সৃজনে নির্মাণে অস্তিত্বের অনুসন্ধান

  মতিন বৈরাগী ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সৃজনে নির্মাণে অস্তিত্বের অনুসন্ধান

আদর্শ রাষ্ট্র তার অধীন মানুষের কল্যাণ যেমন করবে তেমনি মানুষের মনোবল চরিত্রবল দেহবল ও নৈতিকবল স্বাধীনমুখিনতার দিকে প্রসারিত করতে অবদান রাখবে।

একনায়কতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র এবং গণতন্ত্র বিধির মধ্যে প্লাটো গণতন্ত্রকে খুব একটা পছন্দ না করলেও মনে করেছিলেন গণতন্ত্র কেন্দ্রের ক্ষমতাকে ঔচিত্যে সংরক্ষিত করবে তবে দাসরা ছিল তার বিবেচনার বাইরে। [দেব দেবীতে তার বিবেচনা দ্বিমুখী ছিল যা এখনও দৃষ্টিগোচর হয়] নাগরিকদের মতো নিয়মে সত্য ও সুন্দরে গড়ে উঠতে সুযোগ দেবে।

আবার অপছন্দ ছিল এ কারণে যে গণতন্ত্র নাগরিকের ভুল সিদ্ধান্ত দ্বারা ভুল রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচনের শিকার হতে পারে, অদক্ষ অযোগ্য স্বার্থপর এবং উগ্রাকাঙ্ক্ষার শাসককবলিত হয়ে রাষ্ট্রের অগ্রগতিকে প্রতারণাপূর্ণ অগ্রগতির নামে দুর্বল করে ফেলতে পারে। ফলে অস্তিত্বহীনতায় আক্রান্ত হতে পারে নাগরিক।

তবুও নানা তন্ত্রগুলো নানা সময়ে পৃথিবীতে ক্ষমতাবানরা প্রতিষ্ঠিত করে নিজেরাই নিজদের অধিকতর নিরাপদ করে নিতে পেরেছে। কারণ এর চেয়ে আর কোনো উন্নততন্ত্র সমাজতন্ত্র ছাড়া অস্তিত্বহীনতা থেকে মানুষকে অস্তিত্ববান করার তরিকা দিতে পারেনি।

কিন্তু সেই তন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাওয়া গেলেও তার প্রাথমিক শর্ত ব্যক্তির অস্তিত্ব নিরাপদ করাই যে অপরিহার্য ছিল সেটা বিলুপ্ত করে শাসনতন্ত্রের ক্ষমতা লোভি নেতা ও আমলার ভূত ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যতাকে সেকালের মতো অস্বীকার করে রাষ্ট্রস্বার্থ নামে গোষ্ঠীতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে এক স্বৈরতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনে প্রতিষ্ঠা দেয় এবং শাসকদের হিংসা, হিংস তা, আত্ম-অহং, ভিন্নমতে বিদ্বেষ, ব্যক্তিপ্রকাশে নির্মমতা ব্যক্তির বিকাশ রাষ্ট্রস্বার্থ নামে তার মনতুষ্টির চাকায় বেঁধে দিয়ে সেই শাসনতন্ত্রকেও কলঙ্কিত করে চলমান একনায়কতন্ত্রের উপমা হয়।

অবশ্য এর মধ্যেই জনগণের মনভোলানোর যেমন উপাদান ছিল আবার ক্ষমতাবানদেরও ক্ষমতাকে সংরক্ষণ শক্তিশালী নিশ্ছিদ্র করারও উপাদান আছে।

যদিও পরিপূর্ণ গণতন্ত্র কোথাও বিদ্যমান নেই, এবং বিদ্যমান থাকলে ক্ষমতাহীন মানুষের অস্তিত্বের একটা উপায় পাওয়া যেত এবং এর বিকাশের মধ্য দিয়ে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যতা নিয়ে বহুর স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সামাজিক শক্তিতে প্রবল হতে পারত। তেমনটি অনুপস্থিত ছিল বলে সমাজতন্ত্র সামাজিক মালিকানায় যথাযথ প্রতিষ্ঠিত না হয়ে গোষ্ঠীতন্ত্রে পরিণত হয়ে পুরনো বাড়িঘরের মতো ধসে পড়ে।

