সাক্ষাৎকার

মনে হতো আমি একটা পবিত্রতম দৃশ্য দেখছি

মেহের আফরোজ শাওন

  মাসউদ আহমাদ ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মনে হতো আমি একটা পবিত্রতম দৃশ্য দেখছি
প্রয়াত জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, নির্মাতা ও গীতিকার হুমায়ূন আহমেদ ও তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের বিশেষ একটি মুহুর্ত

১৩ নভেম্বর ছিল জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের সঙ্গে কথা হয়। এতে হুমায়ূন আহমেদের জীবনের নতুন কিছু বিষয় উঠে এসেছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তরুণ কথাসাহিত্যিক মাসউদ আহমাদ বি. স.

*যুগান্তর: হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে আপনি একজীবন কাটিয়েছেন। তার সঙ্গে কাটানো একটি মুহূর্তের গল্প বলেন? যা আগে কখনও বলেননি।

** মেহের আফরোজ শাওন: তিনি মানুষকে চমকে দিতে পছন্দ করতেন। আমাকে চমকে দেয়ার জন্য তিনি বহু সময়ে বহু কিছু করেছেন। একটা ঘটনা বলি। তখন ১৯৯৬ সাল। আমার এসএসসি পরীক্ষা চলছে। আমার সিট পড়েছিল রাজারবাগ গার্লস স্কুলে।

প্রথম পরীক্ষাটা যখন দিতে গিয়েছি, তখন ‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকের শুটিং চলছে। শুটিং শেষ পর্যায়ে, অল্প কিছু কাজ বাঁকি আছে। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়েছি। গাড়িতে উঠব। হঠাৎ দেখি দূরে একটা গাড়িতে হুমায়ূন আহমেদ বসে আছেন। হাতে একটা ডাব। আমাকে দেখে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন। তার আসার ব্যাপার ছিল পুরোটাই আমাকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য। তখন তিনি নিজেও অস্বস্তি বোধ করছিলেন, তিনি এত বিখ্যাত একজন মানুষ, পরীক্ষার হলের সামনে ডাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাই প্রথমে গাড়ির ভেতরে বসেছিলেন। আমি সেই বিষয়টাতে এতই মজা পেয়েছিলাম যে, ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। ভীষণ সারপ্রাইজড হয়েছিলাম।

তিনি এমনটা ভেবেও খুব বিব্রত হচ্ছিলেন যে, আমার কোনো পরিচিত মানুষ দেখে ফেললে ব্যাপারটা কেমন হবে। বিষয়টি আমার মনে খুব রেখাপাত করেছিল।

*যুগান্তর: ঘুম ভাঙার পর সকালে দেখতেন হুমায়ূন আহমেদ লিখছেন, দৃশ্যটি কেমন লাগত?

** মেহের আফরোজ শাওন: আমি ভোরে উঠতে পারি না। এমনিতে লেট নাইটে ঘুমাই, ফলে সকালে উঠতে দেরি হয়ে যেত। উঠে দেখতাম, তিনি লিখছেন। দৃশ্যটা দেখে আমার এত ভালো লাগত, মনে হতো আমি একটা পবিত্রতম দৃশ্য দেখছি। এটা দেখে দেখে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম।

কিন্তু কোনোদিন, যখন দেখতাম যে তিনি লিখতে বসেননি, আমি ঘুমের ভান করে পড়ে থাকতাম, যেন তিনি লেখা শুরু করেন এবং তাকে লিখতে দেখার দৃশ্যটা দেখে আমার ঘুমটা ভাঙে। ফলে আমি আরও কিছু সময় মটকা মেরে পড়ে থাকতাম, জোর করে। আমি চোখটা খুলে ওই দৃশ্যটাই দেখতে চাই। এই সৃষ্টির সৌন্দর্যটা আমার অসম্ভব ভাল লাগত।

* যুগান্তর: ব্যক্তি হুমায়ূনের কোন বিষয়গুলো আপনাকে মুগ্ধ করত?

