পুরস্কার বা স্বীকৃতি লেখক মনকে আনন্দ দেয় : রিজিয়া রহমান

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের একজন খ্যতনামা ঔপন্যাসিক রিজিয়া রহমান। ষাটের দশক থেকেই সাহিত্যের বিভিন্ন মাধ্যমে তার সফল বিচরণ। উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ‘ঘর ভাঙা ঘর’, ‘উত্তর পুরুষ’, ‘রক্তের অক্ষর’, ‘বং থেকে বাংলা’। ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৯ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য তাকে বাংলাদেশ সরকার ‘একুশে পদক’ সম্মাননা প্রদান করে। এ পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে যুগান্তরের মুখোমুখি হন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন -

  হাসান সাইদুল ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একুশে পদক সম্মাননা পেলেন, কেমন লাগছে?

: ভালো। খুব ভালো অনুভব করছি। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে কিছুদিন আগে মন্ত্রণালয়ের একজন সেক্রেটারি ফোন করে বললেন, ‘আপনাকে তো একুশে পদক দেয়া হচ্ছে। আপনি খুশি হয়েছেন কি? আমি বললাম পুরস্কারপ্রাপ্তি তো সব সময়ই আনন্দের।’ সত্যিই খুব ভালো লাগছে।

আপনার বয়স তো আশির কোঠায়। আপনি কি মনে করেন খুব দেরিতে আপনাকে এ সম্মাননা দেয়া হয়েছে?

: না, এমনটি মনে হচ্ছে না। আর পুরস্কার পাওয়া নিয়ে আমার তেমন আগ্রহ নেই। তবে পুরস্কার একজন লেখককে লেখার প্রতি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। আরও অনেক কিছু লেখালেখির জন্য মনে হয় কিছু বলে। আমার কাছে এমনটাই মনে হয়। তবে পুরস্কার তো পুরস্কারই। তাড়াতাড়ি আর দেরি বলতে কিছু নেই।

একজন সাহিত্যিকের পুরস্কারপ্রাপ্তি কতটা জরুরি বলে আপনি মনে করেন?

: ‘পুরস্কার পেতে হবে’- এ প্রথাকে আমি বিশ্বাস করি না। পুরস্কার পাওয়া না পাওয়া কোনো বিষয় নয়। যিনি লিখেন তিনি সব সময়ই লিখতে পারেন এবং লিখে যাবেন। পুরস্কার পেলে বেশি লিখবেন বা লিখবেন না এমনটা নয় কিন্তু। তবে পুরস্কার বা স্বীকৃতি লেখক মনকে আনন্দ দেয়। নিজের কাছে একটা সুখকর অনুভূতি আসে যে, ‘আমার লেখাকে স্বীকৃতিস্বরূপ কিছু একটা রাষ্ট্রকর্তৃক প্রদান করা হল।’ এমনটা ভাবতেও ভালো লাগে। তবে এমন ভাবতেই হবে তা কিন্তু নয়।

এ পুরস্কার কি কাউকে উৎসর্গ করেছেন বা কাউকে উৎসর্গ করতে চান?

: না, এমন ভাবিনি। আসলে একটি পুরস্কার আমার কাছে বিশেষ কিছু না। রাষ্ট্রকর্তৃক আমাকে পুরস্কার প্রদানের জন্য ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এতে আমি খুশি। তবে এ পুরস্কার না দিলেও আমার কোনো আক্ষেপ থাকত না। কারণ আমি লেখালেখি কিন্তু পুরস্কার পাওয়ার জন্য করিনি। আমার মন চেয়েছে। বিবেক নাড়া দিয়েছে তাই লিখেছি। শরীর ভালো থাকলে এখনও লিখতাম।

আমাদের দেশে একটি অভিযোগ আছে যে, শেষ জীবনে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এ বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

: শেষ বয়সে স্বীকৃতি বিষয়টি গুরুত্বের নয়। একজন লেখক প্রথম লেখা দিয়েই জনপ্রিয়তা পায় না। বা একজন লেখকের শুরুতেই তার পরিণতি অবস্থা তৈরি হয় না। লিখতে লিখতে একটা অবস্থায় এসে পৌঁছে। সবাই তাকে চিনতে শুরু করে। একজন মানুষ যে কোনো শুরুতেই অভিজ্ঞ হয়ে ওঠে না। লেখালেখির বেলাও তাই। শেষ বয়সে এসে স্বীকৃতি দেয়া বিষয়টি আমার কাছে মুখ্য নয়।

আপনি কি এখন লিখেন?

: না, আমি লিখতে পারি না। পড়তেও পারি না তেমন। চোখে কম দেখি। নিজের যত্ন নিতেই কষ্ট হয়। লেখার খুব আগ্রহ এখনও আছে। কিন্তু পারছি না।

মৃত্যুর আগে কেমন বাংলাদেশ দেখে যেতে চান?

: সুন্দর একটি বাংলাদেশ। সোনালী বাংলাদেশ। যেখানে মানুষে মানুষে হানাহানি থাকবে না। শত্রুতা থাকবে না। সবাই মিলে জনসেবায় ব্রত হবে- এমন একটি পরিবেশ দেখে যেতে চাই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×