গল্প

মুখোশের আড়ালে মুখটি

  আহমেদ উল্লাহ্ ০৩ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুখোশের আড়ালে মুখটি

অল্পক্ষণ আগে বাসা থেকে বেরিয়েছেন বাবা, ঢাকা মেডিকেল কলেজে যাওয়ার কথা। কিন্তু আপনি কে? আপনাকে তো আগে কখনও দেখিনি?

ঝাঁজালো কণ্ঠে মারজিয়ার মুখে এ কথা শুনে চুপসে গেল মাহাবুব; শ্লথ কণ্ঠে বিড়বিড় করল মাহাবুব- মা-হা বু-ব, মানে মাহাবুব চৌধুরী...

মারজিয়ার রাগ হওয়ারই কথা, যেখানে পশ্চিম রামপুরাজুড়ে মারজিয়ার বাবা আবদুল গাফফার ভূঁইয়াকে গাফফার ভূঁইয়া নামে সবাই চেনে ও জানে; কেউ ভূঁইয়া সাহেব, কেউ গাফফার ভূঁইয়া বলে ডাকে। আসল নামে ডাকুক বা না-ডাকুক, ভূঁইয়া শব্দটা থাকা চাই! নিজের চেয়ে বংশের মর্যাদাকে বড় চোখে দেখে আসছে ভূঁইয়া পরিবার।

বাড়িতে ঢুকেই ‘গাফফার সাহেব, গাফফার সাহেব’ বলে ডেকে চলেছে মাহাবুব। নামের অদ্যপ্রান্তে ভূঁইয়া শব্দটি সংযোজন না করায়, ভূঁইয়া সাহেবের মেয়ের প্রেস্টিজে কিছুটা ঘা লাগারই কথা।

নিজেকে সামনে নিয়ে মাহাবুব বলল, আমার নাম মাহাবুব চৌধুরী, গ্রিন রোডে থাকি। গাফফার সাহেবই আমাকে আসতে বলেছিলেন।

ভুরু কুঁচকে মারজিয়া শুধায়, বাবা আপনাকে আসতে বলেছেন?

হ্যাঁ, কথাশিল্পী আন্দালিব রাশদী স্যারের বাসায় ওনার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা ও কথা হয়। তখনই আমাকে আজকে মানে মাসের এই দিনে এখানে আসতে বলেছেন।

পেছন ফিরে ভেতরে ঢোকার সময় মারজিয়া বলে গেল, আসুন ভেতরে এসে বসুন, বাবা কখন ফিরবেন, কিছু বলে যাননি। অল্পক্ষণ দাঁড়িয়ে কত কি চিন্তা করতে করতে ভেতরে পা বাড়ায় মারজিয়া...

গাফফার ভূঁইয়া শৈশব থেকেই সংস্কৃতিমনা মানুষ। তিনি যেখানেই থাকতেন, সেখানকার খ্যাতনামা বাচিক শিল্পী, কবি-সাহিত্যিক, চিত্রকরগণের সঙ্গে একটা সুসম্পর্ক গড়ে উঠত। ঢাকায় আসার পরই মোটামুটি বাংলাদেশের বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, আর্টিস্টদের সঙ্গে বেশ ভালো সম্পর্ক বাঁধিয়েছেন। বিশেষ করে কথাসাহিত্যিক আন্দালিব রাশদীর সঙ্গে ওনার সম্পর্কটা বেশ মধুর। সময় পেলেই ওনার সঙ্গী হন, বর্তমান সাহিত্যের গতিবিধি নিয়ে জ্ঞানগর্বময় আলোচনায় অংশীদার হয়ে থাকেন।

গাফফার ভূঁইয়ার বড় ভাই জাব্বার ভূঁইয়ার দ্বিতীয় স্ট্রোকটা যে এত তাড়াতাড়ি পরপারে যাওয়ার রাস্তাটা এগিয়ে দেবে এটা কারও মাথায়ই আসেনি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ডাক্তার ঢাকা মেডিকেল কলেজে রিলিজ করতে বাধ্য হয়। এ খবর পেয়েই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে গিয়েছেন গাফফার ভূঁইয়া।

মাথাভাঙা এলাকায় সম্মান ও খ্যাতিতে ভূঁইয়া পরিবার শীর্ষে। গাফফার ভূঁইয়ার বাবা জুনমত আলী ভূঁইয়া পর্যায়ক্রমে পাঁচ পাঁচটি পুত্রের জনক হিসেবে নিজেকে বেশ গর্বিত মনে করতেন। ওরা সবাই কম বেশি পড়াশোনা করেছেন। ভূঁইয়া পরিবারের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়টা হল গাফফার ভূঁইয়ারা পাঁচ ভাই মুক্তিযোদ্ধা।

