প্রধানমন্ত্রী সমীপে

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমি একজন অসহায় মা। আমার পুত্র খোন্দকার শরীফ ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলায় বিনা বিচারে ৩ মাসের উপর কারাগারে বন্দি। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের শিকার। তার মুক্তির জন্য বিগত ৩ মাস জেল, পুলিশ, আইন ও আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। কিন্তু কবে ছেলেকে জেল থেকে মুক্ত করতে পারব, জানি না। আমার ছেলে ফেনী সরকারি হাইস্কুলে পড়াকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। ১৯৮৬ সালে সে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেলে সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। লেখাপড়া শেষে সে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত হয়। কুমিল্লা ও চৌদ্দগ্রামে সে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করে এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক নির্বাচিত হয়। সে জামায়াত-শিবিরের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে বরাবরই উচ্চকণ্ঠ। রাজনীতি করতে গিয়ে সে নিঃস্ব ও সর্বস্বান্ত। শরীফ মেধাবী ছাত্র ছিল। সহজেই অন্য যে কোনো পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারত। কিন্তু দলের জন্য সে সবকিছু বিসর্জন দিয়েছে। পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের সহায়তায় সে কোনোরকমে জীবন নির্বাহ করছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আপনার নেতৃত্বের প্রতি তার অবিচল আস্থা ও আনুগত্য কোনো প্রলোভনে টলাতে পারেনি। এহেন একজন নিষ্ঠাবান ও স্বার্থহীন কর্মী আজ অন্ধকার কারা প্রকোষ্ঠে দিন পার করছে। আমার ছেলের বড় দোষ সে সত্যবাদী ও স্পষ্টভাষী। ফলে অজান্তে দল ও দলের বাইরে তার অনেক শত্রু সৃষ্টি হয়েছে। তার এ সরলতার সুযোগ নিয়ে বিরুদ্ধবাদীরা তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একাধিক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করেছে। ফলে শরীফ ৩ মাস ধরে কারাগারে বন্দি।

আমি একজন বৃদ্ধ ও বিধবা নারী। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছেলের জামিন করাতে পারছি না। কারগারে বন্দি থেকে শরীফ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমার তেমন কোনো অর্থসম্পদ নেই। খোন্দকার শীরফের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী, মেয়ে স্কুলে পড়ে। তাদের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম। এ অবস্থায় আমি একজন অসহায় মা কীভাবে ছেলেকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করব তা ভেবে দিশাহারা হয়ে পড়েছি। ছেলের মুক্তির আবেদন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর তিনটি চিঠি দিয়েছি। জানি না সেগুলো আপনার হস্তগত হয়েছে কিনা। এ দুঃসহ পরিস্থিতিতে আমার নিরপরাধ ছেলের মুক্তির জন্য আপনার হস্তক্ষেপের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

মাজেদা আক্তার, ঠাকুরপাড়া, কুমিল্লা

আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×