ছোট বিশ্বের বড় জগতে বাস করি : কাজুও ইশিগুরো

  আকেল হায়দার ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছোট বিশ্বের বড় জগতে বাস করি : কাজুও ইশিগুরো
কাজুও ইশিগুরো

কাজুও ইশিগুরোর জন্ম ১৯৫৪ সালের ৮ নভেম্বর জাপানের নাগাসাকিতে। শৈশবেই তার পরিবার পাড়ি জমায় ইংল্যান্ডে এবং সেখানেই তাদের স্থায়ী বসবাস। ইংরেজি সাহিত্যে সমসাময়িক কাহিনীনির্ভর ঔপন্যাসিকদের মধ্যে ইশিগুরো অন্যতম।

সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৭ সালে ভূষিত হন নোবেল পুরস্কারে। যখন সাহিত্যে নোবেল বিজেতা হিসেবে কাজুও ইশিগুরোর নাম ঘোষিত হয়, সেই সময় টেলিফোনে তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন নোবেল প্রাইজ মিডিয়া কর্মী মি. এডাম স্মিথ। সেই সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ অনুবাদ করেছেন-

ইশিগুরো : হ্যালো মি. স্মিথ কেমন আছেন?

স্মিথ : বেশ ভালো। ফোন করার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। নোবেল পুরস্কারের জন্যও আপনাকে অনেক অভিনন্দন।

ইশিগুরো : আপনাকেও ধন্যবাদ। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে রেখেছি। হঠাৎ করে প্রেসের অনেকেই এসে রাস্তায় জটলা পাকিয়ে ফেলেছে, আমি বেশ বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম।

স্মিথ : হ্যাঁ, বুঝতে পারছি। অপ্রত্যাশিতভাবে হঠাৎ আপনার দিন পরিবর্তিত হয়ে গেল। এখন বলুন, প্রথম কীভাবে এ সুসংবাদটি পেলেন আর আপনার সে সময়কার অনুভূতি কী ছিল?

ইশিগুরো : আমি কিচেনে বসে এক বন্ধুর কাছে ই-মেইল লিখছিলাম তখনই ফোনটা বেজে উঠল। আমার সাহিত্য এজেন্টরা টিভিতে পুরস্কার ঘোষণার লাইভ নিউজ ফিড দেখছিল। আমার মনে হয় না এতটা তাদের প্রত্যাশায় ছিল। তারা শুধু এটা শোনার জন্য অপেক্ষা করছিল যে কে পাচ্ছে সাহিত্য এবারের নোবেল প্রাইজ। তার একটু পরই আমি একের পর এক ফোনকল রিসিভ করতে শুরু করলাম। আমি বারবার এটা নিশ্চিত হতে চাইছিলাম যে বিষয়টা গুজব, নাকি বানোয়াট, নাকি সত্যি। আসল সত্যটা কী! এর মধ্যেই বিবিসি থেকে আমার কাছে ফোন আসে তখনই বিষয়টা আমি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করি। সকাল তখন এগারোটা হবে। তারপর সবাই সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য রাস্তায় ভিড় করতে থাকে।

স্মিথ : এই পুরস্কার কি আপনাকে কোনোভাবে সীমাবদ্ধ করবে?

ইশিগুরো : আমি তা মনে করি না যে, এটা দীর্ঘদিন আমাকে আত্মমগ্ন করে রাখবে। বিষয়টি তা নয়। আমার মনে হয় না নোবেল পুরস্কারের চেয়ে অধিক সম্মানের কোনো পুরস্কার আছে। হয়তো এখানে রাজনীতি ও পক্ষপাতদুষ্টতার কিছু প্রভাব রয়েছে, তবু আমি মনে করি এটা সম্মানিত কয়েকটি জিনিসের মধ্যে একটি। তাই আমি মনে করি পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক বিচক্ষণতার বিষয়টি সুইডিশ একাডেমির প্রকৃত অবস্থানের প্রতিফলন থেকে এসেছে। আমি মনে করি নিজের জন্য এ পুরস্কার একটি বিশেষ অর্জন।

স্মিথ : ব্রিটেনে এ সময়টা বেশ মজার। এই মুহূর্তে পুরস্কারপ্রাপ্তি আপনার কাছে কি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে?

