সাক্ষাৎকার

পুরুষ নারীর নীরবতা শুনতে পায় না

প্যাট বার্কার

  মেজবাহ উদ্দীন ২১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একজন ইংরেজ লেখক ও ঔপন্যাসিক প্যাট বার্কার
একজন ইংরেজ লেখক ও ঔপন্যাসিক প্যাট বার্কার

প্যাট বার্কার একজন ইংরেজ লেখক ও ঔপন্যাসিক। ১৯৪৩ সালে জন্ম নেয়া বার্কারের প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে লেখা তৃতীয় বই ‘দ্য ঘোস্ট রোড’ ১৯৯৫ সালে বুকার জিতে নেয়।

এটির প্রেক্ষাপট ১৯১৭ সালের স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গের ক্রেগলকহার্ট যুদ্ধ হাসপাতাল, সেখানে এক আর্মি মনস্তত্ত্ববিদের গল্প বলা হয়। উইলিয়াম রিভার্স কীভাবে শেলাহত বন্দিদের সাহায্য করে।

নিউইয়র্ক টাইমস বুক রিভিউ মতে, এটি সে বছর প্রকাশিত সেরা চারটি উপন্যাসের একটি। এটি শিথিলভাবে সত্য ঘটনাকে অবলম্বন করে রচিত।

১৯৯৭ সালে গিলিস ম্যাককিননের পরিচালনায় এর চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। সেটি বিহাইন্ড দ্য লাইনস নামে আমেরিকায় মুক্তি পায় ১৯৯৮ সালে। সম্প্রতি প্যাট বার্কারের নতুন বই ‘দ্য সাইলেন্স অব দ্য গার্লস’ হাতে পেয়েছেন পাঠক, চৌদ্দতম উপন্যাস বের হওয়া উপলক্ষে বার্কারের কথা হয় গার্ডিয়ান এবং পেংগুইনের সঙ্গে।

প্রশ্ন: আমরা শুনেছি আপনার স্বামী আপনার প্রথম উপন্যাস ‘ইউনিয়ন স্ট্রিট’ ময়লার ঝুড়ি খেকে তুলে এনেছে?

প্যাট বার্কার: তিনি খুব, খুব সহায়ক ছিলেন।

প্রশ্ন: কম্পিউটারে বইটির অন্য সংস্করণ ছিল না?

প্যাট বার্কার: আমি কম্পিউটারে লিখছিলাম না।

প্রশ্ন: অর্থাৎ, বইটির সমাধি সেখানেই হতে পারত?

প্যাট বার্কার: এটা ছিল সমাধির খুব কাছাকাছি। এটা একটা অনেক বড় মুহূর্ত ছিল। এটাকে এখন খুব সামান্য সংকেত মনে হতে পারে; কিন্তু এটা ঐসব দিনে সামান্য ছিল না। তিনি জানতেন যে আমি খুব হতাশ বোধ করছি। কিন্তু আমি সবসময় আমার বই সম্পর্কে নৈরাশ্যবাদী মনের অধিকারী ছিলাম।

প্রশ্ন: আপনি ‘ইউনিয়ন স্ট্রিট’ এর আগে তিনটি উপন্যাস লিখেছেন। সব অপ্রকাশিত থেকে গিয়েছিল?

প্যাট বার্কার: একেবারে ঠিক। এটা আমার জন্য কঠিন ছিল, কারণ আমি সবসময় একটি সম্পূর্ণ জিনিস তৈরি করতে চেয়েছিলাম যাতে করে আমি পাঠক-সমালোচকদের কাছ থেকে কোনো নেতিবাচক ফোনকল অথবা কোনো প্রত্যাখ্যান নোট পেতে না হয়। তাই, লেখা প্রকাশের চেয়ে আমার মনোযোগ ছিল, আমি শুধু লিখব এবং লেখাটি শেষ করব।

প্রশ্ন: ‘ইউনিয়ন স্ট্রিট’ দিয়ে, আপনি অতীতের কণ্ঠস্বরের সঙ্গে জীবিত একটি বিশ্বের সম্পর্ক স্থাপন চেয়েছেন?

প্যাট বার্কার: আর তারা এখনও জীবিত। নির্দিষ্ট কোনো চরিত্র নয়, কিন্তু সে রকম মহিলা এখনও অনেক আছে। এটা বিরক্তিকরও: আপনি হয়তো শ্রমিক শ্রেণীর না হয়েও শ্রমিক শ্রেণীর চরিত্র লিখতে পারেন, তবে এটা আপনার লেখার ভ্রান্ত অর্থ করতে পারে।

আপনি আপনার ব্যক্তিত্বের খুব গভীর জায়গা থেকে এবং সম্ভবত আপনার পরিবারের মাধ্যমে আপনার সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছে এমন ব্যক্তিদের এবং যে ব্যক্তিরা আপনার ওপর খুব প্রভাব ফেলেছে সেগুলো থেকে আপনি লিখছেন।

প্রশ্ন: গ্রিকদের নিয়ে আপনার আগ্রহ কখন শুরু হয়েছিল?