হঠাৎ ভেতর ঘরে উচ্চকিত কণ্ঠে কার সঙ্গে যেন কথা বলছে মারজিয়া। অপর ব্যক্তিটির কথা যেহেতু শোনা যাচ্ছে না, মাহাবুব মনে করল যে, হয়তো টেলিফোনে কথা বলছে মারজিয়া। মারজিয়া যে কিছুটা জেদি স্বভাবের মেয়ে, এটা ওর কথোপকথনেই বোঝা যাচ্ছে।

তিনতলা দালানের নিচতলার যে কক্ষটির সোফায় গিয়ে মাহাবুব বসেছে নিঃশব্দে ম্লানময় বিষণ্ণতায়, ওই রুমটি আসলেই বৈঠকঘর নয় বরং একটি সুসজ্জিত জলসাঘর বলে মনে হচ্ছে মাহাবুবের কাছে। মাসের শেষ বৃহস্পতিবার এ ঘরে কবিতা ও গানের আড্ডা বসে। দেশের কবি-সাহিত্যিক ও শিল্পী গীতিকারদের অনেকেই এসে যোগ দেন এখানে। এ উদ্দেশ্যেই এখানে আজ এসেছে মাহাবুব। কথাসাহিত্যিক আন্দালিব রাশদীও আসার কথা রয়েছে, তাই আরও আগ্রহের সঙ্গে মাহাবুব এসেছে।

বিষণ্ণ মনে জলসাঘরে এসে মেঝেতে বসে চুপ মেরে রইল মারজিয়া। কিছুটা নড়েচড়ে বসে মারজিয়ার দিকে তাকিয়ে মাহাবুব বলে, আপনাকে হঠাৎ বিষণ্ণ মনে হচ্ছে!

ভেতরের চাপা কান্নায় মারজিয়ার চোখ সিক্ত হয়ে আসছে অবাধে। বসা থেকে উঠে পাশের সিঙ্গেল সোফায় বসে ওড়নার আঁচলে চোখ মুছে কি বলতে গিয়েও থেমে গেল।

পাশের ঘরে আবারও মোবাইল বেজে ওঠায় বসা থেকে উঠে সেদিকে চলে গেল মারজিয়া। মাসিক অনুষ্ঠানটা আজ না হওয়ার ইঙ্গিত দেখে বেরোনোর জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠে মাহাবুব।

কথা শেষ করে মোবাইলটি হাতে নিয়ে জলসাঘরে ফিরে আসে মারজিয়া। অল্পক্ষণ চুপ মেরে থাকার পর মাহাবুবের দিকে তাকায় মারজিয়া। বলে, কিছু মনে করবেন না, আজ হয়তো বাসায় ফিরবেন না বাবা; জরুরি দরকারে আমাদের গ্রামের বাড়ি মাথাভাঙায় যেতে হচ্ছে ওনাকে।

যেহেতু আজ বাড়িতে অনুষ্ঠান হচ্ছে না, তাহলে আমি যেতে পারি কি?

দেখুন মনটা ভীষণ খারাপ! আপনাকে আপ্যায়ন করতে পারছি না। আসলে ব্যাপারটি হচ্ছে অল্পক্ষণ আগে আমার বাবা মারা গেছেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজে। ওনার লাশ নিয়ে ইতোমধ্যে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছেন বাবা।

ভুরু কুঁচকিয়ে বিস্ময়াবিভূত চোখে তাকিয়ে মাহাবুব বলে, আপনার বাবা মারা গেছেন মানে? আপনি তো এইমাত্র ফোনে আপনার বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন!

নিজের ওপর কিছুটা বিরক্ত হল মারজিয়া, কী বলতে গিয়ে কী বলে ফেললাম, ধ্যাৎ!

মারজিয়ার জীবন থেকে ওর বাবা জব্বার ভূঁইয়া তো বহু আগেই মারা গেছেন, শেষবার যখন মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল মারজিয়া তখন মফস্বল কলেজে পড়ত, ইন্টারমেডিয়েট। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে সীমাহীন গর্ব করত ও। মাথা উঁচু করে বলে বেড়াত- আমি মক্তিযোদ্ধার সন্তান, আমার বাপ-চাচারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। হিমাদ্রির সম উঁচু মাথাটা সেদিন লজ্জার বানে নুইয়ে পড়ল পায়ের তলে।

এলাকার সব মুক্তিযোদ্ধাই জানত যে, স্বাধীনতা যুদ্ধে গাফফার ভূঁইয়ার সব ভাইদের সক্রিয় মরণপণ অংশগ্রহণ থাকলেও জব্বার ভূঁইয়া মুক্তিবাহিনী সেজে গোপনে রাজাকারদের সঙ্গে মিশে পাকবাহিনীকে সহায়তা করে বেড়াত। মাঝে মধ্যে মুক্তিবাহিনীদের খাদ্যের ব্যবস্থা করতে গিয়ে এধার-ওধার টাকা-পয়সা চেয়ে আনত। ওদের খাদ্যের আয়োজন করতে গিয়ে লোক দেখানো সহায়তাও করত। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বেশ জাহির করত।