কিন্তু মুক্তির চিন্তা বিকাশের উন্মুখতা পূর্ব ও পরে এবং এখনো বিদ্যমান রয়ে গেছে। সমাজ প্রগতির নানা সংকট থেকে নানা দার্শনিক তত্ত্বের উদ্ভব ঘটেছে নানা ব্যবহারে তার কিছু টিকেছে অনেক কিছু হারিয়েছে এবং নতুনের উদ্ভব ঘটেছে। এ উদ্ভবের পেছনের কারণটি সর্বদাই মানুষের অস্তিত্বানুসন্ধান।

এ অস্তিত্বানুসন্ধান ভাবের নয় বরং বাস্তবের। অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে মানুষ যাতে সংকট সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করতে পারে এবং হয়ে উঠতে পারে অস্তিত্ব প্রসঙ্গে জ্ঞাত ও কর্মনির্ধারক তার দিশা তৈরি করা। কিন্তু তা একদিনে সম্ভব হয়নি, আজও যে হয়েছে তা বলার কোনো উপায় নেই।

মধ্যযুগে ইউরোপের পোপ অধ্যুষিত খ্রিস্টীয় জগতে যেমন ব্যক্তি মানুষের কোনো মূল্যই ছিল না তেমনি পাশ্চাত্যের ভাববাদী দর্শনেও ব্যক্তি মানুষের কোনো মূল্য ছিল না।

পুঁজিবাদী সমাজও ব্যক্তির অস্তিত্বকে স্বীকার করে না। ভাববাদী দর্শন মানুষের ভাবসত্তা ও আত্মিক [যা অতীন্দ্রিয়তার দিকে ঠেলে দেয়া এবং মানুষকে নিয়তিনির্ভর করা] অস্তিত্বে গুরুত্বই দিয়েছে। সে কেবল ভাব বিলাস। এর ফলে ক্ষমতাবানদের ক্ষমতা নিষ্কণ্টক থেকেছে। কেবল মার্ক্সীয় দর্শনে মানুষ পেয়েছিল বাস্তবের আদর্শ।

যা পরবর্তী কালে সমষ্টিবাদে প্রাধান্য পেয়ে মূল থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং মানুষ হারিয়েছে স্বাধীনতা। তবু দীর্ঘসময়ের মানবযাত্রা তার সমাজবদ্ধতার মধ্য দিয়ে কতগুলো রীতি-নীতি আদর্শ যার ধারক ভণ্ড সমাজ এবং যা রূপ পেয়েছে সংস্কৃতির কাঠামোর মধ্যে। সমাজ অবস্থানেই নির্ণীত হয়েছে সত্য, ন্যায়, নিয়ম ও রীতি।

০২

সমাজ এবং তার সংস্কৃতি একটা জমাটবদ্ধ জীবন-সংগ্রামের বহুমুখী ইতিহাস। শিল্প-সাহিত্য-কাব্য অর্থাৎ সব সংস্কৃতির কর্মকাণ্ড জীবনের দায় নিয়েই পরিচালিত হয়। আর এর সব গতিধারায় মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্নটি উৎস হয়ে আছে।