ইশিগুরো : ব্যাপারটা আমিও উপলব্ধি করেছি। আপনার ফোন রিসিভ করার আগ মুহূর্তে আমি প্রেসের জন্য একটি বিবৃতি লিখছিলাম আর ভাবছিলাম তিন লাইনের মধ্যে সব কথা কীভাবে বলা যায়? সময়টা আমার কাছে বেশ উপযুক্ত মনে হয়েছে, কেননা আমার বয়স এখন তেষট্টি। পশ্চিমা বিশ্বের কাছে আমাদের মূল্যবোধ বেশ অনিশ্চিত, আমি সেই সময়টা মনে করতে পারছি না। আপনি জানেন মূল্যবোধের ব্যাপারে নেতৃত্বের কাছে আমরা একটা বিশেষ সময়ের মধ্য দিয়ে দিন পার করছি। তাই আমি আশান্বিত হই এটা ভেবে যে এ মুহূর্তে নোবেল পুরস্কারের মতো কোনো বিষয় বিশ্বব্যাপী একটা ইতিবাচক মনোভাবের সৃষ্টি করবে। এ ধারাবাহিকতা কিছু ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে। যা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক কিছু বয়ে আনতে পারে।

স্মিথ : আমার মতে, আপনি সমসাময়িক যা লিখছেন তা একভাবে বিশ্বে আমাদের অবস্থানের কথা বিষয়বস্তু আকারে উঠে এসেছে। একে অন্যের সঙ্গে সংযোগ, গোটা বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সংযোগ ইত্যাদি আপনি বিশেষ করে উপস্থাপন করতে চান। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

ইশিগুরো : এ ব্যাপারে আমি আপনার সঙ্গে একমত। আমিও তাই মনে করি। যদি আমি সংকীর্ণভাবেও বলতে চাই তাহলে বলতে হবে আমার আগ্রহের বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হল একই ছোট বিশ্বে যেখানে আমরা অবস্থান করি যেখানে আমাদের একটি ব্যক্তিগত ক্ষেত্র রয়েছে যা খুঁজে বের করে সেটাকে ভালোবাসায় পরিপূর্ণ করার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিষয়টি অবশ্যম্ভাবীভাবে বৃহত্তর বিশ্বের সঙ্গে জড়িত। তাই আমি সবসময় এ বিষয়টা নিয়ে সচেষ্ট থাকতে চেয়েছি। আমরা একই সময়ে একটি ছোট বিশ্বের বড় জগতে বাস করি এবং খুব সহজে একে অন্যকে ভুলে যাই।

স্মিথ : ধন্যবাদ। মনে হয় আপনি একটু ভিন্নভাবে আগামী দিনের কথা বলতে চেয়েছেন।

ইশিগুরো : ঠিক তাই।

স্মিথ : এই মুহূর্তে, সাক্ষাৎকারের জন্য প্রেসের এই দীর্ঘ লাইনকে কীভাবে সামলাবেন? নোবেল পুরস্কার ঘোষিত হওয়ার পর প্লাবনের মতো আপনার প্রতি বিভিন্ন জনের এই দৃষ্টি আকর্ষণকে আপনি কীভাবে দেখছেন? সংক্ষেপে যদি বলেন!

ইশিগুরো : আমার প্রতি সবার এই আগ্রহকে আমি খুব ইতিবাচকভাবে দেখছি। যদিও ব্যাপারটা একটু বিরক্তিকর তবুও। আজ সকালে আমি যখন উঠি তখনও আমার ধারণা ছিল না যে এই দিনটা অন্য সব দিনের চেয়ে আলাদা কিছু হয়ে যাবে আমার কাছে। আমি মনে করি এটা একটি দারুণ ব্যাপার যে মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যম সাহিত্যে নোবেলপ্রাপ্তির বিষয়টিকে এত গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। কেউ যদি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করে আর যদি কেউ তাতে আগ্রহী না হয় তাহলে আমি খুব হতাশ হব। বিশ্বে ভয়াবহ কিছু একটা হতে চলেছে এটা যেন তারই ইঙ্গিত বহন করবে।

স্মিথ : সাহিত্য উদযাপন করার জন্য একটা চমৎকার দিনের প্রয়োজন।

ইশিগুরো : অবশ্যই, আমি মনে করি সাহিত্য একটি দারুণ বিষয় যা যে কোনো খারাপের মধ্যে একটি সুষম শক্তির সঞ্চার করতে পারে।

স্মিথ : দারুণ বলেছেন। অনেক ধন্যবাদ এবং ডিসেম্বরে, স্টকহোমে আপনাকে স্বাগত।

ইশিগুরো : হ্যাঁ। আমি সেই দিনটির অপেক্ষা করছি। আপনার সঙ্গে কথা বলে খুব ভালো লাগল।

স্মিথ : ধন্যবাদ।

ইশিগুরো : ভালো থাকুন সব সময়।

তথ্যসুত্র:

https://www.nobelprize.org/prizes/literature/2017/ishiguro/interview/

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×