দেশবিরোধী তার আচরণ দেখে গাফফার ভূঁইয়া তখনই তাকে বেশ সতর্ক করেছিল। কিন্তু সে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই দাবি করত। বিজয়পুর গ্রামের সাহেব আলী প্রধানের বাড়িতে আগুন লাগানোর সময় সরাসরি পাকবাহিনীকে সহায়তা করেছিল জব্বার ভূঁইয়া। এলাকার বহু লোকজন এর প্রত্যক্ষ সাক্ষী। কিন্তু জব্বার ভূঁইয়া বরাবরই এ কথা অস্বীকার করত। কেবল তাই নয়, কীভাবে কার গোপন সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধার সনদ সংগ্রহ করে মুক্তিবাহিনীতে ওর নাম লেখানো হয়েছিল। কিন্তু অনেক মুক্তিযোদ্ধা এমনকি জব্বার ভূঁইয়ার পরিবারের লোকজনও জানত যে, সে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয়। কিন্তু আত্মসম্মানহানির ভয়ে মুখ খুলে কেউ কিছুই বলত না।

সর্বশেষ যাচাই-বাছাইকালে এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের একটি মহল যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে জব্বার ভূঁইয়ার ব্যাপারে সন্দেহের প্রশ্ন উত্থাপন করে বসেন।

বাছাই কমিটির লোকজন জব্বার ভূঁইয়াকে ডেকে দাঁড় করালেন সবার সামনে। জব্বার ভূঁইয়ার সহমুক্তিযোদ্ধাদের ডেকে যখন জানতে চাইলেন যে, যুদ্ধ চলাকালীন তিনি ওদের সঙ্গে ছিলেন কিনা?

উত্তরে ওরা বলল, হ্যাঁ, তিনি মাঝে সাঝে আমাদের সঙ্গে থাকতেন।

টপ করে জব্বার ভূঁইয়া বলে উঠলেন, আমি গুলিও করেছি।

যাচাই-বাছাই কমিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জব্বার ভূঁইয়ার চোখে চোখ রেখে বলেছিলেন, আপনি গুলিও করেছেন, বেশ ভালো! আপনি যে অস্ত্রটি ব্যবহার করতেন, ওটা কী ধরনের অস্ত্র ছিল? ওই হাতিয়ারটির নাম ছিল কী?

আমতা আমতা করতে থাকল জব্বার ভূঁইয়া, বলল, গ্রেনেড, গ্রেনেড দিয়ে আমি গুলি চালিয়েছিলাম।

এ কথা শুনে সবাই হতবাক, স্তব্ধ নির্বোধ হয়ে পড়ল। বাছাই কমিটির লোকজনসহ উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের মাথায়ও যেন বারবার গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটতে থাকল...

সমবেত লোকজনের মাঝে হাসি-ঠাট্টার গুঞ্জন সরবে ধ্বনিত হয়ে উঠল!

ভূঁইয়া পরিবারের মানসম্মান যেন নিমিষেই ধুলায় মিশে গেল। মুখ লুকানোর জায়গাও খুঁজে পাচ্ছিল না। কু-কথা বাতাসের আগে রটে। এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে- ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা জব্বার ভূঁইয়ার সত্য ঘটনা শেষ পর্যন্ত ফাঁস হয়ে গেল। লোকের মুখে মুখে রটে গেল- জব্বার ভূঁইয়া একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা... যে মারজিয়া নিজেকে গর্বিত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে মাথা উঁচু করে রাখত সবসময়, ওর মাথাটা আপনাআপনি নত হয়ে এলো। কয়েকদিন ঘর থেকে বেরোয়নি ও।

দেশের জন্য যুদ্ধ করা প্রত্যেক নাগরিকের মুখ্য কর্তব্য, যুদ্ধ না-করলেও কেউ রাষ্ট্রীয়ভাবে দোষী সাবস্ত হওয়ার বিধান এ দেশে নেই। কিন্তু রাষ্ট্রের বিরোধিতা করা কিংবা শত্রুপক্ষকে সহায়তা করা গুরুতর অপরাধ যেমনটা রাষ্ট্রের কাছে, তেমনটা বিবেকের কাছে।

জব্বার ভূঁইয়া শত্রুপক্ষের দোসর হিসেবে চরম অপরাধী হয়েও নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করা এবং অবশেষে তার মুখোশ উন্মোচন হওয়ার বিষয়টি ঔরসজাত সন্তান হয়েও মেনে নিতে পারেনি মারজিয়া। আপনাআপনি বাবার প্রতি ঘৃণা জেগে ওঠে মারজিয়ার মনে।