** মেহের আফরোজ শাওন: মানুষের প্রতি তার প্রবল মমত্ববোধ। অসুস্থ না হলে বা কোনো কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত না থাকলে তিনি সাধারণত মানুষের সঙ্গে মিশতেন। মানুষের প্রতি তার মায়া ও ভালোবাসার ব্যাপারটা- খুব শেখার মতো বিষয় ছিল। আমরা নরমালি যা করি, কোনো মানুষকে সাহায্য করতে গেলে ব্যাপারটাকে একটা অনুষ্ঠান বানিয়ে ফেলি। আমি হুমায়ূন আহমেদকে দেখেছি, পর্দার অগোচরে থেকে একদম নীরবে মানুষের জন্য কিছু করে যেতে।

সেলিব্রিটিদের প্রতি মানুষের প্রেম নতুন কিছু নয়। তার প্রেমে পড়েছেন কেউ- সাক্ষাতে বা ফোনে বা চিঠি লিখেছেন- এমনটা বুঝতে পেরে আপনার কী অনুভূতি হতো?

মেহের আফরোজ শাওন: আমার খুব মায়া লাগত। প্রথমে একটা বিষয় আমি ক্লিয়ার করে নিই, আমি কিন্তু সেলিব্রিটি হুমায়ূন আহমেদের প্রেমে পড়িনি। আমি মানুষ হুমায়ূনের প্রেমে পড়েছি এবং প্রেমে পড়ার ব্যবস্থাটা তিনি নিজেই করেছিলেন।

কিন্তু যখনই কোনো মেয়েকে আমি দেখেছি, আমার বিয়ের আগে বা বিয়ের পরে- তুমুল জনপ্রিয় বা শীর্ষে থাকা হুমায়ূন আহমেদের প্রেমে পড়েছে। কিছু কিছু চাওয়ার পরিণতি থাকে না। কিছু কিছু চাওয়ার কোনো পাওয়া হয় না। সেই জায়গা থেকে আমার খুব মায়া লাগত। আমার মনে হতো সেলিব্রিটিদের বা হুমায়ূন আহমেদের মতো মানুষদের উচিত- যারা তার প্রতি অনুরোক্ত তাদের প্রত্যেককে একটু একটু করে সময় দেয়া।

* যুগান্তর: আপনার এ রকম মনে হতো কেন?

** মেহের আফরোজ শাওন: আমাদের বাসায় বেশ কিছু মেয়ে ভক্ত বা তরুণী ভক্ত এসেছে। তারা যে কোনোভাবে থেকে যেতে চায়। তারা আজীবন বুয়া হিসেবে রান্না করে তাকে খাওয়াতে চায়। একজন ছিল এমন- তার একটাই চাওয়া, হুমায়ূন আহমেদ যখন লিখবেন সে তখন তাকে চা বানিয়ে খাওয়াবে। তার আর কিছু চাওয়া নেই। আর একজন ছিল, সে বাসায় এসে বসে থাকত। প্রথমে দারোয়ানের রুমে বসে থাকত। পরে তাকে বাসায় আসার অনুমতি দেয়া হতো।

সে বলত, ড্রইংরুমে বসে থাকবে। আর কিছু চাওয়ার নেই তার। একজন এমন মেয়ে ছিলেন, তিনি চাইতেন যে- হুমায়ূন আহমেদকে তিনি একদিনের জন্য বিয়ে করবেন। তিনি তার সঙ্গে একদিনের একটা সংসার চান। এ রকম ইন্টারেস্টিং সব ঘটনা আছে।

* যুগান্তর: লেখক হুমায়ূন আহমেদ প্রেমিক হিসেবে কেমন ছিলেন?

** মেহের আফরোজ শাওন: লেখক হিসেবে তিনি যেমন অসাধারণ তার চেয়ে অন্যান্য বিষয়ে তিনি আরও বেশি অসাধারণ। বাবা হিসেবে, প্রেমিক হিসেবে- লেখকের চেয়ে বেশি অসাধারণ। স্বামী হিসেবেও তিনি অসাধারণ। বন্ধু হিসেবেও ভালো।

* যুগান্তর: হুমায়ূন আহমেদ সাধারণত কখন লিখতেন?

** মেহের আফরোজ শাওন: সকালবেলা। শুধু বইমেলায় চাপের সময় বা ঈদ সংখ্যার জন্য তিনি সন্ধ্যায়ও লিখতেন। কিন্তু সন্ধ্যার সময় তিনি লিখতে পছন্দ করতেন না। বলতেন, সন্ধ্যায় লিখলে তার মধ্যে একটা অস্থিরতা কাজ করে। ভোরবেলাটা তার লেখার প্রিয় সময় ছিল।

* যুগান্তর: লেখকদের তো নানা ধরনের কৌশল থাকে, তার লেখার পদ্ধতি ও কৌশল সম্পর্কে কিছু বলুন?