মানুষের আতঙ্ক, উদ্বেগ, আশা হতাশা, অপরাধবোধ, সসীমতা, একাকিত্ব, স্বাধীনতা, স্বাধীনতাহীনতা, প্রেম-প্রীতি-ভালোবাসা, লজ্জা-ঘৃণা ভয়, হিংসা, বিচ্ছিন্নতা বা অবস্থানচ্যুতি, মৃত্যুবোধ সবই মানব অস্তিত্বের অংশ। মানুষ তার অস্তিত্ব নির্ধারণের জন্য সেইকাল থেকে এইকালেও নানাভাবে এ সব সংকট মোকাবেলা করার জন্য প্রকাশ করেছে, বলেছে, লড়েছে, এবং ক্ষমতার অস্বীকৃত অস্তিত্ব কেন্দ্রের বিপরীত দিকে সংঘবদ্ধ থেকেছে।

এ লড়াই চলমান এবং সত্য হয়ে মানব জীবনে লাগাতার লেগে আছে। সঙ্গত কারণে মানুষের সব কর্ম যা মনে হয় ব্যক্তিগত তাও সামাজিক রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত। কারণ তার জন্ম মৃত্য সুখ স্বাচ্ছন্দ্য চিন্তা ও ক্রিয়া একটি সমাজে কোনো না কোনো রাজনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

আর এসব থেকে চিন্তার উৎসমুখগুলোর অনুসন্ধান ও উপরিকাঠামো তৈরির উপায়গুলোর অনুসন্ধান। কোনো তত্ত্বই অপ্রয়োজনীয় নয় এ কারণে যে ভালো পেতে হলে মন্দকে ভালোভাবে জানা দরকার। দুঃখকে জানতে পারলে দুঃখ নিবারণকেও জানা যায়। মন্দের অবস্থান নির্ণয় করা গেলে তার পরিমাণ পরিমাপ উদ্ভাবন এবং ভালোর নির্মাণ কৃতকৌশলগুলো নির্ধারণ করা যায়।

বৈজ্ঞানিক প্রমাণগুলোর উপাত্ত হাতে পাওয়ার প্রয়োজন। তবেই চিন্তক বা দার্শনিক অনুসন্ধানের সত্য মেলে। এ ভালো মন্দের চিন্তা আকাশ পতিত কোনো বিষয় নয় সম্পূর্ণ সামাজিক সংস্কৃতির পরিমণ্ডলের যা সুদীর্ঘকাল ধরে মানব সমাজ নির্মাণ করেছে সংঘ করেছে এবং নানা প্রকাশের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন ও বিবর্তনের ধারায় শক্তিশালী করেছে।

সংস্কৃতির কাঠামো থেকে একজন মানুষ চিন্তাসূত্রকে আবিষ্কার করে, প্রয়োজন অপ্রয়োজনকে নির্ণয় করে, নিজ চেতনাকে সমৃদ্ধ করে এবং ঠিক-বেঠিকের পরিমাপ করে।

সঙ্গত কারণে শিল্প-সাহিত্য চেতনাসমৃদ্ধির বিপরীত নয়, বরং ক্ষয়ে যাওয়া ছিঁড়ে যাওয়া সমাজের ন্যায়কেই পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রকাশ। নীৎসে বলেন, ‘শিল্প-সাহিত্যের দায় রয়েছে সত্য প্রকাশের এবং তা শক্তিশালী করার’। সঙ্গত যে দার্শনিকদের অস্তিত্ব প্রসঙ্গটি মৌলিক এবং বিস্তৃত। মানুষের কোনো কাজই জ্ঞাত বা অজ্ঞাত সূত্র থেকে অস্তিত্বহীন নয়। জীবনযাপন, নির্মাণ, শুদ্ধি ঋদ্ধি সবই ঘিরে থাকে অস্তিত্বের প্রশ্নে।