বন্ধু-বান্ধবীসহ সবাই ওকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে ডাকতে শুরু করেছে। লজ্জায় ওর প্রাণ বিসর্জন দিতে ইচ্ছে হয়। নিজেকে কিছুতেই মানিয়ে নিতে পারছে না। মারজিয়ার অন্য ভাই-বোনেরা ব্যাপারটিকে সহজে মেনে নিতে পারলেও, ও পারেনি।

লোকের কটুকাটব্য জাহান্নামের লেলিহান শিখা জ্বালিয়ে দেয় মারজিয়ার মনে। বাড়ি ছেড়ে কোথাও চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ও।

অবশেষে তা-ই হল- লজ্জার আগুন সহ্য করতে না পেরে একসময় সে বাড়ি ছেড়ে চলে গেল, বড় চাচা গাফফার ভূঁইয়ার বাসায়।

নিজের মুখোশ উন্মোচিত হওয়ার পর এলাকাবাসীর কাছে যতটুকু না লজ্জিত হয়েছে জব্বার ভূঁইয়া, নিজের ঔরসের মেয়েটি ঘৃণাভরে থুথু ছুড়ে চলে যাওয়ার যাতনাটুকু সহ্য করতে পারেনি ওনি। এর অল্পদিন পরই ওনি প্রাইমারি স্ট্রোক করেন!

বিষণ্ণ মনে ব্যাগ নিয়ে গাফফার ভূঁইয়ার বাসায় গিয়ে উঠল। বাড়িতে ঢোকার সময় ভেতর থেকে মারজিয়াকে দেখে গেটে এসে দাঁড়ালেন গাফফার ভূঁইয়া। না জানিয়ে হঠাৎ মারজিয়াকে এভাবে ঢাকায় চলে আসতে দেখে হতবিহ্বল হয়ে পড়লেন গাফফার ভূঁইয়া, মুচকি হেসে বলল, মারজিয়া, মা তুমি? এসো, ভেতরে এসো।

নিশ্চুপ ভেতরের ঘরে গিয়ে ব্যাগটি মেঝেতে রাখতেই অশ্রুসিক্ত হয়ে এলো মারজিয়ার চোখ। ওর কান্নার কারণ জানতে চাইলে ডুকরে কেঁদে ওঠে মারজিয়া, আর মুখ দেখাতে পারছি না চাচা। যে দেখে সে-ই বলে ওঠে- ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে। মুখ দেখাতে পারছি না আর। তাই মুখ লুকাতে আপনার এখানে চলে এলাম।

গাফফার ভূঁইয়ার হাসিমাখা চেহায়াও লজ্জায় বিবর্ণ হয়ে গেল! কী বলে মারজিয়াকে বোঝাবে ভেবে পাচ্ছেন না। তাকে কিছু বলার আগেই মারজিয়া বলে, এখন থেকে তুমিই আমার বাবা। তোমার সন্তান পরিচয়ে বেঁচে থাকতে চাই! জব্বার ভূঁইয়া মারা গেছেন। ওনি আমার পিতা নন।

জব্বার ভূঁইয়ার প্রাণবায়ু বের হয়ে যাওয়ার পর গাফফার ভূঁইয়া যখন মুঠোফোনে মৃত্যুর খবরটা মারজিয়াকে জানাতে গেলেন, তখনই তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে মারজিয়া, ওনি কত আগেই মারা গেছেন, ওনি সেদিনই আমার জীবন থেকে মরে গেছেন, যেদিন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিসে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বশেষ যাচাই-বাছাই হয়েছিল।

লজ্জার মাঝেও কিছুটা হাসির আভা ছড়িয়ে গাফফার ভূঁইয়া বললেন, তোকে তো মেয়ে হিসেবেই জানি, এ আর নতুন কী!

জব্বার ভূঁইয়ার নাম আমার জীবন থেকেই মুছে ফেলতে চাই! আমার জন্ম নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সব একাডেমিক সার্টিফিকেট থেকে ওনার নাম মুছে তোমার নাম বহাল করতে চাই। এতদসংক্রান্ত সরকারি দফতরে যোগাযোগ করে আমার পিতার নাম পরিবর্তনের যাবতীয় ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় আমি আত্মহত্যা করে মরব।

মারজিয়ার মাথায় হাত রেখে চুপ মেরে দাঁড়িয়ে থাকলেন গাফফার ভূঁইয়া। ঠিক আছে, তুই আগে খেয়েদেয়ে আরাম কর, পরে কথা হবে। তবে কি মা, কাগজে-কলমে পিতার নাম মুছে দিলেও মন থেকে মুছতে না-পারবি জব্বার ভূঁইয়ার নাম, না-পারবি ওই কলঙ্কময় ক্ষতের রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে!

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×