মাহসাতি গানজাভির দুটি কবিতা

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ভাবানুবাদ মঈনুস সুলতান

ফার্সি ভাষাবাসী সমাজে ‘মহিলা দরবেশ’ হিসেবে পরিচিত সুফি কবি মাহসাতি গানজাভি’র (কোন কোন সূত্রানুযায়ী মাহসাতি গানজাই বা গানজাভি) জন্ম ১০৮৯ সালে, হালজামানার আজারবাইজান রাষ্ট্রের গানজা এলাকার আরান শহরে। রুবাইয়াতের রচয়িতা হিসেবে সুফি মার্গের এ মহিলা কবি পয়লা জীবনে তুর্কি সেলজুক বংশের সুলতান সানজারের দরবারে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন সম্মানের আসনে। তবে পরবর্তী জীবনে শাসক- বিশেষ করে পুরুষতন্ত্র নির্ধারিত ধর্মীয় অনুশাসন, কুসংস্কার ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সাহসী অবস্থানের ফলশ্রুতিতে তিনি নিগৃহীত হন রাজদরবারে। শোনা যায় যে- কবি মাহসাতি গানজাভি’র যোগাযোগ ছিল কবি ওমর খৈয়াম (১০৮৮-১১৩২)-র সাথে। গানজা অঞ্চলের সুফি তরিকার যশস্বী কবি নিজামীও (১১৪১-১২০৯) অনুরাগি ছিলেন তার কাব্যকলার। তার কবিতাতে সে আমলে বলিষ্ঠভাবে উচ্চারিত হয়েছিল কুসংস্কার, সামাজিক কপটতা ও পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। একই সঙ্গে তিনি মহিমান্বিত করে তুলেছিলেন মানবিক ও আধ্যাত্মিক ভালোবাসাকে। তার কাব্যকলার ব্যাপক অংশ সংরক্ষণের অভাবে বিলুপ্ত হলেও ‘নজহাত আল মাজালিস’ নামে একটি গ্রন্থ কালের অবক্ষয়প্রবণ স্রোতের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে আছে আজ অব্দি। কবি মাহসাতি গানজাভি’র মৃত্যু ১১৫৯ সালে। ১৯৮০ সালে গানজা এলাকায় তার স্মৃতিতে স্থাপিত হয় একটি স্মৃতিমিনার।

এখানে কবি মাহসাতি গানজাভি’র দুটি কবিতার ভাবানুবাদ উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রথম কবিতাটি ফার্সি থেকে ইংরেজিতে যৌথভাবে অনুবাদ করেছেন ডেভিড ও সাবরিনা ফিডেলার। দ্বিতীয় কবিতাটির ফার্সি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন এডওয়ার্ড জি ব্রউন। পোয়েট্রি চারখানাসহ কয়েকটি ওয়েবসাইট থেকে কবিতাগুলো ও কবির জীবন সংক্রান্ত তথ্য অনুবাদের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

খুলে যায় সরণি অবশেষে

ভালোবাসার সাম্রাজ্যে আমার হৃদয় যখন তুলে নেয়

শাসনের গুরুভার,

মুক্ত হই আমি বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের নাগপাশ থেকে

স্পর্শ করি নীরবে নীলিমা অপার।

এ যাত্রায় কেবলমাত্র আমিত্বের উপাসনায়

দেখি সমস্যা শতেক,

পরিত্যাগ করে জাগতিক ভেক,

যখন আমি আমাকে অতিক্রম করে

চলে যাই- আমা হতে বহুদূরে,

তখনই খুলে যায় সব সরণি পরিশেষে

বাজে আমার ভেতরে মৌণতার রাগিনী সপ্তসুরে।

রত্নখনির ভালোবাসায় নিমগ্ন যারা

বর্ণালী পাথরের দ্যুতিতে দৃষ্টিহারা

মহর্ঘ রত্নখনির ভালোবাসায় নিমগ্ন যারা

বিপুল বিত্তের প্রহসনে নিঃস্ব,

তাদের জন্য সৃষ্টি হয়েছে অনিকেত এক বিশ্ব,

তবে চারণ কবিরা নির্বাচন করেন ভিন্ন এক ভুবন

যার প্রেক্ষাপটে স্থাপিত হবে তাদের সিংহাসন।

যে পাখি পান করেছে ভালোবাসার যাদুময় মদ

তার রাজ্য অনেক দূরে

কথিত বিশ্বরাজি অতিক্রম করে

ওখানে পৌঁছতে হয় অবজ্ঞা করে সব সম্পদ;

সে বাস করে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উপত্যকায়

ওখানে পৌঁছতে হয়

ছুড়ে ফেলে যশের কুশপুত্তলিকা পরিখায়।