দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রিচার্ড ডকিন্স জাদরেল প্রকৃতি বিজ্ঞানী। তার প্রশিক্ষণ আর পেশাগত ক্ষেত্র প্রাণিবিজ্ঞান। ব্রিটিশ সরকারের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা পিতার সুবাদে তার জন্ম আফ্রিকায়। জীবজগতের দৃশ্যমান নানা রূপ আর বৈচিত্র্যের একটি বিকল্প ব্যাখ্যা হিসেবে মধ্য কৈশোরেই চার্লস ডারউইনের প্রস্তাবিত বিবর্তনতত্ত্বটি তাকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছিল। আর তাই উচ্চশিক্ষার বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন জীববিজ্ঞান। অক্সফোর্ডের ব্যালিওল কলেজে প্রাণিবিজ্ঞানে ১৯৬২ সালে স্নাতক এবং বিশ্বসেরা ইথোলজিস্ট ও জীববিজ্ঞানী নিকোলাস টিনবার্গেনের তত্ত্বাবধানে তিনি পিএইডি শেষ করেন ১৯৬৬ সালে।

চার্লস ডারউইনের পর এমন বাস্তব নিবিষ্ট ও আন্তরিক প্রকৃতি ও প্রাণিবিজ্ঞানী আর দেখা যায় না। প্রাণিজগতের সঙ্গে আজকের বিকশিত মানুষের সব স্বভাবের তুলনামূলক আলোচনায় তিনি সিদ্ধহস্ত। তিনি ইতিমধ্যে ‘সেলফিশ জিন’ বইটি দিয়ে বিজ্ঞান জগতে ঝড় তুলেছেন। এই সেলফিশ জিন নানা আলোচনা-সমালোচনার পর এখন সর্বত্র গৃহীত। এটা দিয়ে ডকিন্স অনেক সমস্যার সমাধান করেছেন। মার্কসবাদের মতো এই সেলফিশ জিন থিউরি দিয়েও এখন প্রায় সবকিছুকেই ব্যাখ্যা করা যায়। আমরা যদি প্রশ্ন করি প্রথম সামন্তীয় যুগে শিকারবৃত্তি থেকে যখন ব্যক্তিমালিকানা শুরু হয় তখন কী কারণে এলে এক ব্যক্তি ফসল নিজের গোলায় তোলা শুরু করল? উত্তর হবে সেলফিশ জিনের কারণে। এরপর বিরাট সামন্ত শাসকদের বিকাশ কী কারণে? উত্তর হবে সেলফিশ জিনের কারণে। আজকের যে ক্যাপিটালিজম তার পেছনে কী আছে? উত্তর হবে সেলফিশ জিন। গোটা দুনিয়ায় এত যে হত্যা, এত হানাহানি, এত ধ্বংস, এত প্রতিযোগিতা সবই জিনের প্রভাব। তারই পরবর্তী বই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। এই বইটিও প্রকৃতি বিজ্ঞান জগতের এক মাইলফলক। তিনি খুবই আন্তরিকভাবে দেখিয়েছেন মানুষ বা যে কোনো প্রাণীদের শরীরে কোষে কোষে লেখা আছে তার বিকাশের ইতিহাস। মানুষের ডিএনএ পরীক্ষা করে বলে দেয়া সম্ভব তার বংশগতি। জিন কীভাবে স্ট্রাকচারে পরিবর্তন আনে। এমন গুরুত্ববহ তেরটি অধ্যায় যুক্ত হয়েছে এই বইয়ে। তিনি দেখিয়েছেন আজকে যে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে অস্ত্র প্রতিযোগিতা তা আমাদের জিনেরই অবশ্যম্ভাবী গতি বৈ কিছু নয়। তিনি দেখান জঙ্গলে জঙ্গলে দুটি গাছের লম্বা হওয়ার প্রতিযোগিতা। ক্ষিপ্রগতির শিকারির হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে একই প্রজাতির দুই হরিণের মধ্যে দৌড়ের যে প্রতিযোগিতা এসবের সঙ্গে কেমন সাদৃশ্যপূর্ণ এই অস্ত্র প্রতিযোগিতা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মিসিং লিঙ্ক। কীভাবে বিবর্তনের ধাপে ধাপে মিসিং লিঙ্ক হয়ে যায়। বিবর্তনের পক্ষে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বই এটি। অন্য অধ্যায়ের মধ্যে রয়েছে, কুকুর, গরু আর বাঁধাকপি, ম্যাক্রোইভ্যাল্যুশনের দিকে মসৃণ পথ, নীরবতা এবং মন্থও সময়, আমাদের চোখের সামনেই, মিসিং লিঙ্ক? ডমসিং শব্দটি দিয়ে ঠিক কী বোঝাতে চাইছেন আপনি?, নিখোঁজ মানুষ? আর নিখোঁজ নয়..., আপনি নিজেই যে কাজটি করেছিলেন নয় মাসে, মহাদেশের আর্ক, আত্মীয়তার পারিবারিক বৃক্ষ, জীবনকে এভাবে দেখার মধ্যে একটি বিশালতা আছে, সংযুক্তি হিসেবে আছে ইতিহাস-অস্বীকারকারীদেরও দল নামের একটি গুরুত্ববহ লেখা। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ নামের মধ্যেই আসলে লুকায়িত যে আমরা কথায় কথায় বলি দুনিয়া একটা নাট্যশালা। আসলে বিবর্তনের কারণে প্রাণিজগতের যে পরিবর্তন আবার পরিবর্তন সত্ত্বেও প্রাণিজগতের স্বভাব ও চরিত্র যে এখনও প্রাণীদের প্রতিনিধি মানুষের প্রতিটি স্বভাবে কীভাবে কাজ করে সে নাটকীয়তা নিয়ে তিনি কাজ করেছেন এই বইয়ে। এই বইটির চমৎকার অনুবাদ করেছেন কাজী মাহবুব হাসান। তিনি ইতিমধ্যে রিচার্ড ডকিন্সের আরেকটি বই দ্য গড ডিল্যুশনের অনবদ্য অনুবাদ করেছেন। তিনি আরও অনুবাদ করেছেন জন বার্জারের ওয়েজ অব সিইং ও ক্যানেথ ক্লার্কেও ‘সভ্যতা : একটি ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি’ নামক বিখ্যাত বইটি।

সব্যসাচী পাঠক

দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ রিচার্ড ডকিন্স

অনুবাদক কাজী মাহবুব হাসান

প্রকাশক দিব্য প্রকাশ মূল্য ৮০০ টাকা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×