জিপিএ ফাইভ পেলে বা প্রথম হলেই কি শুধু মেধাবী?

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী জিপিএ ফাইভ পেয়েছে তারা ভীষণ খুশি। এটা তাদের পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত ফসল। সন্তানদের ভালো ফলের জন্য অভিভাবকরাও খুশি হন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ২০১৮ সালের বার্ষিক পরীক্ষার ফলও অতি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের শিশুরাও সারা বছর মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিটি শ্রেণীতে তাদের মধ্যে শুধু কেউ একজন প্রথম হয়েছে। বাকিরা দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এরকম স্থান অর্জন করেছে। যারা প্রথম হয়েছে তারা এবং তাদের অভিভাকরাও আনন্দিত। এটাই স্বাভাবিক। শ্রেণীতে প্রথম হলে কিংবা জিপিএ-৫ পেলে ভীষণ ভালো লাগে। শিক্ষার্থী-অভিভাবক সবাই খুশি হন। আর তাদেরই অন্য সহপাঠীরা যারা পরিশ্রম করে প্রথম বা জিপিএ-৫ পেল না তারা ও তাদের অভিাবকরাও ভীষণ মর্মাহত হন। কোনো কোনো অভিভাবক মনে করেন, প্রথম বা জিপিএ-৫ অর্জন না করা মানেই ওই শিক্ষার্থী মেধাবী নয়। সবার মনে রাখা দরকার, প্রথম বা জিপিএ-৫ অর্জন করাটাই বড় কথা নয়। কোনো শিশু যদি তার পাঠ্যসূচি নির্দেশিত যোগ্যতাসমূহ ভালোভাবে অর্জন করে থাকে তবে অবশ্যই সে মেধাবী। অভিভাবকদের এই সত্য উপলব্ধি করতে হবে, ভালো ফল মানেই যে শিক্ষার্থী সবচেয়ে বেশি জানে এমন নয়। সাজেশন-নির্ভর মুখস্থ-নির্ভর কিংবা গাইড-নির্ভর পড়ার মাধ্যমে ভালো ফল করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে জানার পরিধি থাকে সীমিত। পরীক্ষায় ভালো ফল করা এক আর ভালোভাবে সবকিছু জেনে ভালো ছাত্র হওয়া সেটা অন্য বিষয়। ভালো ফল করা আর মেধাবী হওয়ার মাঝে তফাত এটুকুই। একমাত্র মেধাবীরাই পারে তাদের মেধা আর মননকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। অভিভাবকরা কিংবা শিক্ষকরা শুধু জিপিএ-৫ বা প্রথমের পেছনে না ছুটে যদি তাদের সন্তানরা বা শিক্ষার্থীরা কী শিখল, কতটুকু শিখল, কী কী ঘাটতি আছে, কতটুকু শিখানো দরকার- এই বিষয়ে গুরুত্ব দেন তাহলে সেই সন্তান প্রকৃত দক্ষতা অর্জনে সক্ষম হবে। তাই আসুন আমরা শিশুদের দিয়ে জিপিএ-৫ পাওয়া বা প্রথম হওয়ার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে তাদের প্রকৃত মানুষ বানানোর ব্রতে মনোনিবেশ করি, তাতেই সমাজ তথা দেশের মঙ্গল হবে।

অঞ্জন দে

প্রধান শিক্ষক, চিন্তাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়লেখা, মৌলভীবাজার

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×