** মেহের আফরোজ শাওন: কোনো পদ্ধতি নেই। কাগজ এবং কলম। তিনি সাদা কাগজ এবং তিন টাকা দামের বলপয়েন্ট কলমে লিখতেন। কম্পিউটারে লিখতেন না। লেখার জন্য তার আয়োজন ছিল খুবই সামান্য। পরে দুপুরবেলা প্রকাশকের কোনো লোক এসে যা-কিছু লিখতেন, সেসব নিয়ে যেতেন। সেই লেখা কম্পোজ হওয়ার পর সন্ধ্যায় তাকে দিয়ে যেত। তিনি সেটা পড়তেন। পুনর্লিখন করতেন।

* যুগান্তর: তিনি যখন লিখতেন- বাচ্চা কাঁদছে, মানুষের তুমুল হৈ হল্লা হচ্ছে... এসব তার কানে যেত না?

** মেহের আফরোজ শাওন: এসব একদমই তিনি গ্রাহ্য করতেন না। টিভিতে হিন্দি গান বাজছে কিনা, বাচ্চা কাঁদছে বা পাশের বাসায় ঝগড়া হচ্ছে, অন্য বিল্ডিংয়ে কেউ কাউকে মেরে ফেলছে কিনা... কোনো কিছুই তার কানে ঢুকত না। একবার আমরা এটা টেস্ট করে দেখেছি।

* যুগান্তর: নিজের লেখালেখি নিয়ে তার বিবেচনা কেমন ছিল?

** মেহের আফরোজ শাওন: তিনি নিজের লেখার বড় ভক্ত ছিলেন। তার সবচেয়ে খারাপ লেখাটা, ভক্তরা যেভাবে বলে, তিনি সেভাবে বলতেন না; তিনি বলতেন, বাহ ভালোই তো। এটা ছিল হুমায়ূন আহমেদের একটি দিক। কিন্তু সাধারণত তিনি হেলাফেলা করে লিখতেন না। যদিও বইমেলার সময় বা ঈদ সংখ্যার জন্য অনেক সময় তিনি হেলাফেলা করে লিখতে বাধ্য হতেন।

* যুগান্তর: বইমেলায় বইয়ের বিক্রি নিয়ে তার অনুভূতি কেমন ছিল?

** মেহের আফরোজ শাওন: তিনি খোঁজখবর নিতেন এবং ব্যাপারটা খুব উপভোগ করতেন। একবার হল কী- নতুন বই প্রকাশের পর প্রথম পাঁচ দিনে অনেক বই বিক্রি হয়েছে। তখন তিনি অন্যপ্রকাশের মাজহারকে ডেকে বললেন, আচ্ছা মাজহার, তুমি হিসাব করে বের কর তো, আমার বইয়ের প্রতিটা শব্দের মূল্য কত?

হিসাব করে বের করা হয়েছিল প্রতিটা শব্দের মূল্য কত হয়- চারশ কত টাকা যেন। এখন আমার সঠিক মনে নেই। তিনি বললেন, আরে আমি যে ‘কেন’ লিখি বা ‘কী’ লিখি এটারও একটা মূল্য আছে। এটা তিনি দুষ্টুমি করে বলতেন। কিন্তু খুব উৎফুল্ল থাকতেন বিষয়টা নিয়ে।

* যুগান্তর: নিজের কোন লেখাগুলোকে তিনি তার প্রিয় লেখা বলতেন?

** মেহের আফরোজ শাওন: ‘মধ্যাহ্ন’ তার প্রিয় লেখা ছিল। আর নিজের লেখা বেশিরভাগই তিনি পছন্দ করতেন। কোনো কোনো লেখা পড়ে তিনি বলতেন যে, তার আরাম লাগছে। আবার বলতেন যে, এই লেখাটা কম ভালো। কিন্তু এটাও বলতেন, সময় নিয়ে লিখলে অমুক লেখাটা আরেকটু ভালো লিখতে পারতাম।

* যুগান্তর: ব্যক্তিগতভাবে তিনি কী ধরনের জীবনযাপন করতেন?