জন্ম থেকে মৃত্যাবধি এ অস্তিত্ব মৃত্যুর মধ্য দিয়েও মানুষ শূন্য করতে চায় না তাই তাকে আরেক অস্তিত্বের নির্মাণ করতে হয় মৃত্যু পরবর্তীর। আবার কেউ কেউ অস্তিত্বহীনতার সংকট উৎরাতে না পেরে অস্তিত্ব সংকটকে উপশমে নিতে চায় আত্মহননে। জগতের যাবতীয় বস্তুর যে অস্তিত্ব আছে এবং ব্যবহারিক রূপান্তরে সেই অস্তিত্বও রূপান্তরের অস্তিত্ব ধারণ করে, পাহাড় পর্বত, গাছপালা, জীবজন্তু, অস্তিত্ব আছে তবে দার্শনিক ভিত্তিতে এর অস্তিত্ব মানব অস্তিত্ব কাঠামোর মতো নয়, কারণ এগুলো বাস্তবসত্তার এবং এগুলো সমাজবদ্ধ ও পারস্পরিক সম্পর্ক ভিত্তিতে উপস্থিত নয়।

বাস্তব সত্তা রূপান্তরযোগ্য হলেও মানব সত্তার মুক্তি আকাক্সক্ষা রয়েছে এবং নিজের কাঙ্খার সুগঠিত রূপ সে কামনা করে। বস্তু মানব মনে প্রতিফলিত হয়ে তার অন্দরকে প্রকাশ করে মানব চেতনায়, আর মানুষ তার মনোজগতে বিভাসিতরূপ প্রকাশ করে তার ভাষায়। কাব্য শিল্প সেই ভাষার কাঠামোগত রূপান্তরিত প্রকাশ।

০৩.

অস্তিত্বাকাক্সক্ষা মানবজীবনে সেকাল থেকে একালেও সমানভাবে বহমান এবং পরবর্তীকালে জ্ঞানধারার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিল্পে-সাহিত্য যা মূলত ব্যক্তির প্রকাশ অস্তিত্ব সংরক্ষণে; প্রয়োগ লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। প্রাচীনকাল ও মধ্যযুগ বা প্রাগ-আধুনিক যুগের দার্শনিকরা এ অস্তিত্ব ভাববাদের গিরায় আটকে তৈরি করেছেন ‘সারধর্ম’ এবং আধুনিক সময়ের দার্শনিকরা বলেন আদি যুগ থেকেই অস্তিত্ব বা ‘এক্সিসট্যান্স’ প্রশ্নটি মানুষের সামনে রয়েছে। মানুষ যে বিশ্বকে জানতে গিয়ে প্রথমেই প্রশ্ন তুলেছে সে কে, এ তার অস্তিত্বের প্রশ্ন। এই বিশাল বস্তু প্রকৃতিতে সে কতটুকু, কতটুকু তার কতটুকুর সে অধীন।

এটাও অস্তিত্বের অবস্থান থেকে উদ্ভূত। সে যদি স্বাধীন কেউ হয় তা হলে অন্যের অধীন কেন? সে যদি সমভোগী হয় তা হলে অন্যের ভোগে তাকে সর্বত্যাগী হতে হয় কেন, সেও যদি একজন মানুষ সব মানুষের মতো তা হলে তাকে অন্য মানুষ বা অন্য মানুষের ক্ষমতার মধ্যে অধীনস্থ হতে হয় কেন?

নিজেকে জানার আজ্ঞা থেকেই বিশ্বকে জানার মধ্যে রয়েছে তার অস্তিত্ব। আর তা জানার অক্ষমতায় রয়েছে অন্যের অধীনতার নিয়ম। তাই অস্তিত্ব আকাশে বাতাসে হাওয়ায় খুঁজে পাওয়া যায় না খুঁজে পাওয়া যায় বেঁচে থাকার বাস্তবতার মধ্যে। অর্থহীন বেঁচে থাকার মধ্যে অস্তিত্বশীলতা থাকে না যদিও পুঁজিবাদী ব্যবস্থা একদলকে আস্তিত্বশীল ও বিপুল মানুষকে অস্তিত্বহীন করে রেখেছে।