প্যাট বার্কার: অনেক পড়ে। আমি প্রায় পাঁচ বছর আগে বলেছি। প্রকৃতপক্ষে, কেউ কেউ লক্ষ করেছেন যে লাইফ ক্লাসে একটি উত্তরণ রয়েছে যেখানে এলিনর ব্রুক ক্যাফে রয়্যালের বর্ণনা দিয়েছেন যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে কীভাবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি বর্ণনা দিয়েছেন, বুড়ো মানুষরা সব আতঙ্কিত ছিল, কারণ তারা মনে করেছিল যে, তাদের দিন শেষ হয়ে গেছে এবং তরুণরা সংবাদপত্রগুলোতে যা পড়েছিল তাতে এটা আরও প্রকট করে তুলেছিল এবং নারীরা একেবারে নীরব হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, এটা ইলিয়াডের শুরুর মতো ছিল। যখন অ্যাগমেমন এবং অ্যাকিলিস এই চমৎকার বক্তৃতা তৈরি করছে এবং তারা তাদের মেয়েদের কথা কিছুই বলেনি।

প্রশ্ন: সেই মহান ব্যক্তিত্বদের পেছনে আছে আরও কণ্ঠস্বর ...

প্যাট বার্কার: হ্যাঁ, তবে সেটা শোনা হচ্ছে না আমাদের।

প্রশ্ন: আপনি কখন এই কণ্ঠস্বরের খোঁজ পেলেন?

প্যাট বার্কার: আমি এইমাত্র ইলিয়ড পড়েছি এবং সেই নীরবতা দেখে অবাক হয়েছি। পুরুষের উচ্চারণ, নারীর সম্পূর্ণ নীরবতা নিয়ে এটা ঝগড়া করছে যেন। এটা মজার। আসলে আমার প্রতিবেশীদের মধ্যে একজন ছিলেন হোমার বিশেষজ্ঞ, তিনি বলেন, তিনি মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে মূল গ্রিক পড়ছিলেন। চৌদ্দ বছর বয়সী এক মেয়ে তিনি ক্লাসে বসেছিলেন, আর এই নীরবতা দ্বারা একেবারে বিরক্ত ছিলেন।

তার কাছে এটা ছিল শুধু পাতা থেকে পাতায় লাফিয়ে চলা। আমি নিশ্চিত যে পুরোপুরি চৌদ্দ বছর বয়সী সুন্দর একটি ছেলে যখন একই দৃশ্যটি পড়বে এবং তখন সে কোনো নীরবতা দেখবে না। পুরুষ নারীর নীরবতা শুনতে পায় না। তারা শুধু তাদের ঘ্যানঘ্যান সম্পর্কে অভিযোগ করে।

প্রশ্ন: কেন আপনি বর্ণনাকারী হিসেবে ব্রিসিসকে পছন্দ করেছেন?

প্যাট বার্কার: আসলে আমি এটাই চাইছিলাম, কারণ অন্য কিছু বাদ দিলেও একজন ক্রীতদাস থেকে রানী হওয়ার ব্যাপারটা অনেক নাটকীয়। এটা সম্ভবত চমৎকার হবে অন্য কোনো চরিত্রের জন্য যে তার পূর্ববর্তী জীবনে একজন ক্রীতদাস ছিল।

প্রশ্ন: বইটিতে নারীত্বের পরিসীমা প্রশস্ত

প্যাট বার্কার: বইয়ে বা ইলিয়ডে এমন কিছু ঘটে না, যা সমসাময়িক জগতে ঘটছে না- অস্ত্রের পরিবর্তন দিতে বা নিতে।

প্রশ্ন: আপনার ক্যারিয়ারে উপন্যাসবিদ হিসেবে আপনি ব্যাপক গবেষণা পরিচালনা করেছেন, যুদ্ধের প্রাথমিক ডকুমেন্টেশন হোক বা কবিতা। এ উপাদান আপনার কাজ সহজ করে তোলে?

প্যাট বার্কার: বিভিন্নভাবে লেখার অনেক বছর পর আমি বুঝতে পেরেছি যে, শ্র“তি লিখন ইতিহাস রচনার চেয়ে অনেক বেশি মুক্ত হয়। আপনি আদর্শগতভাবে ইতিহাসে কোনো কালবৈষম্য করতে পারবেন না। অন্যদিকে পৌরাণিক কাহিনীর স্বাধীনতা, দুষ্টু এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অচেনা হওয়ার স্বাধীনতাও খুব উদ্দীপক এবং স্বস্তির।

সূত্র : গার্ডিয়ান এবং পেংগুইন অনলাইন

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×