** মেহের আফরোজ শাওন: খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন। কষ্ট করে যে টাকা অর্জন করেছেন, তা দিয়ে তিনি জমিজমা কিনবেন বা ব্যাংকে জমিয়ে রাখবেন, এই আগ্রহ তার একদমই ছিল না। তিনি বলতেন, কী, ব্যাংকে দুই লাখ টাকা আছে? চলো তাহলে কোথাও বেড়াতে যাই। ব্যাংকে কিছু টাকা জমলেই তার অস্থির লাগতে শুরু করত।

তখন তিনি পুরো টাকাটা খরচ করার একটা পাঁয়তারা করতেন। হয়তো নুহাশপল্লীতে একটা মূর্তি বানালেন। মূর্তি বানাতে খরচ করলেন দেড় লাখ টাকা, ভাংতে খরচ করলেন দুই লাখ টাকা। হয়তো একটা গোল ঘর বানালেন। কয়দিন সেখানে হৈ হল্লা করলেন। হঠাৎ একদিন বললেন, কেমন যেন লাগছে। বিশ্রী। দামড়া সাইজ হইছে। এই আসো, ভাঙো এটা ভেঙে ফেলো।

* যুগান্তর: কাউকে চমকে দেয়া, মজা করা- এ ব্যাপারগুলো কি তার সহজাত ছিল?

** মেহের আফরোজ শাওন: সহজাত ব্যাপার ছিল। এগুলো তিনি মানুষকে অভিনয় করে দেখাতেন। গল্পে আনন্দের যে ব্যাপারগুলো, একজন পাগল কীভাবে হাঁটে, তিনি যখন ছোট ছিলেন, তখন তার বাবা কীভাবে হাঁটতেন, গল্প বলতে বলতে তিনি সেসব হেঁটে হেঁটে অভিনয় করে দেখাতেন। একটা কবিতা, সিলেটের মানুষ কীভাবে পড়তে পারেন- তিনি তা আবৃত্তি করে শোনাতেন। তার মধ্যে কোনো বিষয়ে জড়তা বা আড়ষ্টতা ছিল না।

* যুগান্তর: তার এমন কিছু গোপন দুঃখ ছিল, যা প্রকাশ করতেন না। কিন্তু আপনি বুঝতে পারতেন...

** মেহের আফরোজ শাওন: কিছু গোপন দুঃখ ছিল। যেমন তিনি তার বড় চার সন্তানকে খুব মিস করতেন। সন্তানদের সঙ্গে তার বারবার দেখা করার যে আকুতিটা, তিনি তাদের ফোন করে প্রকাশ করতেন। কখনও টেক্সট পাঠাতেন। এমনকি আমার কাছেও প্রকাশ করতেন। এটা জনসম্মুখে না বলা প্রবল দুঃখের একটি।

* যুগান্তর: স্বামী হিসেবে তো বটেই, এত বড় একজন শিল্পীর সঙ্গে জীবন কাটিয়েছেন, পেছন ফিরলে কী অনুভূতি হয়?

** মেহের আফরোজ শাওন: আজকের আমি যতটুকু আমি হতে পেরেছি, তার পেছনে দুজন মানুষের অবদান কখনই ফেলতে পারব না। সেই দুজন মানুষ হচ্ছেন আমার মা এবং হুমায়ূন আহমেদ। মা একা নন, আবার তিনিও একা নন।

আজকে আমি যেভাবে ভাবতে শিখেছি, চলতে শিখেছি- এখনও তার কাছ থেকে বুদ্ধি নিই। কোনো একটা সমস্যা হলে সেই পরিস্থিতিতে পড়লে তিনি কী করতেন, সেটা ভেবে আমি এখনও কাজ করি। বড় হওয়ার পর দুজন মানুষের সিদ্ধান্ত না নিয়ে আমি কোনো কাজ করিনি। মা ও তিনি। এখনও ঠেকে গেলে আমি তার কাছে হাত পাতি এবং সিদ্ধান্ত পেয়ে যাই।

* যুগান্তর: তিনি, এমন কোনো কথা বা কাজ শেষ করতে পারেননি, কিন্তু তার পরিকল্পনা ছিল...

** মেহের আফরোজ শাওন: আমাদের নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে পরিপূর্ণ একটি লেখা তিনি লিখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ করে যেতে পারেননি। শেষ করে যদি মারা যেতেন আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগত। আমি কখনও মনে করতে চাই না যে, আমি কেবল তার একজন স্ত্রী। কারণ আমি তার একজন বিশিষ্ট ভক্ত পাঠকও।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×