আধুনিক কালের দার্শনিকদের মধ্যেও দুই ধারার অস্তিত্ববাদীর উপস্থিতি রয়েছে আস্তিক ও নাস্তিক। কিয়ের্কেগার্দ, য়্যাম্পার্স, গ্যাবরেল ও মার্সেল এঁদেরকে বলা হয় আস্তিক অস্তিত্ববাদী আর নীৎসে, জাঁপল সাত্র, ক্যামু-প্রমুখরা নাস্তিক অস্তিত্ববাদের প্রবক্তা। ক্যামু, সাত্র অস্তিত্ববাদ নিয়ে তাদের দর্শন তাদের সৃষ্টিতে সংযোজিত করেছেন। এবং দেখিয়েছেন অস্তিবাদ কোনো বস্তু বা বস্তু সামগ্রী নয় আসলে তা মনুষ্য পরিস্থিতির দর্শন।

যদিও সমাজের মানুষের সব প্রকাশেই অস্তিত্বের প্রকাশ আর এ প্রকাশকে অস্বীকার করে যেসব প্রকাশ আমরা আমাদের চারদিকে নিত্য উপস্থিত দেখি তা বিভ্রান্তির এবং শিল্প সাহিত্য শিল্পী সাহিত্যিক এ নামে শাসকের ক্ষমতার মোসাহেবির উপকরণ হয়ে বিনষ্ট করছে মানুষের অস্তিত্বের লড়াইকে।

এ সবে তাদের কিছু মিলছে কিন্তু যে সর্বনাশ তারা কাব্য-শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির নামে করছে এবং মানুষের চেতনাকে ক্ষমতাকেন্দ্রের অধীন করছে তা ন্যায় নয়, সত্যও নয়।

০৪

সমাজ মানুষের। একজন সৃজনশীল মানুষ তার অধীন, এই সমাজই তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়, তার প্রতি একজন লেখকের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। যদিও এ দায়িত্ব কর্তব্যবোধ ভালোভাবে জাগ্রত থাকে ব্যক্তির মধ্যে যখন রাজনীতি আগ্রাসী ক্ষমতার প্রতীক না হয়ে সুস্থ, সুন্দর ন্যায়ে বহমান থাকে।

সঙ্গত কারণে তার চর্চা সমাজে উপস্থিত থাকে তখনই যখন শাসন পদ্ধতি কাউকে অধীন নয় বরং প্রত্যেকে প্রত্যেকের অধীন এমন ব্যবস্থায় চলমান থাকে। কেবল রাষ্ট্রের তথাকথিত ধনভাণ্ডারের সমৃদ্ধি নয় ন্যায়ের সমৃদ্ধি, জীবন বোধের সমৃদ্ধিকে আদর্শ করে। তার জন্য সমাজ ও রাজনীতির পুনর্বিন্যাস দরকার।

স্বাস্থ্যপ্রদ শাসন দরকার যা অংশীদারিত্বমূলক এবং সেই ব্যবস্থাটি গড়ে উঠতে পারে গণতন্ত্র অধিকতর গণতন্ত্র এবং ক্রমান্বয়ে পূর্ণ গণতন্ত্রে, সংকোচনে নয়, ক্রমাগত সম্প্রসারণে। আর তার জন্য দরকার চেতনা জাগৃতির।

লেখক শিল্পী সাহিত্যিকরাই সেই দায়িত্ব পালন করে তাদের সৃজন কর্মের মধ্য দিয়ে। প্রকাশ করে জীবন সত্য। আগামীর সত্য এবং আলোকিত করে মানুষের আবদ্ধ চেতনা। আর দিনে দিনে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে চলমান সংস্কৃতি, মুক্তি ঘটে তার আধিপত্যবাদী সংস্কৃতির কামড় থেকে। কেবল দাসরাই প্রভুর মুখপানে তাকিয়ে থাকে যদি কিছু উচ্ছিষ্ট মেলে। বাস্তবে মানুষকে প্রতারণা করার কোনো অধিকার কোনো সৃজনশীল শিল্পী-কবি-সাহিত্যিক সংস্কৃতি কর্মীর নেই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×