কবিতা

শুধু অপেক্ষা

  নাসরীন নঈম ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চোখের কার্নিশ থেকে সরে যাচ্ছে রোদ

প্রিয় মৃত্তিকা নির্মিত মায়ের মুখ

সবুজে হলুদে মেশানো মায়া খেলা আর নেই।

সেই প্রাইমারি স্কুলের মাঠে এক পায়ে

নূপুর বেঁধে কুচকুচে কালো ঝাঁকড়া চুল দুলিয়ে

বদ্খত্ হজমীওয়ালা কোথায় যে গেল, দেখিনা তাকে আর।

এক পয়সার কয়লার গুঁড়ার মতো লোভনীয় বস্তু

জিহ্বার আগায় ছোঁয়ানো মাত্রই চোখে জল আসতো

কি মজা। আহ্ কি মজা- এরচেয়ে আর কিছু নেই পৃথিবীতে।

আওলাদ হোসেন লেনের পাগলার গেলাসি

আর মুচমুচে পরোটার বর্তন হাতে নিয়ে কাঠের বেঞ্চিতে বসতেন

কত বিখ্যাত সওদাগর নাট্যকার আর্কিটেক্ট গায়ক কবি

ফ্রকপরা দু’বেণী দোলানো কাঠের খড়ম পায়ে আমি

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতাম সবই।

জিন্দাবাহারে জুম্মনের দোকানে পুকুরের মতো লোহার কড়াইয়ে

ফুটন্ত তেলে ভাজা হতো আলুপুরি ডালপুরি সিঙাড়া

সবই তখন সুখাদ্য ছিল।

হেঁটে হেঁটে আপন মনে আর একটু এগিয়ে যেতাম

নয়া বাজারের মোড়ে ফলের দোকান-

বড় বড় আপেলের মতো মাখনা বেতফল

আর ডেউয়া দশ টাকা হলেই কেনা যেত সব

কিন্তু ঐ টাকাটা যে একদিনের পাঁচ সদস্যের খাওয়া খরচ।

ভাবতে ভাবতে শুকনো ঠোঁট থুথুতে ভিজিয়ে নিতাম।

আর একটু এগিয়ে গেলেই কাঠ চেরাইয়ের কারখানা

বড় বড় কাঠের টুকরোগুলো মেশিনের নিচে গিয়ে

একটা আকৃতি হতো আর নিচে খসখসে গুঁড়া পড়ে থাকতো।

হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ালাম-

আমার বাবা তো এভাবেই আমাকে ষোলো বছর বয়সে

করাত কলের নিচে ফেলে গুঁড়ো গুঁড়ো করে দিলেন,

তবু ফেব্রুয়ারি এলে তোমাকে খুবই মনে পড়ে বাবা।

তিন কুল দোয়া ইউনুস আর আয়তুল কুরসি পড়ি রোজ

দিনে রাতে সেজদায় যাই

তুমি ভালো থেকো বাবা

বড়ই সহজ সরল ছিলে যে।

আমার কোনো মনস্তাপ নেই এখন আর

শুধু অপেক্ষা তোমার সঙ্গে দেখা করবার।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×