মাঘের শীত

  যুগান্তর ডেস্ক ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাঘের শীত
মাঘের শীত

কথায় বলে ‘মাঘের শীতে বাঘে পালায়’। ‘মাঘ’ হাড়কাঁপানো শীতের মাস। ‘মাঘ’ নিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ‘পুরানো শীত পাতা-ঝরা, তারে এমন নূতন করা/মাঘ মরিল ফাগুন হয়ে খেয়ে ফুলের মার গো’; ‘শীতের বনে কোন সে কঠিন আসবে ব’লে/শিউলিগুলি ভয়ে মলিন বনে কোলে’। কবি অমিয় চক্রবর্তী ‘মাঘ’ নিয়ে লিখেছেন ‘মাঘ সংক্রান্তির রাতে’ নামে কবিতা। এ কবিতায় তিনি লিখেছেন, ‘হে পাবক, অনন্ত নক্ষত্রবীথি তুমি, অন্ধকারে/তোমার পবিত্র অগ্নিজ্বলে/অমাময়ী নিশি যদি সৃজনের শেষ কথা হয়/আর তার প্রতিবিম্ব হয় যদি মানব-হৃদয়’...।

মাঘ মাসে নানা ফসলের প্রাচুর্য এবং নানানরকম খাওয়া-দাওয়ার ধুম পড়ে যায় গ্রামবাংলায়। শীতের পিঠা তৈরি হয় এ সময় ঘরে ঘরে। মাঘেই হয় মাঘোৎসব। মোরগ লড়াই, ষাঁড়ের লড়াই, মাছ-পাখি শিকার, বিয়েশাদির জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান, আত্মীয়র বাড়ি বেড়ানো এই মাঘে বেশি চলে। সত্যিকারের অবসর উদযাপনের মাস এই মাঘ। পুঁথি পাঠ, গম্ভীরা গান, যাত্রা, থিয়েটার, কবিগান ইত্যাদির আয়োজন চলে গ্রামগঞ্জে ও মফস্বলে। পানি অনেক কমে যায় বলে নদী-বিল-খাল-পুকুরে নানারকম মাছ ধরার কাজে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করেন। পুতুল নাচ, সার্কাস, যাত্রা, থিয়েটার উৎসবে মেতে থাকে শহর-গ্রাম। এ যেন বাঙালির উৎসবের মাস হয়ে ওঠে। বিশেষ করে উত্তর বাংলার গ্রামে গ্রামে খুব ভোরে শয্যাত্যাগ করে অনেকেই নাড়া-খড়, পাটকাঠি জ্বেলে আগুনে হাত-পা সেঁকে। শীতে বাংলার এ এক চিরচেনা দৃশ্য। এ সময় রোদ পোহানোর হিড়িক পড়ে যায়। সন্ধ্যার পর সবাই শীতে জড়োসড়ো হয়ে পড়ে। রাত ৮টার মধ্যে খাওয়া-দাওয়া সেরে সবাই কম্বল নয়তো লেপমুড়ি দেয়।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter