়সী লোককেও দেখা যেত বক্স আকৃতির ঘুড়ি তৈরি করে মোটা সুতা দিয়ে লাটাই গাছে বেঁধে ছেড়ে দিত অনেক দূরে। ঘুড়ির সঙ্গে বেঁধে দিত অন্য একরকম সুতা, যা বাতাসের ছোঁয়ায় এমন একটা মধুর শব্দ হতো যে, ঘুড়ি আকাশে হারিয়ে গেলেও শব্দটা শোনা যেত। বিকাল থেকে সারারাত অবধি ঘুড়ি আপন গতিতে আকাশে উড়ত। সাপ ঘুড়ি, বক্স ঘুড়ি, ফিঙ্গে ঘুড়ি- এ রকম বিভিন্ন আকৃতির ঘুড়ি বিকেলের আকাশে দেখা যেত।

অনেক শিশু-কিশোরের বিনোদনের মাধ্যমই ছিল ঘুড়ি উড়ানো, সুন্দর ঘুড়ি তৈরির প্রতিযোগিতা করা, ঘুড়িতে মাঞ্জা দিয়ে একজন আরেকজনের ঘুড়ি কেটে দেয়া ইত্যাদি। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষ এবং নগরায়নের প্রভাবে গ্রামীণ এই ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। এখন শিশু-কিশোর থেকে সব বয়সের ছেলেমেয়ের হাতে হাতে ভিডিও গেমস ডিভাইস ও মোবাইল ফোন থাকায় তারা এসব গেমসের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে। গেমসের নেশায় বুদ হয়ে নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করে মোবাইলের স্ক্রিনে টানা অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকে অনেকে। তাদের ঘুড়ি উড়ানোর সময় কোথায়? এভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে ঘুড়ি উড়ানোর ঐতিহ্য।

আব্দুর রউফ সালাফী

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×